স্বপ্নে দেখে নির্মাণ করা ইসলামপুর গোরস্থান জামে মসজিদ। বগুড়া সদরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গোরস্থানে (তেলিপুকুর) স্থাপিত তিন তলা বিশিষ্ট স্বপ্নের মসজিদ কমপ্লেক্সের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। বগুড়া তিনমাথা এলাকায় অবস্থিত অতিথি ফিলিং স্টেশনের কর্ণধার মো. জাহাঙ্গীর আকরাম কাজল এক দিন স্বপ্ন দেখেছিলেন- তিনি ইসলামপুর গোরস্থানে (তেলিপুকুর) শাহ্ কামাল (রা.)-এর মাজারের পাশে একটি মসজিদ তৈরি করছেন। এ স্বপ্ন দেখার পর সেখানে তিনি মসজিদ নির্মাণ করেন। প্রায় পৌনে পাঁচ একর জায়গার ওপর অবস্থিত এই কবরস্থান-মসজিদ ও মাজার এক অনন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এলাকায় প্রসিদ্ধ। জানা যায়, ২০০১ সালে যাত্রা করা এই ছাপরা মসজিদটি ২০১০ সালে পাকা ঢালাই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মো. জাহাঙ্গীর আকরাম কাজল। কিন্তু মসজিদটির সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ না হতেই গত ৩১ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিন তলা এই মসজিদ নির্মাণে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হয়েছে। যার বেশির ভাগই তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন। মৃত্যুর পর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন তাঁর উত্তরসূরিরা। সম্প্রতি মুসল্লিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মসজিদের মেঝেতে জায়নামাজ ডিজাইনের টাইলস স্থাপন ও মেহেরাবের সৌন্দর্যবর্ধন, দেয়াল আস্তরকরণ এবং ইলেকট্রিক লাইনসহ যাবতীয় কাজ সম্পাদন করা হয়। মসজিদের ভিতরে এক নান্দনিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়। যার মধ্যে ৬৫ হাজার টাকা মসজিদ কমিটি এবং বাকি টাকা অতিথি ফিলিং স্টেশনের দাতব্য প্রতিষ্ঠান কাজল বিন-জোবেদা জালাল ফাউন্ডেশন বহন করে। মো. জাহাঙ্গীর আকরাম কাজলের ছোটভাই জুলফিকার মুর্তজা বাদল বড়ভাই ও পিতামাতার নামে কাজল বিন জোবেদা জালাল ফাউন্ডেশন নামে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। তার ছোট বোন তাবাস্সুম জাবীন তৃষ্ণা ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে মসজিদের সব উন্নয়ন ও পরিচালন কর্মসহ বিভিন্ন দাতব্যকর্ম নিরলসভাবে করছেন।