শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৩৭

এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম টেক ফেস্টে রানার্সআপ

শাবির টিম বাংলাদেশের চমক

জুবায়ের মাহমুদ, শাবি প্রতিনিধি

শাবির টিম বাংলাদেশের চমক

গত ১৫ থেকে ১৭ মার্চ ভারতের উত্তরাখন্ডে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) রুর্কির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম টেক ফেস্ট ‘কগনিজেন্স’। এই টেক ফেস্টে ‘সাইবর্গ ব্রেক ইন’ কনটেস্টে অংশগ্রহণ করতে ভারত গিয়েছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স টিম ‘টিম বাংলাদেশ’। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং ইন্ডিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের সঙ্গে তুমুল প্রতিযোগিতা করে ‘টিম বাংলাদেশ’ ওঠে ফাইনাল রাউন্ডে। হয় রানার্সআপ। টিমের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন শাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ এবং তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইইই বিভাগের শিক্ষক জীবেশ কান্তি সাহা ও সিএসই বিভাগের শিক্ষক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী।

‘টিম বাংলাদেশ’

‘টিম বাংলাদেশ’ সবার কাছে পরিচিত ছিল ‘সাস্ট ক্র্যাকারনাট’ নামে। তবে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে, এই চিন্তা করেই টেক ফেস্ট ‘কগনিজেন্স’ এ ‘সাস্ট ক্র্যাকারনাট’র সদস্যরা ‘টিম বাংলাদেশ’ নাম ধারণ করে অংশগ্রহণ করে। এই টিমের সদস্যরা হলেন শাবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফজলে এলাহি তন্ময়, রবি পাল, নুসরাত জাহান মীম, গণিত বিভাগের মিনহাজুল আবেদিন ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের নুর-ই-জান্নাত। এরা সবাই ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী।

ছিল প্রতিকূলতা, ছিল অনিশ্চয়তা

কগনিজেন্সে অংশগ্রহণের আগে বাংলাদেশ  জোনাল পর্যায়ের ‘রোবোরেস’ সেগমেন্টে সারা বাংলাদেশের প্রায় ৫৮টি টিমকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয় শাবির এই খুদে রোবট বিজ্ঞানীরা। এরই অংশ হিসেবে আইআইটি রুর্কির অ্যানুয়াল টেক ফেস্ট ‘কগনিজেন্স’ এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায় তারা। দুর্ভাগ্যবশত মোটরের ত্রুটিজনিত কারণে চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করতে না পারলেও হয় রানার্সআপ। এ ব্যাপারে টিমের সদস্য মিনহাজুল আবেদিন ও রবি পাল বলেন, ‘আমাদের রোবটের মোটর প্র্যাকটিসের সময়ই নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশ থেকে ব্যাকআপ হিসেবে একটা মোটর নিয়ে গিয়েছিলাম। সেটা  চেঞ্জ করে লাগানোর পর আরেকটা মোটরের ৫০% নষ্ট হয়ে যায়। পরে সেই মোটর নিয়ে অনেক টেনশনে কনটেস্টের বাকি ৩টা রাউন্ড শেষ করি। কারণ আমাদের আর কোনো ব্যাকআপ ছিল না। ওই মোটর নষ্ট হলে আমাদের কনটেস্ট সেখানেই শেষ হতে পারত। সেখান থেকে আমরা রানার্সআপ হয়েছি।’

সর্বোপরি দলনেতা ফজলে এলাহি তন্ময় বলেন, অনেক রাত জেগে কাজ করেছি কনটেস্টের জন্য। বার বার বিভিন্ন সমস্যায় পড়েও সামলে নিয়েছি আমরা। ভবিষ্যতে আর্থিক সহায়তা আর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে রোবোটিক্স বিশ্বে দেশকে আরও অনেক দূরে এগিয়ে নিতে চাই। নতুন ধরনের রোবট তৈরি করে দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই। এতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কাম্য।

সফলতার আরও গল্প

প্রায় দুই বছর ধরে বিভিন্ন জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ের রোবোটিক্স কনটেস্টে অংশ নিচ্ছে শাবির এই টিম। সেই সঙ্গে সফলতা আর পুরস্কার প্রাপ্তির তালিকা প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে।  এই টিমের সদস্যরা চলতি বছর বুয়েটে অনুষ্ঠিত রোবো কার্নিভালের পাথফাইন্ডার সেগমেন্টে অ্যাডভ্যান্স লাইন ফলোয়ারে চ্যাম্পিয়ন, মাইন্ড স্পার্কে (AUST) রোবোরেস ও ন্যাশনাল সায়েন্স কার্নিভালে (ডিআরএমসি) লাইন ফলোয়ার রোবটিক্স সেগমেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়। এর আগে গত বছর শাবির ইইই ফেস্টিভ্যালে অটোনোমাস রোবোটিক্স চ্যালেঞ্জ সেগমেন্টের অ্যাডভ্যান্স লাইন ফলোয়ার ও  মেজ সলভিংয়ে চ্যাম্পিয়ন, আইআইটিতে অনুষ্ঠিত ইসোন্যান্স ইভেন্টে রোবোমানিয়া সেগমেন্টের অ্যাডভ্যান্স লাইন ফলোয়ারে চ্যাম্পিয়ন, কুয়েটে অনুষ্ঠিত ইগনিশন ইভেন্টে লাইন ফলোয়ার রোবটিক্সে ফার্স্ট রানার্স আপ হয়েছে।


আপনার মন্তব্য