শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

রোমাঞ্চকর মারায়ন তং

শাহজিয়া শাহরিন আনিকা

রোমাঞ্চকর মারায়ন তং

মারায়ন তং পাহাড়ে ভ্রমণ কেবল রোমাঞ্চকর নয়, চ্যালেঞ্জিংও বটে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে আটকে থাকা প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপ দেখতে ভ্রমণ পিপাসুদের পছন্দের শীর্ষে এই স্পট। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ‘চিরন্তন ১৪’ ব্যাচের ১২ জন মিলে ঠিক করি বান্দরবান ভ্রমণ। মূল উদ্দেশ্য আলীকদমের মারায়ন তং পাহাড়ে ট্রেকিং ও ক্যাম্পিং। রাতে রওনা হয়ে পরদিন সকালে পৌঁছলাম বান্দরবান শহরে। শহর ছাড়িয়ে পৌঁছে গেলাম বান্দরবানের ২২০০ ফুট উঁচু নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে।

ভ্রমণের মূল আকর্ষণ চাঁন্দের গাড়িতে উঁচুনিচু পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে চলা। যত উপরে উঠছিলাম শীতল শুভ্র মেঘ এসে শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছিল। নীলগিরির হেলিপ্যাড জায়গাটা ছবির মতো সুন্দর। পরের গন্তব্য থানচি। বিকালে সূর্যাস্ত দেখতে গেলাম ‘তমা তুঙ্গি’তে। অসম্ভব সুন্দর এই জায়গা থেকে বাংলাদেশের তিনটি সর্বোচ্চ পাহাড়-তাজিংডং, কেওক্রাডং ও ডিম পাহাড়ের চূড়া একসঙ্গে দেখা যায়। তমা তুঙ্গিতে এতটাই বিমোহিত হয়েছিলাম যে দ্বিতীয় দিন সূর্যোদয়ও অসাধারণ, ঠিক বিপরীত। তুলোর মতো মেঘে ছেয়ে থাকা তমা তুঙ্গি যেন কল্পনার রাজ্য। এখনো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত না হলেও বিশেষ অনুমতি নিয়ে সেখানে যেতে হয়। ভবিষ্যতে সম্ভবত বান্দরবানের অন্যতম বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র হতে যাচ্ছে তমা তুঙ্গি।

থানচি-আলীকদম সড়ক বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আড়াই হাজার ফুট। অতিরিক্ত সময় থাকলে দেখা যাবে কাছাকাছি অবস্থিত শীলবুনিয়া ঝরনা। ১৬৬০ ফুট উঁচু মারায়ন তংয়ে ট্রেকিং শুরু। পুরোটাই ইট বাঁধানো রাস্তা। বেশির ভাগ পথ প্রচণ্ড খাড়া। ভালো গ্রিপের জুতা ব্যবহার না করলে বা একটু অসাবধান হলে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। হাঁটার গতি, বিশ্রাম ও ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ব্যক্তিভেদে এক থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগবে এর চূড়ায় উঠতে। চূড়ায় রয়েছে একটি বৌদ্ধজাদি।

এর কিছুটা নিচে ক্যাম্পিংয়ের জায়গা। কিছুক্ষণের মধ্যেই মারায়ন তং আমাদের উপহার দিল অপার্থিব এক সূর্যাস্ত। অন্ধকার নামার পর পাহাড়ের বুকে শুয়ে তারা দেখা, ক্যাম্প ফায়ার, বার্বিকিউ, ঝিঁঝিপোকার ডাক, আশপাশের ক্যাম্প থেকে ভেসে আসা গিটারের টুংটাং, বন্ধুদের আড্ডা, ছেলেমানুষি খেলা, তাঁবুতে রাতযাপন, ভোররাতের নিস্তব্ধতা, হঠাৎ মেঘ এসে শিহরণ জাগানো, কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, মেঘের চাদরের ওপর সূর্যোদয়-এই সব কিছুর জন্যই মারায়ন তং অনন্য। তবে প্রচণ্ড পরিশ্রম শেষে মারায়ন তংয়ের চূড়ায় ওঠার পর আশপাশের অসাধারণ দৃশ্য যেমন আপনার মন ভরিয়ে দেবে। মারায়ন তং থেকে নামার পর সারা দিন সময় থাকায় চলে যাই মাত্র দুই ঘণ্টা দূরত্বে অবস্থিত কক্সবাজারে। চাঁন্দের গাড়ি নিয়ে মেরিন ড্রাইভ রোড ধরে সোজা পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত। সেখানকার কোরাল পয়েন্ট জায়গাটা অনেকটা সেন্টমার্টিনের মতো। খুব পরিচ্ছন্ন ও নির্জন।  সূর্যাস্ত দেখে ফিরে যাই কলাতলী সৈকতে। রাতের সমুদ্র সব সময় অন্যরকম আবেদন সৃষ্টি করে।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর