এক সময় হতাশাগ্রস্ত হয়ে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন নাজমুল (ছদ্মনাম)। তাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা নানা ঝামেলায় ছিলেন। আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় পরিবারটি হয়ে পড়ে দিশাহারা। সেই অবস্থা থেকে নাজমুলকে তুলে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নেশার জগৎ থেকে ফিরে এসে কর্মসংস্থানের পথ দেখায় বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা আমরা কাজ করি (একেকে)। শিক্ষিত ও স্বশিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের দক্ষ করে গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যেই পেশাগত দক্ষতা দেখিয়ে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রায় এক হাজার তরুণ-তরুণী দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠানটি জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বাছাই করে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। শিক্ষানবিস কর্মসূচির আওতায় ১৫টি ট্রেডে প্রায় এক হাজার বেকার তরুণ-তরুণীকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, বিনাসুদে ঋণ প্রদান করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইলেকট্রিক্যাল ইন্সটলেশন মেইনটিন্যান্স, প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিংস, টাইলস অ্যান্ড মার্বেল ফিটিংস, গ্রাফিক্স ডিজাইন, অ্যান্ড মাল্টি মিডিয়া, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, মোটরসাইকেল সার্ভিসিং, স্মল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেটাল ওয়ার্কস, ড্রাইভিং কাম অটো মেকানিকস, ফ্যাশন গার্মেন্ট, মেকানাইজড এগ্রিকালচার ফার্মিং, বিউটি কেয়ার অ্যান্ড বিউটিফিকেশনসহ ১৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতায় ফরিদপুরের হতদরিদ্র শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে ২০২২ সাল থেকে। রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট তথা রেইজ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম চলছে। একেকের নির্বাহী পরিচালক এম এ জলিল জানান, প্রশিক্ষণ আর ঋণ নিয়ে আয়বর্ধক কাজে তরুণ-তরুণীরা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।