উপমহাদেশের প্রখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড়, ফুটবল জাদুকর সামাদ। অজপাড়াগাঁয়ে জন্ম নেন তিনি। ফুটবল নৈপুণ্যে জয় করেছিলেন গোটা বিশ্ব। এ প্রজন্মের অনেকেই ফুটবলে তাঁর অসামান্য অর্জনের গল্প জানেন না। বাংলার ফুটবল কিংবদন্তির মহানায়ক সামাদের ৬৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ২ ফেব্রুয়ারি। ১৯৬৪ সালের এই দিনে তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুর শহরের রেলওয়ে সাহেবপাড়ায় মারা যান। পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর কবরস্থানে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত। সৈয়দ আবদুস সামাদ আসলে ‘জাদুকর সামাদ’ নামে পরিচিত। ১৮৯৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের ভুরী গ্রামে দরিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পার্বতীপুরে চলে আসেন। পরে সেখানেই স্থায়ী হন। ১৯১২ সালে কলকাতা মেইন টাউন ক্লাব এবং ১৯৩৩ সালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দিয়ে সামাদ ফুটবল জগতে আলোড়ন তোলেন। তাঁর নেতৃত্বে মোহামেডান পরপর পাঁচবার আইএফএ শিল্ড ও লিগ জয় করে। ১৯২৪ সালে তিনি ভারতের জাতীয় ফুটবল দলে নির্বাচিত হন। পরে ১৯২৬ সালে এ দলটির অধিনায়ক হন। তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় দল গ্রেট ব্রিটেন, বার্মা, সিলোন, মালয়, সিঙ্গাপুর, হংকং, চীন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে অবিস্মরণীয় জয় পায়। ১৯১৫ থেকে ১৯৩৮ সাল, এই ২৩ বছর ছিল সামাদের অসাধারণ খেলোয়াড় জীবন। তিনি ছিলেন একজন রেল কর্মচারী। সামাদের খেলোয়াড় জীবনে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে যা খেলার জগতে আজও দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। রেলওয়ের কোনো প্ল্যাটফর্ম ইন্সপেক্টর পদ নেই, তবুও জাদুকর সামাদের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ এই পদ সৃষ্টি করেছিল। রেলওয়ে পার্বতীপুর জংশনে প্ল্যাটফর্ম ইন্সপেক্টর হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। তিনি রেলওয়ে সাহেবপাড়া কলোনিতে টি-১৪৭ নম্বর বাড়িতে থাকতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এখানেই ছিলেন। এক সময় রেলওয়ের সামাদ মিলনায়তনে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী ব্যাপকভাবে পালিত হতো। তবে স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন দিবসটি পালন উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করে। জানা যায়, ফুটবল জাদুকর সামাদের সোনার মূর্তি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। পার্বতীপুরে রেলওয়ের নির্মিত একটি মিলনায়তন তাঁর নামের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হয়েছে, সামাদ মিলনায়তন। ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার তাকে ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স’ পুরস্কারে ভূষিত করে। পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর কবরস্থানে সমাহিত করার পর দীর্ঘ ২৫ বছর অবহেলিত, অরক্ষিত থাকার পর ১৯৮৯ সালে এখানে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ।