শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫৪

যমুনার দুর্গম চরে প্রতিবন্ধীদের স্কুল

পান্থ আফজাল

যমুনার দুর্গম চরে প্রতিবন্ধীদের স্কুল

যে ফুল সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না, কেউ যত্ন করে তুলে খোঁপায় কিংবা ফুলদানিতে রাখে না-অটিস্টিক আর প্রতিবন্ধীরা তেমনি অবহেলিত শত শত ফুটন্ত ফুল। লেখার বিষয় তাদের ঘিরেই। তবে শুধু তারাই নয়, এসব অবহেলিতদের পাশে একজন স্বপ্নযোদ্ধার অদম্য সংগ্রামের কথাও তুলে ধরব। যার নাম জাহিদুল হাসান স্বপন। যিনি দুর্গম যমুনা চরের ছয় ইউনিয়নের মানুষের কাছে একটি অনন্য নাম। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার যমুনা নদীর বুকে জেগে থাকা চরের ছয়টি ইউনিয়নের একমাত্র বিশেষায়িত বিদ্যালয় যমুনা আহাদ আলী শেখ অটিস্টিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় যার হাত ধরে গড়ে উঠেছে। চরের এই দুর্গম অঞ্চলে অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন স্বপ্নবাজ এই তরুণ। স্বপনের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক প্রতিবন্ধী শিক্ষাগ্রহণ করে চলেছে। যমুনা প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার জন্য প্রথমে ১৮ শতক এবং স্কুলের জন্য দেড় বিঘা জমি দান করে স্বপনের বাবা মরহুম ফজলুল হক শেখ ও চাচা নুরুল ইসলাম তারা। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদান ছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যালয়টি অত্র ইউনিয়নে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অনেক জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদ স্বপনের স্কুল পরিদর্শন করে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সম্প্রতি এ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে ১৫ প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার এবং প্রতিবন্ধী শিশু ও দুই শ জনের মাঝে কম্বল দেওয়া হয়। প্রতিকূল যমুনার বুকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও কনকনে ঠা-ায় কম্বল পেয়ে দারুণ আপ্লুত অবহেলিত ওই শিশু ও তাদের পরিবার। স্বপন বলেন, ‘এই দুর্গম অঞ্চলে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা শুরুতে সহজসাধ্য ছিল না। প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ানোটা মানুষ সহজ চোখে নিত না। শুরুতে বাঁকা চোখ তাকাত। আমার পরিবারে দুজন প্রতিবন্ধী রয়েছে। আমি তাদের কষ্ট বুঝি। এ জন্যই কাজ করে যাচ্ছি।’


আপনার মন্তব্য