Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩১

আতঙ্কের ক্রাইস্টচার্চে টাইগাররা

মেজবাহ্-উল-হক

আতঙ্কের ক্রাইস্টচার্চে টাইগাররা

ভূমিকম্পের শহর ক্রাইস্টচার্চ! দাবানলের শহর ক্রাইস্টচার্চ! ২০১০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দুঃস্বপ্নের ভোরের কথা ক্রাইস্টচার্চবাসী কি কখনো ভুলতে পারবেন? শহরবাসী যখন গভীর ঘুমে (ভোর ৪টা ৩৫ মিনিট) ঠিক তখনই আঘাত হানে ৭.১ মাত্রার মরণঘাতী ভূমিকম্প। মুহূর্তের মধ্যে বাড়িঘর মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

বিভীষিকাময় সেই রাতের ক্ষত পূরণ হতে না হতেই ছয় মাসের মধ্যে আরেক ধাক্কা! ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে আবারও ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প। এ যাত্রায় ক্ষতি খানিকটা কম হলেও ক্রাইস্টবাসীকে রীতিমতো নিঃস্ব করে দেয়। দুই ভূমিকম্পে মোট ১৮৫ জন মানুষ প্রাণ হারান। ছোট-বড় দেড় হাজার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জোড়া ভূমিকম্পের চিহ্ন এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন ক্রাইস্টচার্চবাসী।

এরপর ২০১৭ সালের সেই ফেব্রুয়ারিতে আরেক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন নগরবাসী। এবার আঘাত হানে দাবানল। শহরের ২ হাজার ৭৬ হেক্টর জমি পুড়ে যায়। সাত বছরের মধ্যে ভয়াবহ তিন দুর্যোগের পর ক্রাইস্টচার্চ হয়ে যায় আতঙ্কের নগরী। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নিউজিল্যান্ডের এই শহরে এখনো আতঙ্ক নিয়েই বসবাস করছেন মানুষ। তবে যাদের সুযোগ আছে তারা দ্বীপরাষ্ট্রটির অন্য শহরকে বেছে নিচ্ছেন বসবাসের জন্য।

আতঙ্কের এ নগরীতেই বাংলাদেশের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। নেপিয়ারে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টাইগাররা হেরে যাওয়ায় ক্রাইস্টচার্চের ম্যাচটি হয়ে গেছে মাশরাফিদের জন্য ‘ডু অর ডাই’! জিতলে ডানেডিনে ফুরফুরে মেজাজেই যেতে পারবেন টাইগাররা। আর হারলেই স্বপ্নভঙ্গ। মাশরাফিরা এবার নিউজিল্যান্ড সফরে গেছেন আগামী বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেÑ বিশ্বকাপের জন্য ভালো প্রস্তুতি হবে এই ভেবে। যদিও এর আগে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের জয়ের কোনো রেকর্ড নেই। তবে এবার সিরিজ জয়ের আশায় নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছেন মাশরাফি-তামিম-মুশফিকরা।

জিতলে একদিকে যেমন সিরিজে ১-১ সমতা আসবে, সেই সঙ্গে সৃষ্টি হবে নতুন ইতিহাস। ক্রাইস্টচার্চে এর আগে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছে লাল-সবুজরা। একটি ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে, আরেকটি হ্যাগলে ওভালে। ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে ২০১০ সালে বাংলাদেশ হারলেও ব্যবধান খুব বেশি ছিল না। সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে জয়ের পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত টাইগাররা হেরেছিল ৩ উইকেটে।

সেই ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছিলেন ইমরুল কায়েস। সাকিব দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করার পর বল হাতেও নিয়েছিলেন ৪ উইকেট।

ক্রাইস্টচার্চের আরেক ভেন্যু হ্যাগলে ওভালে সবশেষ সফরে ২০১৬ সালে একটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। হেরেছে ৭৭ রানের বিশাল ব্যবধানে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম ব্যাট করে ৩৪১ রান করেছিল স্বাগতিকরা। কিউই তারকা টপ লাথাম খেলেছিলেন ১৩৭ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস। সেই ম্যাচেও অলরাউন্ড পারফর্ম করেছিলেন সাকিব। ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ ৫৯ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চে সফল তিন তারকা (সাকিব, ইমরুল, মোসাদ্দেক) কেউ নেই এই দলে। ইমরুল ও মোসাদ্দেক ওয়ানডে দলেই সুযোগ পাননি, আর সাকিব হাতের ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়েছেন। ক্রাইস্টচার্চের ক্রিকেট ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতীয় ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারের নাম। জোড়া ভূমিকম্প ও দাবানলের আগে তো ক্রাইস্টচার্চে সাইক্লোন বইয়ে দিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটিং জিনিয়াস। ২০০৯ সালের ৮ মার্চ ছিল ব্ল্যাক ক্যাপস বোলারদের কাছে এক বিভীষিকাময় দিন। ১৩৩ বলে হার না মানা ১৬৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন টেন্ডুলকার। ক্রাইস্টচার্চে ওয়ানডের ইতিহাসে এটাই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ওই ম্যাচে ভারত ৩৯২ রান করেছিল। দলগতভাবে যা সর্বোচ্চ রানের স্কোর। শচীনের রেকর্ডটি ছিল ক্রাইস্টচার্চের ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে। যে মাঠে অনুষ্ঠিত শেষ পাঁচ ওয়ানডের মধ্যে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচেই হেরেছে। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও পাকিস্তান। ক্যারিবীয়রা তো ২০০৯ সালে কিউইদের হারায় ৫ উইকেটের ব্যবধানে। এ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচে পাকিস্তান জিতেছিল ৪৩ রানের বড় ব্যবধানে।

ল্যাঙ্কাস্টার পার্ক কিউইদের কাছে এক দুঃস্বপ্নের নাম। তাই সেখানে ২০১১ সালের ভূমিকম্পের পর আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন করেনি ব্ল্যাক ক্যাপসরা। তবে বাংলাদেশ খেলছে হ্যাগলে ওভালে। এটি কিউইদের কাছে খুবই পয়মন্ত এক ভেন্যু। এখানে এর আগে ৯ ওয়ানডে খেলে ৮টিতেই জিতেছে স্বাগতিকরা। তবে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা পেতে পারে সব শেষ ম্যাচটি থেকে।

গত বছরের মার্চে যে ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছিল নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকদের আরও একবার হতাশ করে দেওয়াই মাশরাফির লক্ষ্য। তবে এটা তো ঠিক যে জিততে হলে নিজেদের সেরা উজাড় করে দিতে হবে। তা কি পারবেন মাশরাফিরা?


আপনার মন্তব্য