বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ছিল না, এটি ছিল বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতা থেকে মুক্তির এক মহাকাব্যিক জাগরণ। এ জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বাংলা কবিতাও। কবিতা-গান ছিল সেই সময়ের প্রেরণার উৎস, প্রতিবাদের ভাষা এবং স্বাধীনতার অমোঘ অঙ্গীকারপত্র। কবিরা ছিলেন শব্দসৈনিক, যাঁদের কলম অসির মতোই শানিত হয়ে আঘাত করেছিল হানাদার বাহিনির বর্বরতার মূলে। এবং মুক্তিকামী মানুষকে জুগিয়েছিল অমিত সাহস। মূলত ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান- এই প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁকই বাঙালির মনে স্বাধীনতার বীজ বুনে দিয়েছিল। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত কবিতায় স্বাধিকার চেতনার প্রথম প্রজ্ব¡লন দেখা গিয়েছিল। হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত একুশে ফেব্রুয়ারি সংকলনে। ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা লিখেছিলেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী। কবিতার শিরোনাম ছিল ‘কাঁদতে আসেনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।’ একাত্তরে এসে তা চূড়ান্ত রূপলাভ করে। এসব কবিতা শুধু আবেগ প্রকাশের মাধ্যম থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক হাতিয়ার। বাংলা কবিতা শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, নির্যাতন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সহায়তা করেছিল। এবং মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণার শক্তি হিসেবে যুদ্ধকালীন এ কবিতাগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল অটুট রাখতে এবং মৃত্যুভয় তুচ্ছ করতে সাহস জুগিয়েছিল। সেই ইতিহাসের দলিলের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী কবিরা কবিতায় বর্বরতার বীভৎস ছবি এঁকেছেন এবং স্বাধীনতার মূল আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেছেন তাদের সহস্র পংক্তিমালায়। এ নিবন্ধে আমরা কবিদের বয়স বা সময়কাল ইত্যাদির বিচার না করে মুক্তিচেতনার কবিতায় তাদের সক্রিয়তা মোটা দাগে আলোচনা করব।
মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব কবি তাঁদের কবিতা, গান ও লেখা দিয়ে বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, শামসুর রাহমান, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, নির্মলেন্দু গুণ প্রমুখ। মূলত তিরিশের আধুনিকতার পরে নতুন বাঁক দেখা যায়। এবং চল্লিশের কবিদের অনেকে দেশভাগ ও সমাজ-সচেতনতাকে কবিতায় তুলে ধরেন। তাদের সতীর্থরা হলেন আবুল হোসেন, ফররুখ আহমদ, আহসান হাবীব, সৈয়দ আলী আহসান প্রমুখ। পঞ্চাশের দশক- এ সময়কালে ভাষা আন্দোলন ও পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে যাদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর শক্তিশালী হয় তাঁদের মধ্যে শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, সৈয়দ শামসুল হক, সিকদার আমিনুল হক, আবুবকর সিদ্দিক, আতাউর রহমান, শেখ আতাউর রহমান, হায়াৎ মামুদ, জুলফিকার মতিন প্রমুখ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ষাটের দশকের কবিরা তীব্র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা নিয়ে আবির্ভূত হন, যা মুক্তিযুদ্ধে বিশেষভাবে প্রেরণা জুগিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে আছেন রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ, আবদুল মান্নান সৈয়দ, মোহাম্মদ রফিক, মুহম্মদ নূরুল হুদা, আবুল হাসান, মহাদেব সাহা, আসাদ চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল ইসলাম, অসীম সাহা, আবু কায়সার, হুমায়ুন আজাদ, বেলাল মোহাম্মদ, হুময়ূন কবির প্রমুখ। সত্তর ও আশির দশকে স্বাধীনতা-পরবর্তী আশা-নিরাশা, স্বপ্নভঙ্গ ও দ্রোহের যে চেতনা-এই সময়ের কবিতায় তা প্রাধান্য পায়। এ সময়ের কবিদের মধ্যে দাউদ হায়দার, আবিদ আনোয়ার, হেলাল হাফিজ, মাকিদ হায়দার, মাশুক চৌধুরী, আবিদ আজাদ, ফারুক মাহমুদ, জাহিদ হায়দার, আসাদ মান্নান, হাসান হাফিজ, হাফিজুর রহমান, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আবু করিম, মোস্তফা মীর, জাহাঙ্গীরুল ইসলাম, ফরিদ কবির, আবু হাসান শাহরিয়ার, কামাল চৌধুরী, মাহমুদ কামাল, মাহমুদ হাসান, ইকবাল হাসান, ত্রিদির দস্তিদার, শারমীন আক্তার, জরিনা আকতার, তসলিমা নাসরিন, নাসিমা সুলতানা, দীপঙ্কর চক্রবতী, তপঙ্কর চক্রবর্তী, সৈয়দ আল ফারুক, ফজল মাহমুদ, মোহাম্মদ কামাল, আপেল আবদুল্লাহ, মজিদ মাহমুদ, মোহন রায়হান, কামাল মাহমুদ, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, শিহাব সরকার, জামিল রায়হান, আইউব সৈয়দ, মনজু রহমান, রেজাউদ্দিন স্টালিন, দারা মাহমুদ, তারিক-উল ইসলাম, শাহীন রেজা, ফরিদুল আজাদ মিলন, আযাদ কালাম, কামরুজ্জামান গোপন প্রমুখ। নব্বই ও সমকালীন দশকের কবিরা গদ্যছন্দে জীবনের জটিলতা এবং নতুন আঙ্গিকে কবিতার পরীক্ষামূলক ধারা তৈরি করেছেন। পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ আমাদের সমকালীন কবিতায় যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও তার চেতনাকে কাব্যকর্মে ধারণ করেছেন, তাঁরা হলেন ওবায়েদ আকাশ, মাসুদার রহমান, টোকন ঠাকুর, পিয়াস মজিদ, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ, হেনরী স্বপন, মাসুদ খান, জেনিস মাহমুদ, আহমাদ মাযহার, মামুন মুস্তাফা, মাসুদ হাসান, জুননু রাইন প্রমুখ। পরবর্তী কবিদের কবিতায় মুক্তিযুদ্ধের বিষয়বস্তু সাধারণত দুটো প্রধান ধারায় এসেছে। একটি চেতনা ও মননশীলতায় সরাসরি যুদ্ধের বর্ণনা না দিয়ে। অন্যটি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানুষের অধিকার- এ গভীর চেতনাকে ধারণ করে। তাই উত্তর-প্রজন্মের জিজ্ঞাসা-যে প্রজন্ম যুদ্ধ দেখেনি, তাদের চোখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেমন? সেই স্মৃতি ও জিজ্ঞাসা বা ইতিহাস-আশ্রিত আখ্যান কবিতার মূলবিষয় হয়ে উঠেছে। কবিতায় মুক্তিযুদ্ধের আবেগ, স্বপ্ন, হতাশা এবং বিজয়ের উল্লাস ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় মূর্ত হয়েছে। যে কারণে আমাদের কবিতা হয়েছে প্রতিবাদের ভাষা ও প্রেরণার মন্ত্র। আর মুক্তিযুদ্ধের কবিতায় কয়েকটি মূল বিষয়বস্তু বারবার ফিরে এসেছে এভাবে- ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তান বাহিনীর নির্মম গণহত্যা কবিদের স্তম্ভিত করলেও পরক্ষণেই কলমে জন্ম নেয় তীব্র প্রতিবাদ। এ পর্যায়ে বহুল পঠিত ও জনপ্রিয় কিছু কবিতা উল্লেখ না করলেই নয়। যেমন শামসুর রাহমান তাঁর ‘টেলেমেকাস’ ও ‘সন্ত্রাসবন্দি বুলেটবিদ্ধ দিনরাত্রি’ কবিতায় অবরুদ্ধ ঢাকার অসহায়ত্ব, আতঙ্ক এবং দখলদার বাহিনীর বর্বরতার চিত্র তুলে ধরেন। গণহত্যার বীভৎসতার প্রতিবাদে তিনি লেখেন, ‘কখনো নিঝুম পথে হঠাৎ লুটিয়ে পড়ে কেউ গুলির আঘাতে/মনে হয় ওরা গুলিবিদ্ধ করে স্বাধীনতাকেই।’ অন্যদিকে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ এবং ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’ কবিতায় যুদ্ধের বিভীষিকা, ধর্ষণ ও হত্যার নির্মম দৃশ্যকল্প অত্যন্ত বাস্তবতার সঙ্গে উঠে এসেছে। রুদ্রর অনেক কবিতায় স্বাধীনতা শব্দটিই ছিল প্রধান উপজীব্য। কবিরা স্বাধীনতাকে শুধু একটি ভূখণ্ড বা পতাকা হিসেবে দেখেননি, বরং একে দেখিয়েছেন মানবিক মূল্যবোধ, শ্রেণিহীন সমাজ এবং শোষণমুক্ত জীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে। এ ছাড়া কবি শামসুর রাহমান সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কবিতায় উজ্জীবিত করেন, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’ কবিতা ছাড়াও স্বাধীনতাকেই গুলিবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। আবার নির্মলেন্দু গুণ-এর ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল’ আর হেলাল হাফিজ-এর ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি যৌবনের শক্তিকে সংগ্রামের পথে আহ্বান জানায়, ‘এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/ এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’- পঙ্ক্তি দুটি মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ে যুদ্ধের অগ্নিমন্ত্র জাগিয়ে তুলেছিল। এটি তারুণ্যকে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য সরাসরি আহ্বান জানায়। যুদ্ধ শুধু রণক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা আঘাত হেনেছিল সাধারণ মানুষের জীবনে। মুক্তিযুদ্ধের কবিতা কেবল ঐতিহাসিক দলিল নয়, এটি বাঙালির জাতিসত্তা ও চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলা কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ তাই শুধু একটি বিষয়বস্তু নয়, বরং এটি বাঙালির সাহস, আত্মত্যাগ এবং বিজয়ের এক চিরন্তন গাথা। মুক্তিযুদ্ধের কবিতা ছিল মূলত প্রতিবাদী ও সংগ্রামী চেতনার প্রতিচ্ছবি। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের কবিতা অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা জুগিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আগের বছরগুলোতে রচিত কবিতাগুলো বীর বাঙালির প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করেছে।
এ সময়ের কবিতায় পরাধীনতার যন্ত্রণা, জাতীয় জীবনের প্রতিচ্ছবি এবং মুক্তিকামী জনগণের একতাবদ্ধ করার আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আগুনঝরা সময়কে কেন্দ্র করে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও শান্তি-সুখের ভবিষ্যৎ নিয়েও কবিতা লিখেছেন অনেক কবি। এসব কবিতায় মূল উপজীব্য স্বদেশ প্রেম ও মানবতাবোধ। স্বদেশের এই স্বাধীনতা মানুষের সার্বিক মুক্তির সঙ্গে একাকার হয়ে আছে কবিতায়। এক্ষেত্রে রফিক আজাদের ‘নেবে স্বাধীনতা’, খালেদা এদিব চৌধুরীর ‘চিরকাল স্বাধীনতা, স্বাধীনতা কোমল পাথর’, হায়াৎ সাইফের ‘স্বাধীনতা’, হাবীবুল্লাহ সিরাজীর ‘প্রিয় স্বাধীনতা’, মাহবুব হাসানের ‘বিজয় আমার স্বাধীনতা’, আনওয়ার আহমেদের ‘স্বাধীনতা নিরেট গদ্য’, কামাল চৌধুরীর ‘সেই মুখখানি স্বাধীনতা প্রিয় ছিল’, মিনার মনসুরের ‘প্রিয় স্বাধীনতা’, মোহন রায়হানের ‘ফিরে দাও সেই স্টেনগান’, আলী জহিরের ‘স্বাধীনতার অমর জ্যোতি’, জাহিদ মোস্তফার ‘স্বাধীনতা প্রাণের অধিক’, গোলাম কিবরিয়া পিনুর ‘এই স্বাধীনতা’, সৈয়দ হায়দারের ‘কেন মুক্তিযুদ্ধ’, আবিদ আনোয়ারের ‘প্রতিশোধ’, আবিদ আজাদের, ‘এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি’, দাউদ হায়দারের, ‘বাংলাদেশ’, জাহিদ হায়দারের, ‘স্বাধীনতার সুগন্ধ তোমার শরীরে’, হাসান হাফিজের ‘শুধু বাংলাদেশ’, ইকবাল আজিজের, ‘বেঁচে থাকার রূপকথা’, প্রভৃতি কবিতায় স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রাম উজ্জ্বলভাবে উদ্ভাসিত। প্রার্থিত স্বাধীনতাকে একেকজন কবি একেক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন; কিন্তু এখানে সর্বত্রই স্বদেশ প্রেমের তপ্ত আবেগ পরিস্ফুটিত। একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতার জন্য এ ভূ-খণ্ডের মানুষদের আর কোনো অর্জনে এত রক্ত দিতে হয়নি। এত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতার জন্য কবিতায় যে উদাত্ত আহ্বান, তা চিরকালীন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা নির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের কবিতায় সবশ্রেণির কবিরা সার্থকভাবে সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ধারণ করতে পেরেছিলেন। বীরত্বগাথা বা মহাকাব্য রচিত না হলেও কবিতায় কবিদের ব্যক্তিগত উপলব্ধি এবং জাতীয় জীবনের প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে কবিরা ছিলেন শব্দসৈনিক, যারা বন্দুকের বদলে ‘স্বপ্নের তলোয়ার’ চালিয়েছিলেন। কবি জসীমউদ্দীন বিদেশে যুদ্ধের কবিতা প্রকাশ ও বিতরণ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বের জনমত গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। দেশের কবিরা শুধু ঘটনার বিবরণ দেননি, তাঁরা কবিতাকেই স্বাধীনতা-যুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও অস্ত্র করে তুলেছিলেন। এটি ছিল বাঙালির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে কবিতা ছিল এক স্বতন্ত্র ও যথার্থ কণ্ঠধ্বনির আপসহীন কাব্য নিদর্শন। এ লড়াই যেমন সহজ নয়, তেমনই কখনো কখনো নিজেকেও ক্ষতবিক্ষত করবে। তবু তারই মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চিরকালীন মানবিক মুখ তার চূড়ান্ত জয় ছিনিয়ে নেবে। রাত্রির গভীর বৃন্ত থেকে ফুটন্ত সকাল ছিঁড়ে আনার মতো করে। আমরা জানি- এখনো স্বাধীনতার চেতনার পূর্ণ অর্জন হয়নি। এই চেতনাই বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কবিরা অনুপ্রেরণা হিসেবে সামনে এগিয়ে নেবেন। আর আমরা বেলাল চৌধুরীর ভাষায় মর্মে মর্মে মানুষের স্বাধীনতা একটি বোধের উন্মোচন;/চেতনাবিকাশে সত্তার নব জাগরণ, চির শাশ্বত অম্লান।’ এই চিন্তা মানুষের একটি বোধের উন্মোচনে ব্যক্তিসত্তাকে নবজাগরণে উন্মোচিত করবে। আর সমাজ, রাষ্ট্র তথা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিরসত্যের ব্যঞ্জনাময় আবেগে আমরা প্রভাবিত হবো অর্জিত স্বাধীনতায় এবং বিশ্বকবিতার সঙ্গে সংগ্রামী-সাহসী হয়ে উঠবে আমাদের কবিতা। অনাগতকালের পাঠকরা পাবেন আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রেরণামন্ত্র- এ হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।