আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে এক বিশাল কৃষ্ণগহ্বর। এর নাম স্যাজিটারিয়াস। এতদিন বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, এই কৃষ্ণগহ্বরটি প্রায় নীরব ও নিষ্ক্রিয়। তবে নাসার একটি মহাকাশযান থেকে পাওয়া নতুন তথ্য জানাচ্ছে ভিন্ন কথা। গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক হাজার বছরে এই কৃষ্ণগহ্বর একাধিকবার অত্যন্ত শক্তিশালী বিকিরণ ছড়িয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশযান এক্সআরআইএসএম-এর মাধ্যমে। এটি জাপান, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ গবেষণা প্রকল্প। এই গবেষণা বিজ্ঞানীদের সামনে কৃষ্ণগহ্বরের অতীত আচরণ সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি খুলে দিয়েছে।
গবেষণা দলের প্রধান, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী স্টিফেন ডিকারবি জানান, তিনি এক্স-রে জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করলেও এমন ফলাফল কল্পনাও করেননি। তার মতে, এই আবিষ্কার গবেষণায় নতুন পথ দেখাচ্ছে।
কৃষ্ণগহ্বর নিজে কোনো আলো ছড়ায় না। কারণ এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এত বেশি যে আলোও ভেতর থেকে বের হতে পারে না। তবে কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে থাকা গ্যাস ও ধুলা প্রচণ্ড টানে এবং ঘর্ষণে অত্যন্ত গরম হয়ে যায়। তখন সেখান থেকে শক্তিশালী এক্স-রে (উচ্চ শক্তির আলো) বের হয়। স্যাজিটারিয়াস–এর ভর প্রায় ৪০ লাখ সূর্যের সমান হলেও আগে এমন তীব্র এক্স-রে বিকিরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এই ধারণা বদলে যায়, যখন গবেষকরা গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছে থাকা একটি বড় গ্যাসের মেঘের দিকে এক্সআরআইএসএম ঘুরিয়ে দেন। তারা দেখতে পান, ওই গ্যাসের মেঘটি আসলে অতীতে স্যাজিটারিয়াস থেকে বের হওয়া এক্স-রে প্রতিফলিত করছে। সহজভাবে বললে, মেঘটি এক ধরনের মহাজাগতিক আয়নার মতো কাজ করেছে।
২০২৩ সালে উৎক্ষেপণের পর এক্সআরআইএসএমের উচ্চ সংবেদনশীল যন্ত্র বিজ্ঞানীদের এক্স-রের শক্তি ও গঠন খুব নির্ভুলভাবে মাপতে সাহায্য করে। এতে অন্য সম্ভাব্য উৎস, যেমন কসমিক রে (মহাকাশ থেকে আসা শক্তিশালী কণা), বাদ দিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বিকিরণের উৎস ছিল কৃষ্ণগহ্বর নিজেই।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল