বলাকা প্রকাশন চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত জামাল উদ্দিন প্রণীত ‘বাংলা সাহিত্যের সেকাল-একাল : চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার’ গ্রন্থটি অনুসন্ধান সমৃদ্ধ প্রয়াস। এই প্রয়াস সুদূর অতীতের সঙ্গে ভাষা-সাহিত্য-ইতিহাস-সংস্কৃতির বর্তমানের প্রবহমান ধারার সংযোগ সূত্র রচনা করে। কাল ও সময়ের বিবর্তনের পথরেখায় যে বাঁকগুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকে মূলত সেগুলোই উৎকর্ষের অলঙ্করণ। এ গ্রন্থে এগুলোকেই অধিকতর আলোকপাত করা হয়েছে। সাতটি অধ্যায়ে প্রাচীন চর্যাপদ থেকে শুরু করে একাল পর্যন্ত হালনাগাদে যেসব তথ্য-উপাত্ত উপকরণ উদ্ধার হয়েছে, তাতে হরিকেল রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পণ্ডিত বিহারের মতো জ্ঞান আলোকে উদ্ভাসিত কেন্দ্রগুলোর সৃষ্টিশীল সন্ধান পাওয়া যায়। এ ছাড়াও চট্টগ্রামের ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি, কালের পরিক্রমায় বিবর্তন ও সংমিশ্রণের রসে মধুরিমায় যেভাবে সিক্ত হয়েছে, তা-ও লেখক উপস্থাপন করেছেন। তাই গ্রন্থটি চর্যাকার, লেখক, সাহিত্যিক, কবি, গীতিকবিসহ তাবৎ মানসসম্পদের চরিতাবিধানই নয়, এক প্রাচীন জনপদের ভৌগোলিক রেখাচিত্রকেও স্পষ্ট করে। একটি ভৌগোলিক সীমায় সৃষ্টির প্রবহমান ফল্গুধারার রেখাপথে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঐতিহ্যের উপাদান একটি সভ্যতার ভিত্তি সোপান। জামাল উদ্দিন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একটি বিশাল জনপদের সেকাল-একালের সেতুবন্ধ রচনায় বিবর্তনের ধাপগুলোকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং পরম্পরায় গ্রন্থিত করেছেন। আরও স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে- ঐতিহ্যই আমাদের শেকড়ের দিকে টেনে নিয়ে যায়; শেকড়চ্যুত হলে ঐতিহ্য বলতে কিছুই থাকে না। যারা ঐতিহ্য হারায়, তারা পরজীবী পরগাছা ছাড়া আর কিছু নয়- এটাই অমোঘ ও নিখাদ সত্য।
-প্রদীপ খাস্তগীর