গ্রামীণ পরিবেশে ব্যতিক্রমী এক ছাদবাগান গড়ে তুলেছেন মোশাররফ হোসেন রিপন। তার এই ছাদবাগান ইতোমধ্যে স্থানীয়দের দৃষ্টি কেড়েছে। বাঞ্ছারামপুর হাইস্কুল রোড সংলগ্ন ইসলামী হাসপাতালের চার তলা ভবনের ছাদে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন এই ফল, ফুল ও সবজির বাগান। প্রায় ছয় হাজার স্কয়ার ফিট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত বাগানটিতে রয়েছে অর্ধশতাধিক প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ। বাগানে দেশি ও চায়না কমলা, মাল্টা, আঙুর, লংগান, ডালিম, আখ, সাদা জাম, কালোজাম, মিষ্টি ও টক তেঁতুল, পেঁপে, জাম্বুরা, বরই, সফেদা, দেশি-বিদেশি আম, আমড়া, বেল, কদবেল, কাঁঠাল, করমচা, সাগরকলা প্রভৃতি ফলের গাছ রয়েছে। এ ছাড়া ফুলের মধ্যে রয়েছে গাঁদা, ডালিয়া, পিটুনিয়া, সিলভিয়া, ভারবিনা, গোলাপ, কাঠগোলাপ, রঙ্গন, ক্যালানকোই, কামিনীসহ নানা জাতের ফুল। শাকসবজির মধ্যে বিভিন্ন প্রকার বেগুন, টম্যাটো, দেশি ও বিদেশি জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি নিয়মিত উৎপাদিত হচ্ছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে শুরু করা এই ছাদ বাগানে বর্তমানে ১০২টিরও বেশি গাছ রয়েছে। গাছে গাছে ফল ধরছে এবং এসব ফল সম্পূর্ণ কেমিক্যালমুক্ত হওয়ায় স্বাদেও অনন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মোশাররফ হোসেন রিপন বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর ইসলামি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়াও তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর সদরের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতায় পরিচালিত সোবহানিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। মোশাররফ হোসেন রিপন বলেন, ‘আমি ব্যতিক্রমধর্মী গাছ সংগ্রহ করতে ভালোবাসি। দেশের যেখানেই যাই, নতুন গাছের খোঁজ করি। ছাদবাগানে উৎপাদিত ফল ও সবজি নিজের পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিলিয়ে দিই। শুধু ছাদের ওপর নয়, ভবনের চারপাশেও ফলের গাছ লাগিয়েছি। গাছ ছাড়া পরিবেশ কল্পনাই করা যায় না। বর্তমানে বাজারে কেমিক্যালমুক্ত ফল পাওয়া কঠিন। তাই নিজ উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব ফলের বাগান গড়ে তুলেছি।’