কোথায় গিয়ে দাঁড়াব এই সজীবতা ছেড়ে
যে বটবৃক্ষ ছায়াতরু মেলে ধরেছে মাতৃস্নেহের সুধারস
অঞ্জলি ভরে যে নদীমুখ শোনায় জলজ বাণী
ঘাসেদের মৃদুস্বরে প্রলম্বিত সবুজাভ সরোদ বাদন
আমাকে বিমোহিত করে মা-মাতৃভূমি, মাটি ও মানুষ...
স্বদেশী বর্ণমালা, প্রমিত উচ্চারণ গুমোটেও ঝংকার তুলে
একে একে মূর্ছিত করে স্বরতন্ত্রীয় কোকিলের গান
মেহগনি কাঠের বেড়া টপকে সজীব নিশিগন্ধা ফুলে
দেখি কলাগাছের কম্পিত শিরশির নির্ভার দোলাচল
এইসব ফেলে আমি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারি আজ।
রূপসী বাঙলার চিরসবুজ পাতার মতো দৃশ্যাবলি ছেড়ে
বল, বল আর কোথায় গিয়ে
নিতে পারি স্বদেশ মৃত্তিকার চিন্ময় ঘ্রাণ?
আর কোথায় দিতে পারি নিসর্গজ ভাষণ।
কোথায় গিয়ে দাঁড়াব এই অরণ্য তরুবীথি ছেড়ে
ভোরের পাখির কলরব গায়ে মেখে গ্রামের পর গ্রাম
নগরের ফটক ছুঁয়ে চিরচেনা বাঙলার দোয়েল
সিঁদুরে লাল মৌরসি ফিঙেদের আকাশে অবাধ বিচরণ
কদম্ব কেয়াপাতা হিজলতলী গ্রামের মেঠোপথ
রাখালের নিজস্ব কথামালায় বাউলের সুর
আর কোথায় পেতে পারি বহুবর্ণ ধর্মাচরণ,
প্রীতি-সম্মিলন।
যে কবিতা আগলে রেখেছি মস্তিষ্কের দেরাজে
উঁকি দেয় যে পঙ্ক্তিমালা, পুঁইশাকের মতো লাফিয়ে ওঠে
যে একগুচ্ছ শুভ্র মেঘের পলকের মতো সরল সংলাপ
গায়েও রৌদ্রস্নাত বাঙলার চেতনায় বর্ধিত মোহনচূড়া
এই রাঙিয়ে তোলা হৃদস্পন্দন নেপথ্যে ফেলে
কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারি আমি আজ কবিতার মতো?
মা-মাতৃভূমি, বাংলা ভাষা, সবুজদেহী বাংলাদেশ
আর কোথায় গিয়ে নিতে পারি এই বিশুদ্ধ মাটির ঘ্রাণ?