শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জুন, ২০২১ ২৩:৩৬

তরুণদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ফ্রি অক্সিজেন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা ও রেল তথ্য

তানভীর আহমেদ

তরুণদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
Google News

ফেসবুকে একটি পোস্ট, ‘‘রাত ২টা বেজে ২৫ মিনিট। কিছুক্ষণের মধ্যেই মসজিদের মাইকে ঘোষণা আসবে সাহরি শুরুর। এই গভীর রাতে আমাদের ভলান্টিয়ার নাজমুল এবং জাহিদ শিমুলতলী করোনা আক্রান্ত রোগীর পাশে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে। এই গভীর রাতে সার্ভিস দিতে আমরা সদা প্রস্তুত। কিন্তু মূল বাধা হচ্ছে ট্রান্সপোর্ট...।’’ সেই বাধা কিছুটা হলেও কাটল একটি অটো অ্যাম্বুলেন্সের কল্যাণে। সাধারণ একটি অটো পরিবহনকে আধুনিক সংযোজনের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্সে রূপ দিয়েছে গাজীপুরের ‘স্পেশাল রেসপন্স টিম’। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ২ লাখ টাকা। ৫২ জনের স্বেচ্ছাসেবী দল তারা। শুরুটা ২০১৭ সালে। গাজীপুর থেকে ঢাকায় রেলে যাতায়াতকারী কজন পেশাজীবী ফেসবুকে একটি গ্রুপ খোলেন। নাম দেন, গাজীপুর-ঢাকা ট্রেন পেসেঞ্জারস ফোরাম। কোন ট্রেন কখন গাজীপুর স্টেশনে থামবে, ঢাকা থেকে সহজেই কোন ট্রেন ব্যবহার করে গাজীপুর পৌঁছাতে পারবে, এসব তথ্য প্রদান করা হয় এখানে। বর্তমানে ৮৪ হাজারেরও বেশি অনুসারী রয়েছে এই গ্রুপে। এক সহযাত্রী রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর গাজীপুর রেলস্টেশনের যাত্রীদের নিরাপত্তা, সচেতনতা বাড়াতে যারা এগিয়ে আসেন তাদেরই একজন মো. ফান্তাহীল আলীম তামিম। তার সঙ্গে যুক্ত হন ১৭ জন স্বেচ্ছাসেবী। স্পেশাল রেসপন্স টিম বা এসআরটি গড়েন। বন্ধু, স্বজন ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা নিয়ে হ্যান্ডমাইক, লেজার লাইট কেনেন। ট্রেন স্টেশনে পৌঁছালে যাত্রীদের সচেতন করেন নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়াতে। প্ল্যাটফরমে এঁকে দেন হলুদ লাইন বা ইয়েলো সেইফটি লাইন। তাদের অক্লান্ত চেষ্টায় গাজীপুর স্টেশনে রেলে কাটা পড়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমে যায়। ২০১৮ সালে যেখানে স্টেশনটিতে ১৩ জন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, ২০১৯-এ সেখানে প্রাণ হারান মাত্র একজন। তাদের ব্যাপক প্রচারণা এবং দাবির মুখে গত বছর গাজীপুর-ঢাকা ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য দুটি সংরক্ষিত কোচ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ট্রেনে কোনো নারী হয়রানির শিকার হলে দোষীকে পুলিশের হাতে তুলে দিতেও তারা সচেষ্ট। গত বছর করোনা মহামারীতে কাজ হারিয়ে অর্থকষ্টে পড়েন অনেকে। সে সময় প্রায় ১০ লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ করে এই ফোরামটি। গাজীপুর জেলা প্রশাসন ২৭ হাজার ব্যাগ ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব তুলে দেয় তাদের হাতে। ঘটনাক্রমে করোনায় আক্রান্ত হন ফোরামটির সুহৃদ মারজুক। দ্রুত অক্সিজেন ও হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে তার। অক্সিজেন ও অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করতে গিয়ে চরম প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়েন তারা। সে সূত্রেই শুরু হয় ফ্রি অক্সিজেন ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা। ফেসবুক গ্রুপে অর্থ সহায়তার  আহ্‌বান জানানো হয়। এগিয়ে আসেন অনেকেই। ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা দিয়ে ১২টি সিলিন্ডার কেনেন তারা। যখনই প্রয়োজন, গাজীপুরের বিভিন্ন শহর, মহল্লায় ফোরামটির ভলান্টিয়াররা ছুটে যাচ্ছেন। সে সময়ই অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনীয়তা আরও টের পান। অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করেছেন তারা। গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম বিভিন্ন সময় ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা দিয়ে এই স্বেচ্ছাসেবক দলটিকে সহায়তা করেছেন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে অটো অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি রোগীদের স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদান। এই অটো অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, নেবুলাইজার, ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মেশিন, ডিজিটাল থার্মোমিটার, অক্সিমিটার, দুটি স্ট্রেচারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র ও অবকাঠামো। রয়েছে অভিজ্ঞ চালক। ফোরামের সদস্যরা স্বপ্ন দেখছেন একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স কেনার। ‘গাজীপুর-ঢাকা ট্রেন পেসেঞ্জারস ফোরাম’, ফেসবুক গ্রুপে যোগাযোগ করে বিনামূল্যে জরুরি অক্সিজেন, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও ব্লাড ডোনার পেতে সব ধরনের সহায়তা  পাবেন গাজীপুরবাসী।