Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ২১:৩১

কৃষকের উদ্ভাবনে ধান চাষে বাম্পার ফলন

নতুন জাতের নাম না জানা ধান বিঘায় ৫০ মণ ফলন

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর থেকে

কৃষকের উদ্ভাবনে ধান চাষে বাম্পার ফলন

কৃষকের উদ্ভাবনে ধান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। খুঁজে পাওয়া এই নতুন জাতের ধানের নাম জানেন না কৃষক বায়েজিদ বুলবুল। অথচ পাওয়া ৪টি ধান থেকে আজ বাজিমাত করলেন কৃষক। এবার ধান কাটার পর বাজিমাত ফলনে ওই ধানের নাম এলাকার অনেকে তার নামেই অর্থাৎ ‘বায়োজিদ বুলবুল ধান’ নামেই ডাকছেন।

গত মাসে ওই জাতের ধান জমি থেকে কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষক বায়েজিদ বুলবুল। নতুন এই জাতের ধানের নাম না জানলেও প্রতি বিঘায় ৫০ মণের বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে এবং এ ধানে পোকামাকড় ধরে না, তাই খরচও অনেক কম বলে জানান তিনি। এ ধানচাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকে ধানের বীজ নেওয়ার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ১২০ মণের বেশি ধান বিক্রি করেছে। আর নিজের জন্য ধানের বীজ রেখেছেন ১২/১৩ মণ। কিছু ধানের চাল করে ভাত খেয়েছেন তিনি।

এদিকে এই ধান কী জাতের তা জানতে কৃষি বিভাগ তার ধানের নমুনা বীজধান গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষা কেন্দ্রে শিগগিরই পাঠাবেন বলে জানান উপজেলা

কৃষি বিভাগ। নতুন জাতের নাম না জানা ধানচাষ করে বীজ, এরপর আবার চাষ এভাবে ৩ বছর পর এবার বড় পরিসরে ৩ বিঘা জমিতে নিজেই চাষ করেন দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের পৌরিয়া গ্রামের কৃষক মো. বায়েজিদ বুলবুল।

কৃষক মো. বায়েজিদ বুলবুল জানান, ৪ বছর আগে কটরা পারি জাতের ধান চাষ করি। কিন্তু ওই কটরা পারি ধান কাটার সময় দেখি ৪টা ধানের গাছের শীষ চিকন ধরনের ধান ধরেছে। তখন ওই চিকন ধানের শীষ আমি বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করি। এরপর ওই বীজ থেকেই আস্তে আস্তে বাড়িয়ে আমি ৩ বছর ধরে এই ধান আবাদ করে আসছি। এবার বড় পরিসরে ৩ বিঘা জমিতে এই ধান চাষ করেছি। ধানের বাম্পার ফলনও হয়েছে। তবে ধানের নাম আমি জানি না। ফলন সম্পর্কে তিনি বলেন, এবার ধান কাটার পর দেখি প্রতি বিঘায় ৫০ মণের বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে। এর ভাত খেতেও ভালো। এ ধানর চাষে পোকামাকড় ধরে না। তাই খরচও কম হয়েছে। প্রতিবিঘা চাষে আমার মাত্র ৯০০ টাকা খরচ হয়েছে। এটা চাষ খুবই লাভজনক।

তিনি আরও জানান, এ ধানের গাছগুলো খুব মোটা আর লম্বা হয়। বৃষ্টি আর ঝড়ে ধান কাটার আগে কিছু ধান গাছ পড়ে যায় এবং বৃষ্টির জমানো পানিতে ডুবে থাকে। কিন্তু ধান গাছটির কিছুই হয়নি। এ ছাড়াও এখনই আবার এ ধান বীজ রোপণ করলেও ধান হবে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু জাফর মো. সাদেক বলেন, এই ধান দেখেছি।

এই ধানের বীজ সংরক্ষণ করব। কিন্তু কী জাতের বীজ, তা আমি এখনো বলতে পারছি না। তবে এই ধানের বীজ গাজীপুর ধান গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষার জন্য পাঠাব।


আপনার মন্তব্য