মিলন হবে কত দিনে আমার মনের মানুষের সনে, কিংবা লোকে বলে বলেরে ঘরবাড়ি ভালা না আমার। এরকম নানা গানের সুর বাজত তার বাঁশিতে। যা শিল্পমনা মানুষের হৃদয়ে দাগ কাটত। কুমিল্লা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলার মঞ্চের পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। এখন তার বাঁশের বাঁশির সুর থামলেও তিনি বাজাচ্ছেন নতুন সুর। সমৃদ্ধির সুর। এই সুর বাজানো তরুণের নাম ফয়সাল আহমেদ। পিতা হুমাযুন কবির ও মাতা জাহানারা বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে তিনি। লেখাপড়া করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে। ইসলামের ইতিহাসে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। সুরের সাধনা আর সহপাঠীদের সঙ্গে চলাফেরায় তার দিন কাটত।
২০১৯ সালের ঘটনা। একদিন নিজের পরিবারের জন্য মধু ক্রয় করেন। পরে দেখেন সেগুলো খাবার উপযুক্ত নয়। দাম দিয়ে কিনে সাধের মধু ফেলে দিতে হয়। বিষয়টি তাকে খুব পোড়ায়। তিনি ভাবতে থাকেন পরিবারের জন্য খাঁটি মধু কীভাবে সংগ্রহ করা হয়। সে সময়ে চারদিকে খোঁজ লাগান। খোঁজ পান চট্টগ্রামের সৈয়দ মো. মঈনুল আনোয়ারের। তিনি মধু গবেষক। তার সঙ্গে দেখা করেন। তার থেকে ধারণা পান কীভাবে খাঁটি মধু চেনা যাবে। ২০২০ সালের দিকে পরিকল্পনা করেন নিজেই উদ্যোক্তা হবেন। চাষিদের থেকে ১০ কেজি মধু সংগ্রহ করেন। ফেসবুকে প্রচার চালাতে থাকেন। প্রথমে স্বজনদের কাছে বিক্রি করেন। তারা ভালো বলার পর তার ব্যবসা বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে তিনি কুমিল্লা নগরীতে শো-রুম স্থাপন করেন। সেখানে মধুর সঙ্গে ঘি, সরিষার তেলসহ খাঁটি খাদ্যপণ্য বিক্রি শুরু করেন। এক সময় ভাবনা আসে মধুকে আরও নিরাপদ কীভাবে করা যায়, সে নিরিখে ল্যাব স্থাপন করেন। সরজমিন কুমিল্লা নগরীর ধর্মপুর ভিক্টোরিয়া কলেজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফয়সাল আহমেদের শো-রুম ও ল্যাব। ২০-২২ রকমের মধু শো-রুমে প্রদর্শন করা রয়েছে। তবে বিক্রির জন্য বর্তমানে রয়েছে পাঁচ ধরনের মধু। এছাড়া মধু বাদামের মিশ্রণে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রদর্শন করা হয়েছে। এক পর্যায়ে কোন মধুর কোন রকম ঘ্রাণ তা দেখানো হয়। ল্যাবে পরীক্ষা করে জানান হয় কোন মধুর গুণগতমান কেমন।
ভোক্তা খায়রুল আনাম রায়হান ও জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল বলেন, মধু ক্রয় করার জন্য ফয়সাল আহমেদের শো-রুমে আসি। এখানে এসে তার শিল্পীজীবন থেকে উদ্যোক্তা জীবনের গল্প জেনেছি। শিক্ষিত তরুণরা উদ্যোক্তা হলে সেখানে ভোক্তাদের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।
ফয়সাল আহমেদ বলেন, আমার ব্যবসার বড় পুঁজি আস্থা। মানুষ বিশ্বাস করে নিরাপদ পণ্য মানে নিও অর্গানিক বিডির পণ্য। ল্যাবের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে তা আমরা ভোক্তারের মাঝে সরবরাহ করি না।
দেশে ঢাকার পরে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে শুধু মধু পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। অনেক সহকর্মী আমাদের থেকে মধু পরীক্ষা করিয়ে নেন।