পরিস্থিতি বদলালে মানুষ বা প্রাণী কেন হঠাৎ নিজের আচরণ পরিবর্তন করে—এর পেছনের রহস্য খুঁজে পেয়েছেন জাপানের গবেষকেরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তারা দেখিয়েছেন, আচরণ বদলাতে বড় ভূমিকা রাখে মস্তিষ্কের একটি বিশেষ রাসায়নিক। এই গবেষণার ফল নেশা (আসক্তি) ও অবসেসিভ–কমপালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডি (একই কাজ বারবার করতে বাধ্য হওয়া মানসিক সমস্যা) বুঝতে সহায়ক হতে পারে।
জাপানের ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা ইঁদুরের ওপর এই গবেষণা চালান। ইঁদুরগুলোকে ভার্চুয়াল রিয়ালিটির (কম্পিউটার তৈরি কৃত্রিম পরিবেশ) একটি গোলকধাঁধায় চলাচলের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সঠিক পথে গেলে তারা খাবার পুরস্কার পেত। পরে হঠাৎ সেই পথ বদলে দেওয়া হয়। ফলে আগের মতো চললেও ইঁদুরগুলো আর পুরস্কার পায়নি।
এই পরিবর্তনের পর গবেষকেরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে আচরণগত ও রাসায়নিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। গবেষণায় দেখা যায়, এমন অবস্থায় মস্তিষ্কের স্ট্রায়াটাম নামের অংশে অ্যাসিটাইলকোলিন নামে একটি রাসায়নিকের নিঃসরণ বেড়ে যায়। স্ট্রায়াটাম মস্তিষ্কের সেই অংশ, যা অভ্যাস, প্রেরণা ও পুরস্কার–সংক্রান্ত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
গবেষকরা বলেন, যেসব ইঁদুরের অ্যাসিটাইলকোলিন বেশি বেড়েছে, তারা আগের ভুল পথ ছেড়ে নতুন পথ বেছে নিয়েছে। এই আচরণকে বলা হয় ‘লুজ-শিফট’ (ক্ষতি হলে সিদ্ধান্ত বদলানো)। আবার যখন ইঁদুরের শরীরে এই রাসায়নিকের উৎপাদন বন্ধ করা হয়, তখন তাদের আচরণ বদলানোর ক্ষমতা অনেক কমে যায়।
গবেষকদের মতে, অ্যাসিটাইলকোলিন অভ্যাস ভাঙতে এবং নতুন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এই গবেষণা ভবিষ্যতে নেশা, ওসিডি ও আচরণগত অন্যান্য সমস্যার চিকিৎসা বুঝতে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল