শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:০৯

একাই লড়েছেন নাঈম

এমন ম্যাচেও কেউ হারে!

সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে হারলেও বড় প্রাপ্তি মোহাম্মদ নাঈম। এই ওপেনার তিন ম্যাচে ৪৭.৬৬ গড়ে করেছেন ১৪৩ রান

মেজবাহ্-উল-হক

এমন ম্যাচেও কেউ হারে!

ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের মধ্যে টি-২০ যে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার খেলা তা যেন বার বারই প্রমাণ করছে বাংলাদেশ! তা না হলে ভারতের বিরুদ্ধে এমন ম্যাচেও কেউ হারে?

জয়ের জন্য বাংলাদেশের টার্গেট ছিল ১৭৫ রান। ১২০ বলের ম্যাচে প্রথম ৭৭ বলে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করে ১১০ রান। বাকি ৪৩ বল থেকে দরকার ছিল ৬৫। হাতে ছিল ৮ উইকেট। নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের গ্যালারিতে তখন হয়তো চাপা কান্নাই বিরাজ করছিল। কারণ রান বন্যার এই ক্রিকেটে এই টার্গেট মোটেও কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু এমন সহজ টার্গেটেই পৌঁছাতে পারেনি টাইগাররা। হেরে যায় ৩০ রানে। এমনকি শেষের ৪৩ বল খেলতেই পারেনি বাংলাদেশ দল। ৪ বল আগেই গুটিয়ে যায় ইনিংস। স্কোর কার্ডে শেষের ৩৪ রান করতেই বাকি ৮ উইকেট শেষ! ২০১৬ সালে টি-২০ বিশ্বকাপেও ভারতের বিরুদ্ধে শেষ ৩ বলে মাত্র দুই রান করতে পারেনি বাংলাদেশ। গত বছর শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফির ফাইনালেও ভারতের বিরুদ্ধে যেন জেতা ম্যাচে হেরে যায় টাইগাররা। সেই ভারতের বিরুদ্ধে রচিত হলো আরও এক ট্র্যাজেডি!

নাগপুরে বাংলাদেশ হারলেও ৪৮ বলে ৮১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। তার ইনিংসে ছিল ১০ বাউন্ডারির সঙ্গে ২টি বিশাল ছক্কা। নাঈম যতক্ষণ বাইশগজে ছিলেন ততক্ষণ ম্যাচ ছিল টাইগারদের হাতের মুঠোয়।

মোহাম্মদ মিথুনের সঙ্গে তার ৯৮ রানের জুটিটি ছিল দেখার মতো। মাত্র ১২ রানে দুই উইকেট পতনের পর তারা জুটি গড়েছিলেন। মিথুন ২৯ বলে খেলেছেন ২৭ রানের ইনিংস। নিজে টি-২০র মেজাজে খেলতে না পারলেও দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন নাঈমকে। তবে নাঈম ও মিথুন ছাড়া এই ম্যাচে বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের কোটাতে পৌঁছাতে পারেননি।

বাকি ৯ ব্যাটসম্যানের রান- লিটন দাস ৯, সৌম্য সরকার ০, মুশফিকুর রহিম ০, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৮, আফিফ হোসেন ০, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ৯, শফিউল ইসলাম ৪, মুস্তাফিজুর রহমান ১ ও আল-আমিন হোসেন ০*। স্কোর বোর্ডের দিকে তাকালেই বোঝা যায়- এ ম্যাচে একাই লড়েছেন নাঈম। ব্যাটিংয়ের সময় বাকিরা ছিলেন কেবলমাত্র শো-পিচ!

বাংলাদেশের উইকেট পতন হয়েছে জোড়ায় জোড়ায়। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে পর পর দুই বলে লিটন ও সৌম্য আউট। ১৩তম ওভারের শেষ বল এবং ১৪তম ওভারের প্রথম বলে মিথুন ও মুশফিক সাজঘরে ফেরেন। টানা দুই বলে আউট হয়েছেন নাঈম ও আফিফও।

ভারতের ‘অখ্যাত’ বোলার দিপক চাহার মাত্র ৭ বলে ৬ উইকেট নিয়ে রাতারাতি হয়ে গেছেন বিখ্যাত। শেষে দুই ওভার মিলে তিনি হ্যাটট্রিকও করে ফেলেছেন। উত্তর প্রদেশের এই মিডিয়াম পেসার আগের ৬ টি-২০তে নিয়েছেন ৮ উইকেট। আর এই ম্যাচে বাজিমাত করে দিয়েছেন। চাহারের বোলিং ফিগারই এখন টি-২০র ইতিহাসে সেরা। এর আগে ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কার স্পিনার অজান্তা মেন্ডিস ৮ রানে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট।

নাগপুরের ম্যাচটি হতে পারত নাঈম শেখের। ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতে রূপকথা লিখতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় স্বপ্ন ভঙ্গ।

যদিও এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতের ইনিংসে ১৭৪ রান এসেছে শ্রেয়াস আইয়ারের দাপুটে ব্যাটিংয়ে। মুম্বাইয়ের এই তরুণ ব্যাটসম্যান মাত্র ৩৩ বলে করেছেন ৬২ রান। অথচ রানের খাতা খোলার আগেই ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন আইয়ার। আমিনুল বিপ্লব রসগোল্লার মতো ক্যাচটি মিস না করলে ম্যাচের চিত্র অন্যরকম হতে পারত। কাল নার্ভাসনেসের কারণে আরও একটি ক্যাচ মিস করেছেন। ‘ক্যাচ মিস মানেই তো ম্যাচ মিস!’ এছাড়াও বেশ কয়েকটি ফিল্ডিং মিস হয়েছে।

সব কিছুর পরও তো নাঈম শেখের বীরত্বে ম্যাচটি চলে এসেছিল হাতের মুঠোয়। জেতা ম্যাচটি যেন ভারতকে উপহার দিল টাইগাররা। এমন ম্যাচ জিতে ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মার কাছেই যেন অবিশ্বাস্য লাগছে! তাই তো ম্যাচ শেষে বললেন, ‘টি-২০র ইতিহাসে ভারত যে কয়টি ম্যাচে কামব্যাক করে জিতেছে তার মধ্যে সেরা হয়তো এটিই। আমি একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে বলছি, এই জয় এনে দিয়েছেন বোলাররা।’

সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে হারলেও বড় প্রাপ্তি মোহাম্মদ নাঈম। এই ওপেনার তিন ম্যাচে ৪৭.৬৬ গড়ে করেছেন ১৪৩ রান। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ানসহ নামি তারকা ব্যাটসম্যানরা যে সিরিজে খেলেছেন সেই সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত ২০ বছরের বাংলাদেশি এক তরুণের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়াটা চাট্টিখানি কথা নয়!


আপনার মন্তব্য