Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:০৩

নাসায় সিলেটের মাহজাবীন

জামশেদ আলম রনি

নাসায় সিলেটের মাহজাবীন

প্রথম বাঙালি নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় (ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) নিয়োগ পেয়েছেন সিলেটের মেয়ে মাহজাবীন হক। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি এই নিয়োগ পান। আগামী ৭ অক্টোবর নাসায় যোগ দেবেন মাহজাবীন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই আছেন।

জানা গেছে, মাহজাবীন হক সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কদমরসুল গ্রামের সৈয়দ এনামুল হকের মেয়ে। তবে তাদের স্থায়ী নিবাস সিলেট নগরীর কাজীটুলায়। ২০০৯ সালে মা ফেরদৌসী চৌধুরী ও একমাত্র ভাইয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যান মাহজাবীন। ২০১১ সালে নিউইয়র্ক থেকে স্থায়ীভাবে মিশিগানে থাকা শুরু করেন তারা। সেখানে চলতি বছরই ওয়েইন স্টেইট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন মাহজাবীন। তার এমন সাফল্যে পুরো মিশিগান শহরে বাঙালি কমিউনিটির মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। এ ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন দুই দফায় আট মাস যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে ইন্টার্নশিপ করেন তিনি। প্রথম দফায় ডাটা অ্যানালিস্ট, দ্বিতীয় দফায় সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে কাজ করেন। পড়াশোনা শেষ করার পরই নাসায় কাজের সুযোগ পেয়ে যান মাহজাবীন।

মাহজাবীন হক জানান, দুই দফায় আট মাস দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করেন তিনি। এই কাজের মাধ্যমে অনেক অভিজ্ঞতা  অর্জন করেছেন। নাসা, অ্যামাজনসহ বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা কোম্পানি থেকে তিনি চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন। এর মধ্যে নাসাকেই বেছে নেন তিনি।

চার মাসের কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মাহজাবীন জানান, ‘নাসায় কাজ করতে পারাটা স্বপ্ন জয়ের মতো। এখানে এসে নানা রকম চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা অর্জন করি। আমরা চারজন থাকতাম একটি অ্যাপার্টমেন্টে। চারজনই ছিলাম ভিন্ন ভিন্ন দেশের। আমাদের বেশিরভাগ সময়ই কাটত শিক্ষামূলক কর্মকান্ডে। ডাটা অ্যানালিস্ট হিসেবে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়েছে যা নিজের কর্মদক্ষতাকে আরও দৃঢ় করেছে।’ দ্বিতীয় দফায় এই বছরের শুরু থেকেই তিনি আবারও কাজ করেন নাসায়। এবার তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। মিশন কন্ট্রোলে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি জানান, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আবারও কাজ শুরু করি নাসায়। এবারও চার মাস ছিলাম। গেল বারের অভিজ্ঞতার আলোকে আমাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছি।’

মাহজাবীন হক শুধু একজন সফল শিক্ষার্থী-ই নন, তিনি একজন ভালো সংগঠকও। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ২০১৬ সালে সহপাঠী ও বাঙালি শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠন করেন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএ)। শুরুতে সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরের বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতি বছর এ নির্বাচন হয়ে থাকে। তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কিছু অর্থ উপার্জনের সুযোগ পেত। স্বেচ্ছাসেবী কাজ ছাড়াও নাচ-গানসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ছিল তার সরব উপস্থিতি। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএ) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস। বাংলা নববর্ষ, পিঠা উৎসব, মেহেদি উৎসব। এই উৎসবের সবচেয়ে মেগা ইভেন্ট হচ্ছে ‘বিএসএ কালচারাল  শো’। এটি বেশ জাঁকজমকভাবে উদযাপিত হয়।

তার এই সাফল্যের পথ এতটা মসৃণ ছিল না, সে কথা জানাতেও ভোলেননি এ বাঙালি কন্যা। নারী হিসেবে তাকে অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হয়েছে। শুরুতেই মেয়ে হিসেবে প্রকৌশল বিদ্যা নিয়ে পড়া অনেকেই ভালো চোখে দেখেননি। এমনকি এখনো  মিশিগান থেকে টেক্সাসে গিয়ে নাসায় কাজ করাকে অনেকেই  সমর্থন করেন না। তবে বরাবরই তার পরিবার পাশে থেকে সাহস যুগিয়েছে। এক্ষেত্রে মায়ের অকুণ্ঠ সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেন মাহজাবীন।

এদিকে মাহজাবীন হকের ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন এবং নতুন কর্মস্থল নাসায় যোগদান উপলক্ষে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে হ্যামট্রাম্যাক শহরের কাবাব হাউসে এক ডিনার পার্টির আয়োজন করা হয়। এতে তার সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব এবং নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। মাহজাবীন হক ও তার মা ফেরদৌসী চৌধুরী আমন্ত্রিত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান। অতিথিদের নানা রকম আইটেমে রাতের খাবারে আপ্যায়ন করা হয়। শেষে মাহজাবীন হকের কেক কাটায় অংশ নেন সবাই। সম্প্রতি মাহজাবীনের নিয়োগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশে থাকা তার বাবা সৈয়দ এনামুল হক। তিনি জানান, মাহজাবীন নাসার মিশন কন্ট্রোল সেন্টারে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করবেন। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে নাসায় কাজ শুরু হবে তার।

জানা গেছে, মাহজাবীনের বাবা সৈয়দ এনামুল হক পূবালী ব্যাংক সিলেট কার্যালয়ের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। আর তার একমাত্র ভাই সৈয়দ সামিউল হক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মিতে কর্মরত।


আপনার মন্তব্য