বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামে এখনো মাটির ঘর রয়েছে। তবে বাজারে মাটির দোকান খুব একটা দেখা যায় না। তবে এই দৃশ্য চোখে পড়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা দক্ষিণ ইউনিয়নের কালীর বাজারে। শতাধিক বছরের প্রাচীন বাজারে রয়েছে দেড় শতাধিক দোকান। তার মধ্যে একটি মাটির দোকান। সেখানে একজন পল্লি চিকিৎসক বসেন। তিনি এখানে চেম্বার করেন ১৯৭৪ সাল থেকে। এখানে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। মাটির ঘরটির বয়স ৫২ বছর। মায়ের নির্দেশনায় মাটির ঘরটি ভাঙেননি। মৃত্যুর আগে তিনি সেটি ভাঙতেও চান না। এ চিকিৎসকের নাম সৈয়দ আহমেদ মজুমদার। তাঁর বয়স ৭০ বছর। চিকিৎসাসেবা ও গাছ লাগিয়ে সারা জীবন পার করেছেন। সড়কের পাশে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় ও দোকানের পেছনে অনেক গাছ লাগিয়েছেন তিনি। সেগুলো আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, কুমিল্লা চকবাজার থেকে চলে গেছে সুয়াগাজী সড়ক। কালীর বাজার রাস্তার মাথা থেকে দুই কিলোমিটার ভিতরে গলিয়ারা দক্ষিণ ইউনিয়নের কালীর বাজার। কালীর বাজার মনিপুর গ্রামের একটি অংশ। বাজারের বয়স শত বছর পেরিয়ে। সেই বাজারে মুদি, মনোহারি ও চায়ের দোকানের সংখ্যা দেড় শতাধিক। কিছু দোকান টিন শেড বিল্ডিং। কিছু টিনের তৈরি। একমাত্র একটি দোকান মাটির তৈরি। সেটি ১৯৭৪ সালে স্থাপন করা হয়। এখানে ৫২ বছর পল্লিচিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ আহমেদ মজুমদার। তিনি এখন লাঠির ওপর ভর দিয়ে চলেন। কিন্তু মাটির ঘরের মায়া তিনি ছাড়েননি। বাজারের পাশের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। এই বাজারেই তাঁর শৈশব, কৈশোর কেটেছে। বাবা আলী আজ্জম মজুমদার, মা আয়ফলের নেছা। সাত ভাই, তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। সৈয়দ আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘চোখের সামনে এই বাজারের কত উত্থান-পতন দেখলাম। এখানে আগে ঘর কম ছিল। তবে রবিবার ও বুধবার হাটবারে মানুষের অনেক সমাগম হতো। ৬৩ গ্রামের মানুষ এখানে ভিড় করতেন। মাটির ঘরের বিষয়ে মা বলেছেন, তুই যতদিন বেঁচে আছিস দোকান ভাঙবি না। মায়ের আবদার রাখতে এটি আর পাকা করিনি। আমার ছেলেরা প্রবাসে থাকে। বাড়ির ঘরগুলো পাকা ভবন করেছে। কিন্তু এটাতে হাত দিতে দিইনি। এটিতে শান্তি লাগে। নিজেই ঘরটি লেপঝোপ (সংস্কার) করি।’ গাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৮০-৮১ সালে গাছ লাগানোর আগ্রহটা বাড়ে। স্থানীয় সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাজী আবদুর রশিদ ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জানু মিয়ার অনুপ্রেরণায় গাছ লাগানো শুরু করেছি। কালীর বাজার রাস্তার মাথা থেকে এ বাজার পর্যন্ত আমার হাতে লাগানো শতাধিক গাছ রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায়ও গাছ লাগিয়েছি। এ ছাড়া কোথাও রোগী দেখতে গিয়ে আম, কাঁঠাল খেয়ে সেই বাড়িতে বা সড়কের ধারে বীজ রোপণ করেছি। চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে ভারত সীমান্ত বেশি দূরে নয়। যখন বর্ডার খোলা ছিল তখন ভারত থেকে রোগীরা আমার চেম্বারে আসতেন। তখন এলাকায় এমবিবিএস ডাক্তার তেমন ছিল না। পাশের জংগলপুর গ্রামের ডা. আবদুল ওহাব ছিলেন একমাত্র এমবিবিএস ডাক্তার। তখন বাজারে ৬৩ গ্রামের মানুষ আসত। এখন আশপাশে বাজার হয়ে গেছে, তাই মানুষ কম আসেন। তবে এখনো ৩৩ গ্রামের মানুষ এখানে আসে।’ স্থানীয় কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট (অব.) ৮৬ বছরের ইসহাক মিয়া বলেন, ‘ছোটখাটো অসুস্থতায় সৈয়দ আহমেদের চেম্বারে আসি। তার হাত যশ ভালো। আমার বাবাও তার রোগী ছিলেন। তাকে ছাড়া তিনি চিকিৎসা নিতেন না। তার মাটির ঘরের ফার্মেসিতে মাঝে মাঝে আড্ডা দিয়ে আমারও ভালো সময় কাটে।’ ঘরটি দেখতে দূর থেকে অনেক মানুষ আসেন। স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহিদা খাতুন বলেন, ‘সৈয়দ আহমেদ পল্লিচিকিৎসক। তিনি একজন ভালো কৃষক। গাছ লাগানো তাঁর নেশা। কোন গাছ কখন লাগাবেন এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় পরামর্শ নিয়েছেন। তিনি বাজারে মাটির ঘরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।’
শিরোনাম
- রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
- আইজিপির সঙ্গে এফবিআই প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
- এক কোটি ৮০ লাখ লিটার ভোজ্যতেল কিনবে সরকার
- ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বরদাশত করা হবে না : হাইওয়ে ডিআইজি
- সিডনিতে একুশে মেলা, বইমেলা মূল্যায়ন সভা ও ইফতার অনুষ্ঠিত
- আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে অভিষেক-ইশানের দাপট
- পাকিস্তানকে হেসেখেলে হারাল বাংলাদেশ
- গণহত্যা দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোনারগাঁয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা
- বাউবি ও বিপসটের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সিলেটে সেই ছিনতাইয়ের ঘটনার মূলহোতা গ্রেপ্তার
- স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া আধুনিক নগর সম্ভব নয় : আইজিপি
- নীলফামারীর রাজস্ব প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে ২৫ জনের পদায়ন
- পাকিস্তানকে ১১৪ রানে অলআউট করল টাইগাররা
- দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দিল রাসিক
- হরমুজ প্রণালিতে তিনটি কার্গো জাহাজে হামলা
- ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া থেকে রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- নোয়াখালীতে দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ, পুলিশের উপস্থিতিতে উদ্ধার
- ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার নাহিদের ৫ উইকেট
- বরিশালে টিসিবির পণ্যসহ ট্রাক আটক
- সরকারি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
পল্লি চিকিৎসায় মাটির বাতিঘর
অর্ধশত বছর ধরে সেবা পাচ্ছেন দুই দেশের রোগী
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা
প্রিন্ট ভার্সন
টপিক
এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ খবর
নিশ্চিহ্ন না হতে চাইলে নিজের দিকে খেয়াল রাখুন, ট্রাম্পকে ইরানের হুঁশিয়ারি
২২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম
মার্কিনি ও ইহুদিবাদিদের গোপন আস্তানা প্রকাশে মুসলিমদের প্রতি ইরানের আহ্বান
৫ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম