সম্প্রতি হাতে পেলাম ওবায়েদ উল স্মারকগ্রন্থ। চলচ্চিত্রকার, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ওবায়েদ উল হক ব্যক্তিগত আচার-আচরণে ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র, নম্র এবং বিনয়ী। পাশাপাশি ছিলেন দুঃসাহসীও। তেতাল্লিশের মন্বন্তরের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় লিখেছিলেন ‘দুঃখে যাদের জীবন গড়া’ গল্পটি। প্রকাশিত ওই গল্পটির চিত্রনাট্য লিখে চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্যোগী হন তিনি। সাতচল্লিশের দেশভাগে তাঁকে চলে আসতে হয় ঢাকায়। যুক্ত হন সাংবাদিকতায়। চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় বাংলাদেশ অবজারভারের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মনেপ্রাণে ছিলেন নির্ভেজাল বাঙালি। জাতির সাংস্কৃতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত উজ্জ্বল। তাঁর স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষার কেন্দ্রে ছিল অসাম্প্রদায়িক সমাজ ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কত মানুষের জীবনকে যে তিনি কতভাবে স্পর্শ ও অনুপ্রাণিত করেছেন, তার কিছু প্রমাণ পাওয়া যাবে স্মারকগ্রন্থের লেখাগুলোতে। অধিকাংশ লেখাই রচিত হয়েছে তাঁর প্রস্থানের পরে। তাঁর জন্মদিনেও শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন কেউ কেউ। সাক্ষাৎকারও গ্রহণ করেছেন। এই গ্রন্থের লেখকরা প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র এবং তাঁরা তাঁকে দেখেছেন নিজের মতো করেই। সামনে চলে এসেছে এই সত্য যে, মানুষটি ছিলেন বহুমুখী; এবং যেদিক থেকেই দেখা যাক না কেন, ছিলেন অসামান্য। যাঁরা লিখেছেন, তাঁদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে আমাদের ছেড়ে গেছেন। অমরলোকের যাত্রী হয়েছেন। স্মারকগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য লেখকরা হলেন- শামসুর রাহমান, সুভাষ দত্ত, সৈয়দ শামসুল হক, ফজল শাহাবুদ্দীন, তারেক মাসুদ, কামাল লোহানী, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন, চাষী নজরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, করুণাময় গোস্বামী, মনজুরে মাওলা, আহমদ জামান চৌধুরী, সালেহ চৌধুরী, মহিউদ্দিন আহমদ, রিয়াজউদ্দিন আহমদ, আসাদুল হক, রায়হান এম চৌধুরী প্রমুখ। গ্রন্থের রচনাগুলো পাঁচ পর্বে সাজানো হয়েছে। স্মরণ ও শ্রদ্ধা; ইংরেজিতে লেখা, আপনজনের শ্রদ্ধাঞ্জলি, সাক্ষাৎকার এবং তাঁর নিজের লেখা। স্মারকগ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সুন্দর প্রচ্ছদ করেছেন আহমেদ শামসুদ্দোহা। প্রকাশ করেছে অন্যপ্রকাশ।
-প্রত্যয় জসীম