Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৯ ২২:৫৩

পেশাদার ফুটবল

বদলে যাচ্ছে লিগের চেহারা

আগে মোহামেডান-আবাহনীর কোনো ম্যাচে হার নিয়ে আলোড়ন পড়ে যেত। এবার বসুন্ধরা কিংসকে ঘিরেও তেমনি আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বদলে যাচ্ছে লিগের চেহারা

পেশাদার লিগ নিস্তেজ থাকায় অনেক সাবেক তারকা ফুটবলার দাবি তুলেছিলেন ফুটবল বাঁচাতে পুনরায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরু করা উচিত। কিন্তু বাফুফে নিরূপায়, তারা তো ফিফার নির্দেশ উপেক্ষিত করতে পারে না। যাক আশার কথা যে আগে যাই হোক না কেন, এবার লিগে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে। লিগ ঘিরে আগ্রহ বেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। বদলে যাচ্ছে লিগের চেহারা। ভালো মানের খেলোয়াড় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ হচ্ছে। মাঠে উত্তেজনা বেশ বেড়েছে। উপচেপড়া না হলেও গ্যালারিতে দর্শক আসতে শুরু করেছে।

৭০ ও ৮০ দশকে লিগে লড়াই ছিল ত্রি-মুখী। শিরোপার লড়াই মোহামেডান, আবাহনী ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা যোগ হয়। পেশাদার লিগে শুরুতে আবাহনী-মোহামেডানের দাপট থাকলেও পরবর্তীতে মোহামেডান দুর্বল দলে পরিণত হলে শেখ রাসেল ও শেখ জামাল একটা অবস্থান নিয়ে নেয়। তবু লিগটা ছিল একতরফা। কেননা আবাহনী যেখানে ছয়বার শিরোপা জিতেছে। সেখানে শেখ জামাল তিন ও শেখ রাসেল মাত্র একবার। অন্যদের তো খবরই নেই। আর মোহামেডান শিরোপার বদলে এখন রেলিগেশন বাঁচাতে ব্যস্ত।

বসুন্ধরা কিংস চ্যাম্পিয়ন হলে অবশ্যই নতুনত্ব আসবে। লিগ নতুনভাবে জাগিয়ে তোলার পেছনে নবাগত বসুন্ধরা কিংসের কথা না বললেই নয়। পেশাদার লিগে অভিষেক আসরে ভালো লোকাল কালেকশনের পাশাপাশি উড়িয়ে আনে রাশিয়ায় বিশ্বকাপ খেলা কোস্টারিকার ড্যানিয়েল কলিনড্রেসকে, সঙ্গে ব্রাজিলের মার্কোস, কিরগিজস্থানের বখতিয়াকে। বসুন্ধরা মানসম্পন্ন বিদেশি আনার দেখাদেখি ঢাকা আবাহনী, শেখ রাসেল, সাইফ স্পোর্টিং ও শেখ জামাল এমনকি দ্বিতীয় পর্বে ঢাকা মোহামেডানও ভালোমানের বিদেশি আনে। আশি দশকের পর এবারই ঘরোয়া ফুটবলে মানসম্পন্ন বিদেশির দেখা মিলল। ভালোমানের খেলোয়াড় থাকলে দর্শকদের আগ্রহ ও মাঠে উত্তেজনা বাড়বে তার বড় প্রমাণ এবারের পেশাদার লিগ।

এতে দল যেমন লাভবান হয়েছে। দেশও উপকৃত হয়েছে। কিছুদিন আগেও জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা মাঠে হাফ টাইমের পর দম খুঁজে পেত না। এখন অবস্থা পরিবর্তন হয়েছে। পুরো ৯০ মিনিটই উজ্জীবিত হয়ে খেলতে পাচ্ছে। যার কারণে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। সম্ভব হয়েছে লিগে ভালোমানের বিদেশি আনার। সেরা একাদশে সুযোগ পেতে স্থানীয়রাও সমান তালে লড়ছে।

এবার লিগে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, অনেক দিন পর জয়-পরাজয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আগে মোহামেডান-আবাহনীর কোনো ম্যাচে হার নিয়ে আলোড়ন পড়ে যেত।

এবার বসুন্ধরা কিংসকে ঘিরেও তেমনি আলোড়ন তৈরি হয়েছে। শনিবার সিলেটে যে ম্যাচে জিতলে তিন ম্যাচ আগেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যেত সেখানে কি না শেখ রাসেলের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে। যে দল ২০ ম্যাচে ১৯ জয় নিয়ে অপরাজয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে তারা হারবে তা ছিল অবিশ্বাস্য। এই হারে কিংসের শিরোপা অনিশ্চিত হয়ে না পড়লেও তাদের হার নিয়ে তো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডানের ৪-০ গোলে বিজয়টাও লিগে চমক বলা যায়।

নতুন শক্তির উত্থান হচ্ছে বলে লিগে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এখানে বড় কৃতিত্ব ক্লাবগুলোর। কিন্তু আকর্ষণ বাড়াতে বাফুফে কি কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না?


আপনার মন্তব্য