শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:১৭

টিউশনির বেতন

শফিক শাহরিয়ার

মফিজ অনেকের কাছ থেকেই টাকা ধার নিয়েছে। সময়মতো পরিশোধ করতে পারে না। অনেক ভাবনাচিন্তা করে টিউশনির বেতন সময়মতো পাওয়ার দুটি উপায় বের করল সে-

অনেকেই সময়মতো টিউশনির বেতন দেয় না। বেতন না পাওয়ায় মফিজ ভীষণ বিপাকে পড়েছে। হালখাতা করেই বুঝি টাকাগুলো উদ্ধার করতে হবে। কিন্তু পকেট শূন্য। তখন পকেট ছিঁড়তে ইচ্ছা করলেও ছেঁড়া কঠিন। কারণ, পকেটে কলম রাখতে হয়। তখন হালখাতা তো দূরের কথা, পকেটে হালখাতার কার্ড ছাপানোরও টাকা থাকে না। ম্যানিব্যাগ বাড়িতে রেখেই বাইরে যেতে হয়। বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা ধার করার কোনো সুযোগ নেই। অনেকের কাছ থেকেই টাকা ধার নিয়েছে। সময়মতো পরিশোধ করতে পারে না। মফিজ অনেক ভাবনাচিন্তা করে বেতন পাওয়ার দুটি উপায় বের করল-

 

উপায় এক

মাসের শুরুতেই অভিভাবকদের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হয়। অভিভাবকদের দেখলে দূর থেকেই আওয়াজ বাড়িয়ে সম্বোধন, বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ শুরু করতে পারেন। যেন তাদের বেতনের কথা অক্ষরে অক্ষরে স্মরণ থাকে। ধরুন, আগামী সপ্তাহে আপনার একটি ট্যুরে যেতে হবে। অনেক দূরে যেতে হবে। এখনো দিন, তারিখ ধার্য হয়নি। আপনাদের আগেই জানাচ্ছি। পরে বেতন চাইলে বলতে পারেন, আগে জানালে বেতন আরও আগে দিতাম। এক মাস আগেই ব্যাগপত্র গুছিয়ে রেখেছি। বাড়ি থেকে অনুমতিপত্র নিয়েছি। টিউশনির বেতন পেতেই যা দেরি। টিউশনির চাপে নড়তে পারি না। মানে কোথাও যেতে পারি না। প্রতিদিন পড়াতে পড়াতে একঘেঁয়েমি এসে যায়। একঘেঁয়েমি কাটানোর জন্য হলেও কয়েকটা দিন ছুটি প্রয়োজন।

 

উপায় দুই

অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও মন জয় করতে হয়। প্রথমে বলেছিলাম হালখাতার কথা। আপনি হালখাতা নিয়ে টেনশনে আছেন? এই টেনশন থেকে ফ্রি থাকারও উপায় আছে। পড়াতে গেলে শিক্ষার্থীদের কাছে হালখাতার কথা বলবেন। আসলে হালখাতা করতে হবে না। ওটা তো কথার কথা। শিক্ষার্থীদের কাছে বেশি বেশি আষাঢ়ে গপ্পো শোনাবেন। এ মাসের বেতন পেলে কী করবেন, তার পূর্ব পরিকল্পনা বানিয়ে বানিয়ে বলতে পারেন। বকেয়া বেতন না থাকলে চা চক্রের আয়োজন করতে পারেন।


আপনার মন্তব্য