শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৯

খেলার আড়ালে অন্য খেলা!

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলার আড়ালে অন্য খেলা!

মোহামেডান, ওয়ান্ডারার্স ও ভিক্টোরিয়া দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। খেলাধুলার বিরল সাফল্যে তিন ক্লাবই আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৪৮ সালে প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে প্রথম চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়া। ওয়ান্ডারার্স এক সময়ে দেশের সেরা ক্লাব ছিল। ফুটবলে ছয়বার লিগ ছাড়াও অসংখ্য ট্রফি জেতার কৃতিত্ব রয়েছে।

আর মোহামেডান তো এক ইতিহাস। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে সুনাম কুড়িয়েছে ঐতিহ্যবাহী দলটি। অথচ এখন রেলিগেশনে টিকতে লড়ে। যারা খেলাধুলার জন্য সবার বাহ্বা পাচ্ছিল। এখন তিন ঐতিহ্যবাহী ক্লাবই যেন লাইফ সাপোর্টে বেঁচে আছে। কর্মকর্তাদের একটাই কথা ফান্ডের কারণে এ দুর্দশা নেমে এসেছে। কেউ কেউ আবার একথা বিশ্বাসও করতেন। তা না হলে জনপ্রিয় হওয়ার পরও এসব ক্লাবের বেহালদশা হবে কেন?

খেলার বদলে ক্লাবে অন্য খেলা হয় বলেই এমন করুণদশা নেমে এসেছে। দলের পেছনে অর্থ ব্যয় না করে কিভাবে অনৈতিক অবস্থায় কর্মকর্তারা নিজেদের পকেট ভারী করবেন সে খেলাতেই মেতেছিল। মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া বা ওয়ান্ডারার্সের মতো দল না হলেও ক্রীড়াঙ্গনে ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুল, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংঘ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও মেরিনার্স দিলকুশাও পরিচিত হয়ে উঠেছিল। কারো কারো শিরোপা জয়ের রেকর্ডও রয়েছে। অথচ এখন আলোর বদলে অন্ধকারে হাঁটছে মতিঝিল পাড়া বা তা আশপাশের ক্লাবগুলো। একসময় ক্লাবে হাউজি, ওয়ানটেন হতো। এখান থেকেই ক্লাবের বড় আয়ও আসতো।

এখন আলোর বদলে অন্ধকারে হাঁটছে মতিঝিল পাড়া বা আশপাশের ক্লাবগুলো। একসময় ক্লাবে হাউজি, ওয়ানটেন হতো। এখান থেকেই ক্লাবের বড় আয়ও আসত। হাউজি ছাড়িয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে অধিকাংশ ক্লাবে ক্যাসিনোও খোলা হয়েছে। যা বাংলাদেশে পুরোপুরি অবৈধ। দেরিতে হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো বন্ধের অভিযানে নেমেছে।

হাউজি ছাড়িয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে অধিকাংশ ক্লাবে ক্যাসিনোও খোলা হয়েছে। যা বাংলাদেশে পুরোপুরি অবৈধ। দেরিতে হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো বন্ধের অভিযানে নেমেছে। এই অভিযান দেশজুড়েই প্রশংসিত হচ্ছে। যেসব ক্লাবে ক্যাসিনো চলে প্রতিদিনই নাকি কোটি কোটি টাকা আয় হয় । এত টাকা অথচ ক্লাবগুলোর বেহালদশা কাটছে না। ইয়ংমেন্স দিয়েই অভিযান শুরু। শুধু ক্যাসিনো নয় এর আড়ালে চলে মদ ও ইয়াবা ব্যবসা। কোনো কোনো ক্লাবে নারী ব্যবসাও চলে।

ইয়ংমেন্সের ফুটবলে বড় কোনো সাফল্য না থাকলেও অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার বের হয়েছে। বিস্ময় হলেও সত্যি যে দুবার চ্যাম্পিয়ন্সশিপ লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েও পেশাদার লিগে খেলেনি ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুল। বলা হয় এখানে মূল ফ্যাক্টর অর্থ। তাহলে ক্যাসিনো থেকে যা আয় হয় তা যায় কোথায়।

মোহামেডানের সদস্যসচিব লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, ‘আমরা নিরূপায়। রাজনৈতিক চাপে ক্যাসিনোর জন্য রুম ভাড়া দিয়েছি।’ তা আবার মানতে নারাজ দলের কিংবদন্তি ফুটবলার বাদল রায়,  ‘একদম ফালতু কথা। রাজনৈতিক কোনো চাপ নয়, লোকমান সাহেবই মোহামেডানের বড় চাপ। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বলেছেন, ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে মোহামেডানের উন্নয়নের কথা। তবু লোকমান সাহেব গুরুত্ব দেননি। অনেক আগেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি দায়িত্বে আছেন। তার কি উচিত ছিল না এজিএম ডেকে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দেওয়া। তাছাড়া লোকমান এখন রাজনৈতিক চাপের কথা বলছেন। যদি তাই হয় তাহলে তিনি বিসিবির পরিচালক হন কিভাবে? তা ছাড়া রাজনৈতিক চাপের কথা সদস্যদের তিনি জানাননি কেন?’

সাবেক তারকা ফুটবলার শেখ মো. আসলামের ক্যারিয়ারটা শুরু হয়েছিল ভিক্টোরিয়া থেকেই। তিনি বলেন, ‘এসব নামি-দামি ক্লাব কেন অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে তা বুঝতে পারলাম না। হাউজি চলে কিন্তু ক্যাসিনো কোনোভাবেই মানা যায় না। আমি বলব শুধু রাজনৈতিক নেতা নয়, ক্লাব কর্মকর্তাদেরও রিমান্ডে নেওয়া উচিত। এর সঙ্গে তারাও জড়িত।’

নন্দিত ফুটবলার আবদুল গাফফার বলেন, এসব ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে একশ্রেণি লোভী সংগঠকের কারণে। আমি ভাগ্যবান যে, বঙ্গবন্ধু যে ক্লাবের অধিনায়ক ছিলেন সে ওয়ান্ডারার্সে আমিও খেলেছি। আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় ওয়ান্ডারার্স, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা যেখানে ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখবে সেখানে অনৈতিক সব কাজ করে খেলাধুলায় বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। আমি চাই সরকারি উদ্যোগে এসব ক্লাবে ত্যাগী ও যোগ্য সংগঠকদের দায়িত্ব দেওয়া হোক।

 

 

 

 


আপনার মন্তব্য