শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুন, ২০১৯ ২২:৫৯

রোডসের কথায় তোলপাড় আইসিসি

বৃষ্টিতে সর্বনাশ, মানতে পারছেন না রোডস

‘আইসিসি একটা দরিদ্র প্রতিষ্ঠান। বিশ্বকাপের মতো এত বড় ইভেন্ট নিয়েও তারা কতটা উদাসীন। এরা শুধু আমাদের স্বপ্ন এবং আবেগ নিয়ে খেলা করছে। এই বিশ্বকাপের জন্য আমরা চার বছর ধরে অপেক্ষা করি। সত্যিই কি আইসিসি জানতো না, এই সময় ইংল্যান্ডের আবহাওয়া কেমন থাকে?’

-ক্ষোভ প্রকাশ করে আইসিসির ফেসবুক ফ্যানপেজে কমেন্টে লিখেছেন সৌমিক ইসলাম!

নাজমুল হক শায়ন্ত নামে একজন রসিকতা করে লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য ভেন্যু হিসেবে আইসিসি চমৎকার একটি সুইমিং পুল নির্বাচন করেছে। চিন্তার কারণ নেই তবু আমরা তোমাদেরকে সমর্থন দেব।’ রাজেস নীল নামে একজন লিখেছেন, ‘আমরা কি এই কাভারে ঢাকা উইকেট দেখার জন্য ৪ বছর ধরে অপেক্ষা করি? এই ইভেন্ট শেষ এখন সামনের বিশ্বকাপ নিয়ে ফোকাস কর যাও।’ আরিফুল ইসলাম লিখেছেন, ‘এখন আইসিসির উচিত জল-ক্রিকেট চালু করা।’ 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটিকে রীতিমতো ধুয়ে দিচ্ছেন ক্রিকেটামোদীরা! ব্রিস্টলে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর আইসিসির ফেসবুক ফ্যান পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে হাজার হাজার মন্তব্য জমা পড়েছে। 

তবে ক্রিকেটবিশ্ব তথা আইসিসিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে বাংলাদেশের কোচের এক মন্তব্যে! পয়েন্ট হারানোর কষ্টে ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ডে বলেছিলেন স্টিভ রোডস, ‘আমরা চাঁদে মানুষ পাঠাতে পারি, কিন্তু এত বড় একটা টুর্নামেন্টে রিজার্ভ ডে রাখতে পারি না!’

রোডস তো অযৌক্তিক কিছু বলেননি! এই বিশ্বকাপ নিয়ে কতো স্বপ্ন থাকে দল ও সমর্থকদের। বৃষ্টির কারণে সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যাবে, তা তো হতে পারে না। খেলা হলে হেরে গিয়ে বিদায় নেওয়া সেটা অন্য কথা, কিন্তু বৃষ্টির কারণে সর্বনাশ হয়ে যাবে সেটা যেন মানতে পারছেন না রোডস।

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারিয়ে সেমিফাইনালের আশাটা যেন অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে। 

বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। টনটনের ছোট্ট মাঠে ক্যারিবীয়রা যে কী করবে কে জানে! টি-২০র সেরা দলটি টি-২০র মেজাজেই হয়তো ব্যাটিং করার চেষ্টা করবে। যদিও বিশ্বকাপের আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুই দুবার হারানোর অভিজ্ঞতা আছে। তবে সে দলে ছিলেন না আন্দ্রে রাসেল, ক্রিস গেইল, শিমরণ হিটমায়ারদের মতো তারকারা। ম্যাচটি নিয়ে দুশ্চিন্তা তো থেকেই যাচ্ছে। তাই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারানোটা বাংলাদেশের জন্য বড় ক্ষতিই  হয়ে গেল!

এই বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ হবে ৪৮টি। ফাইনাল ও দুই সেমিফাইনালে রিজার্ভ ডে থাকলেও গ্রুপ পর্বের ৪৫ ম্যাচে নেই। ব্রিস্টলে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি ছিল টুর্নামেন্টের ১৬তম ম্যাচ! এর মধ্যেই ৩ ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। এক ম্যাচে কার্টেল ওভারে খেলা হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরু হতে না হতেই এই অবস্থা! সামনে যে আরও কি হবে?

সে কারণেই হতাশ সমর্থকরা। যাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে তাদের কষ্টটা আরও বেশি। রিজার্ভ ডে নিয়ে স্টিভ রোডসের প্রশ্ন তোলাটা অস¦াভাবিক নয়। 

কেন রিজার্ভ নেই -এ নিয়ে বড়সড় বিবৃতি দিতে হলো আইসিসি-কে! ডেভিড রিচার্ডসনের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডে এর ব্যবস্থা করতে হলে টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য অনেক বেড়ে যাবে। তখন পুরো টুর্নামেন্টটা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা এক রকম অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। উইকেট প্রস্তুত, দলগুলোর যাত্রার সময়সূচি ও বিশ্রামের রুটিন, থাকার জায়গা, ভেন্যু ঠিক দিনে পাওয়া যাবে কি না, স্বেচ্ছাসেবক ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের প্রাপ্যতা ও উপস্থিতি, ব্রডকাস্ট সমস্যা হবে কি না - এসব কিছুর ওপর প্রভাব পড়বে তখন। তার ওপর যেদিন রিজার্ভ ডে রাখা হবে সে দিনও যে বৃষ্টি হবে না তারও তো কোনো নিশ্চয়তা নেই।’ বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ‘ইংল্যান্ডের আবহাওয়া অদ্ভুদ আচরণ করছে। গত দুদিনে আমরা যে বৃষ্টিপাত দেখেছি, জুন মাসের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বৃষ্টিপাত দেখেছি। এমনটা সাধারণত হয় না। ইংল্যান্ডে জুন মাস সাধারণত বছরের তৃতীয় শুষ্কতম মাস। ২০১৮ সালের জুনে মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টাতেই দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে বৃষ্টি হয়েছে ১০০ মিলিমিটারের মতো, যা খুবই আশ্চর্যজনক। তবে আইসিসির আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই, আমাদের মাঠকর্মী-অফিসিয়ালরা যথা সম্ভব চেষ্টা করেন যাতে কার্টেল ওভার হলেও ম্যাচটি মাঠে গড়ায়।’


আপনার মন্তব্য