শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মার্চ, ২০২১ ২১:৫৬

সমতলে চা বিপ্লব

প্রতিদিন ডেস্ক

সমতলে চা বিপ্লব
Google News

পঞ্চগড় সীমান্তের ওপারে ভারতের শত শত চা বাগান। অথচ এপারে একই জমি অনাবাদি হিসেবে পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। ওপারে চা চাষ হলে এপারে হবে না কেন? ১৯৯৬ সালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশের পতিত জমিগুলোতে চা চাষের নির্দেশ দেন। ১৯৯৬ সালে পঞ্চগড়ে চা চাষের গোড়াপত্তন হয়। পরীক্ষামূলক চা চাষে সফলতার পর ২০০০ সাল থেকে শুরু হয় বাণিজ্যিকভাবে চায়ের চাষ। একের পর এক পতিত গোচারণ ভূমি ভরতে থাকে চায়ের সবুজে। গড়ে উঠেছে ছোট-বড় হাজারো চা বাগান। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি উদ্যোক্তাদের।

পঞ্চগড় এখন সমতলে চা চাষের মডেল। বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও সিলেটের পর পঞ্চগড় দেশের তৃতীয় চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। চা শিল্পকে এখন বলা হয়ে থাকে পঞ্চগড়ের সবুজ সোনা। পঞ্চগড়ে উৎপাদিত চা এখন চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও আরব আমিরাতে রপ্তানি হচ্ছে। সমতলের চা চাষ বদলে দিয়েছে হাজারো কৃষক ও বেকারের ভাগ্য। বদলে দিয়েছে এ এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন। এ বছর শুধু পঞ্চগড়েই এক কোটি কেজি তৈরি চা উৎপাদন হবে আশা করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০০০ সালের দিকে তেঁতুলিয়া টি কোম্পানি ও কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান চা চাষ শুরু করে। কয়েক বছরের মধ্যেই তেঁতুলিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ গোচারণভূমি চায়ের সবুজ পাতায় ভরে যায়। সৃষ্টি হয় সবুজের সমারোহ। চা বোর্ডের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় এগিয়ে আসেন স্থানীয় ক্ষুদ্র চা চাষিরা। পঞ্চগড়ে ঘটে চা চাষের নীরব বিপ্লব।

তন্দ্রাচ্ছন্নতা ও ক্লান্তি দূর করার এক অনন্য পানীয় হচ্ছে চা। এরই মধ্যে দেশের তৃতীয় চা-অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়। এক সময়ের পতিত গো-চারণভূমি এখন চায়ের সবুজ পাতায় পরিপূর্ণ। দেশের বাজারসহ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে পঞ্চগড়ের চা। চা-বোর্ড ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ফর টি ইন্ডাস্ট্রি অব বাংলাদেশ ভিশন-২০২১’ প্রকল্প গ্রহণ করায় এখানকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে চা উৎপাদনের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড়ে ক্ষুদ্র চা চাষিদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ অঞ্চলের মাটি পরিত্যক্ত থাকত বছরের পর বছর। পতিত জমি ব্যবহার করা হতো গোচারণভূমি হিসেবে। অথচ এই পতিত জমির পাশেই সীমান্তের ওপারে একই জমিতে চা চাষ করত ভারতীয়তা। তা দেখে চা চাষে আগ্রহ বাড়ে তেঁতুলিয়ার মানুষের। মাত্র ক’বছরেই তেঁতুলিয়া উপজেলার বিশাল গোচারণভূমি চায়ের সবুজ পাতায় ভরে যায়।

চা বোর্ডের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় এগিয়ে আসেন স্থানীয় ক্ষুদ্র চা ব্যবসায়ীরা। বাগান মালিকদের পাশাপাশি তারাও চাষ করতে শুরু করেন চা। পঞ্চগড়ে নীরবে ঘটে যায় চা চাষের বিপ্লব। প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এই চা বাগানে। আগে যেখানে নারীরা ঘর থেকে বের হতো না, সেই নারীরাই এখন চা-শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংসারের হাল ধরেছেন। জেলায় চা চাষ হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নয় মাসের আয়ের পথ তৈরি হয়েছে। হয়েছে স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানও। ফলে এই এলাকার জমির দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। বাগানগুলোকে কেন্দ্র করে আশপাশে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া চা-বাগান দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পঞ্চগড়ে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। এতে জেলার আগের চিত্র পাল্টে গেছে। বেড়েছে মাথাপিছু আয়। জীবনযাত্রার মানে এসেছে পরিবর্তন।

তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাগান গুচ্ছগ্রামের চা শ্রমিক আব্বাস আলী বাংলানিউজকে বলেন, চা পাতা সংগ্রহ করার মজুরি হিসেবে কেজিপ্রতি আমরা ৩ টাকা পাই। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চা পাতা সংগ্রহ করে মজুরি পাচ্ছি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

পঞ্চগড় জেলায় ৫ হাজার ১৯৯.৭৯ একর জমি চা চাষের আওতায় রয়েছে। এ পর্যন্ত নিবন্ধিত ছোট চা-বাগান ৬৬২টি, অনিবন্ধিত প্রায় ৩ হাজার ৫০০। নিবন্ধিত বড় চা-বাগান ৭টি ও অনিবন্ধিত বড় চা-বাগান ১৮টি।