Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ মার্চ, ২০১৯ ২২:৫১

রানের পাহাড়ে চাপা টাইগাররা

মেজবাহ্-উল-হক

রানের পাহাড়ে চাপা টাইগাররা
বাংলাদেশের বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরি হাঁকানো নিউজিল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান জিত রাভাল ও টম লাথাম (ব্যাট উঁচিয়ে ধরা) -এএফপি

অফস্ট্যাম্পের বেশ বাইরে বল ফেললেন মেহেদী হাসান মিরাজ। হেনরি নিকলস বলটি দেখেশুনে ছেড়ে দিলেন। ভাবলেন, এত বাইরের বল খেলে কী লাভ? কিউই ব্যাটসম্যান যখন ব্যাট শো করলেন, মুহূর্তের ব্যবধানে উড়ে গেল বেলস! পেছনে তাকিয়ে যেন রীতিমতো  বোকা বনে গেলেন নিকলস। সেডন পার্কে দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকালের এই ছবিটি পুরো দিনের ম্যাচের প্রতিচ্ছবি নয়। দ্বিতীয় দিনে বলার মতো তেমন কোনো পরিস্থিতিই তৈরি করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। নিকলসের উইকেট নেওয়া স্পিনার মিরাজও ৩১ ওভারে দিয়েছেন ১৪৯ রান। যেখানে সবুজ ঘাসের উইকেটে কিউই পেসাররা বাউন্সার দিয়ে টাইগার ব্যাটসম্যানদের নাকাল করে ছেড়েছেন সেখানে ব্যর্থ বাংলাদেশের পেসাররা। তিন পেসার আবু জায়েদ রাহী, খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেন মিলে ৬৬ ওভারে দিয়েছেন ২২৬ রান। কোনো উইকেটও নিতে পারেননি। কোনো উপায়ন্তর না দেখে ‘অনিয়মিত’ বোলার মিডিয়াম পেসার সৌম্য সরকারের ওপরই ভরসা রাখতে হয় অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। সৌম্য অবশ্য নিরাশ করেননি। দ্বিতীয় দিনে পতন ঘটা দুই উইকেটের মধ্যে দুটিই নিয়েছেন তিনি। নিয়মিত বোলার না হয়েও সৌম্যকে দিয়ে ১৯ ওভার বল করিয়েছেন অধিনায়ক।

দিনের সেরা উইকেটটি নিয়েছেন সৌম্য। কিউই ওপেনার টম লাথামকে ফিরিয়ে দিয়েছেন ১৬১ রানে। আরেক তারকা ব্যাটসম্যান রস টেলরকে তো দুই অঙ্কের কোটাতেই পৌঁছাতে দেননি। ব্যক্তিগত ৪ রানের মাথায় তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেছেন। নিউজিল্যান্ডের আরেক ওপেনার জিৎ রাভালকে ১৩২ রানে ফিরিয়ে দিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ নিজেই। গতকাল মাত্র ১ ওভারই বোলিং করেছেন তিনি। আগের দিনের ৮৬ রানের সঙ্গে গতকাল আরও ৩৬৫ রান যোগ করেছে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় দিন শেষে তাদের স্কোর ৪ উইকেটে ৪৫১। রানের পাহাড়ে চাপা পড়েছে টাইগাররা। রাভাল ও লাথামের সেঞ্চুরির পর কেন উইলিয়ামসন রয়েছেন শতকের পথে। কিউই অধিনায়ক অপরাজিত রয়েছেন ৯২ রানে। দুই ওপেনারই রানের পাহাড়ে নিয়ে গেছেন নিউজিল্যান্ডকে। রাভাল ও লাথামের রানের যোগফল ২৯৩। যদিও তাদের উদ্বোধনী জুটিটি ছিল ২৫৪ রানের। লাথাম ২৪৮ বল থেকে করেছেন ১৬১। তার ইনিংসে ছিল ১৭টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা। স্ট্রাইকরেট ৬৪.৯১। পারফেক্ট টেস্ট ইনিংস। রাভালও খেলেছেন ২২০ বল। ১৯টি চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। যেখানে বাংলাদেশ পুরো দল মিলে খেলেছে ৫৯.২ ওভার, সেখানে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনারই খেলেছেন ৭৮ ওভার। সাদা পোশাকে রান করা যেমন জরুরি, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ উইকেটে টিকে থাকা। যে কাজটি খুব ভালোভাবেই করছেন কিউই ব্যাটসম্যানরা। লাথাম ও রাভালের উদ্বোধনী জুটি নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসেই তৃতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। তবে গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি। ১৯৭২ সালে জার্ভিস ও টার্নার মিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জর্জটাউনে করেছিলেন ৩৮৭ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটিটি শতাব্দী পুরনো (১৯৩০ সালে)।

ভারতীয় বংশো™ভূত জিৎ রাভালের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি এটি। এর আগে ১৬ টেস্টে তিনি ৭টি হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। আরেক ওপেনার লাথামের নবম সেঞ্চুরি এটি। এ নিয়ে সর্বোচ্চ চতুর্থবারের মতো ১৫০ প্লাস ইনিংস খেললেন এই কিউই তারকা।

১৩ বছর পর সেরা দুই ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানকে একসঙ্গে একাদশের বাইরে রেখে খেলতে নেমে বাস্তবতা খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করেছে লাল-সবুজরা। এবার বোলিংয়ে টের পাচ্ছে ‘কত ধানে কত চাল’! কেননা বোলিংয়েও যে নেই সেরা দুই বোলার! ফিটনেসের কারণে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে প্রধান বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে। তা ছাড়া বল হাতেও তো সেরা সাকিব। এই দুই বোলারের অভাব কোনোক্রমেই পূরণ করতে পারছে না বোলিং আক্রমণ বিভাগ।  সে কারণেই কিনা নিয়মিত বোলারদের চেয়ে অনিয়মিত বোলার সৌম্য সরকারের ওপরই বেশি ভরসা করছেন অধিনায়ক।

পেসাররা যে কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করতে পারেননি তা স্টিভ রোডসের কথাতেই পরিষ্কার, লেগ স্ট্যাম্পে অনেক বেশি বল করেছি আমরা। শট বল করার পরিকল্পনাও কাজে লাগেনি। সন্ধ্যার সেশনে অনেকটাই পরিণত হয়ে উঠেছিল বোলাররা। ইবাদত আমাকে সন্তুষ্ট করেছে এবং আমরা জানি খালেদ ও রাহীও ভালো করতে সক্ষম। সৌম্যও এখানে বেশ ভালো করেছে। তবে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা তাদের জাতটা চিনিয়েছে। তাদের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান অনেক বেশি ভালো খেলেছে। কেন উইলিয়ামসন অনেক পরিপক্ব। সে খুব ভালো করে জানে, ফ্লাট উইকেটে টিকে থেকে কীভাবে রান করতে হয়।’ এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য একটাই দ্রুত নিউজিল্যান্ডের বাকি ছয় উইকেট শিকার করা। কিন্তু টাইগার বোলাররা যেভাবে দ্বিতীয় বোলিং করেছেন, তৃতীয় দিনেও এভাবে চলতে থাকলে কিউইদের অলআউট করা কঠিনই! সেক্ষেত্রে প্রতীক্ষা করতে হবে, কখন উইলিয়ামসন ইনিংস ঘোষণা করেন?

 


আপনার মন্তব্য