নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর গ্রাম। স্থানীয় উদ্যোক্তার হাত ধরে বায়োগ্যাস-ভিত্তিক উদ্যোগ বদলে দিয়েছে পুরো গ্রামের অর্থনীতি। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট রয়েছে এ অঞ্চলে। এ উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন বেগমগঞ্জের মাহমুদা ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী আবদুর রহমান সোহাগ। তিনি তিন বছর আগে প্রায় ২২টি গরু নিয়ে একটি খামার পরিচালনা করছেন। এ খামারের গরুর গোবর ব্যবহার করে তিনি স্থাপন করেছেন আধুনিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। এই প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে তার পরিবারে রান্নার পাশাপাশি এলাকার প্রায় ২০টি পরিবার পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত গ্যাস সুবিধা পাচ্ছেন। একই সঙ্গে মিলছে বিদ্যুৎ সুবিধা। এ গ্রামে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ নেই। বিদ্যুৎও সব সময় থাকে না। বর্ষা মৌসুমে এ সংকট তীব্র হয়। এ পরিস্থিতিতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালিয়ে তিনি নিজের পরিবারসহ আশপাশের কয়েকটি পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিচ্ছেন। বায়োগ্যাসের চাপ ও তাপমাত্রা লাইন গ্যাসের মতোই কার্যকর বলে জানান ব্যবহারকারীরা। বর্তমানে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মিটার দূরত্ব পর্যন্ত পাঁচটি লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান সোহাগ। এ ছাড়া প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত জৈবসার ব্যবহার করে স্থানীয় কৃষক উপকৃত হচ্ছেন। আবদুর রহমান সোহাগ জানান, চাকরির পাশাপাশি তিনি এ প্রকল্প চালু করেছেন, যাতে সাধারণ মানুষ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জৈবসারের সুবিধা পায়। ভবিষ্যতে তিনি আশপাশের তিনটি ইউনিয়নে বৃহৎ আকারে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তার লক্ষ্য অন্তত ছয় থেকে আট হাজার পরিবারকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা। এজন্য তিনি সরকারের কাছে স্বল্পসুদে ঋণ বা আর্থিক সহায়তা চান। গ্রামাঞ্চলে বায়োগ্যাস-ভিত্তিক এমন প্রকল্প সম্প্রসারণ করা গেলে জ্বালানি সংকট কমবে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, জেলায় মোট ১৩০টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট রয়েছে। তবে বেশির ভাগ প্লান্ট পুরোদমে কার্যকর নেই। সোহাগের বায়োগ্যাস প্লান্টের জন্য তিনি প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদানে উদ্যোগ নেবেন। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটি চমৎকার উদ্যোগ। আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করব।’