গাজীপুরে মালচিং পদ্ধতিতে টম্যাটো, বেগুন, শসা, মরিচ, তরমুজ, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ক্যাপসিকাম এবং বিভিন্ন সবজি চাষ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যেখানে পলিথিন ব্যবহার করে মাটির আর্দ্রতা রক্ষা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ ও সারের অপচয় কমিয়ে কম খরচে বেশি ফলন নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনেও সহায়তা করছে। কৃষকরা এই আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন। এই পদ্ধতিতে জমি তৈরির পর সারি করে বেড তৈরি করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে চারা রোপণ করা হয়। গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ পদ্ধতিতে প্রথম দিকে একটু বেশি খরচ হলেও, পরে আর তেমন খরচ নেই। পোকার আক্রমণ ও রোগবালাই তেমন ক্ষতি করতে পারে না। আগাছা কম হওয়ায়, তাতে শ্রম ও খরচ বাঁচে। সার কম দেওয়া লাগে। কিন্তু ফলন হয় সাধারণ চাষের চেয়ে বেশি। মালচিং একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী চাষ পদ্ধতি। এই পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
চলতি বছর জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে পলিথিন দিয়ে মালচিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি আবাদ হয়েছে। তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষকের এ প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গাজীপুরের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মালচিং অত্যন্ত সহজলভ্য, লাভজনক ও বিষমুক্ত সবজি চাষের একটি কার্যকর পদ্ধতি। ফসলের খেতে আর্দ্রতা সংরক্ষণে মালচিং বিশেষভাবে উপকারী। কারণ মালচিং সিট ব্যবহারের ফলে মাটির রসের বাষ্পায়ন প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে মাটির উপরিতল থেকে যে পরিমাণ পানি বাষ্পীভূত হয়, তা ওই প্লাস্টিকের আবরণে বাধা পেয়ে ঘনীভূত হয়। যা বিন্দু বিন্দু জলকণায় পরিণত হয়ে আবার মাটিতেই ফিরে আসে। এতে জমিতে দুটি সেচ পর্বের ব্যবধান বাড়ানো সম্ভব হয়। সেচের খরচ কম হয়। পাশাপাশি নিড়ানি খরচ কমবে, দমন হবে কীটপতঙ্গের উৎপাত। উৎপাদন খরচ কমলে কৃষকরাই লাভবান হবেন। আমরা এ পদ্ধতিটি কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করছি।’