শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মে, ২০২০ ২৩:২৭

ক্রান্তিকালে ফুটবল

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে শঙ্কা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্রান্তিকালে ফুটবল

পেশাদার লিগ বাতিলের পর চ্যাম্পিয়নস লিগও মাঠে গড়াচ্ছে না। বাফুফের পুরো ক্যালেন্ডারই ভেস্তে গেছে করোনার দাপটে। ফুটবলে ক্রান্তিকাল চলছে। কবে আবার এ জনপ্রিয় খেলা মাঠে গড়াবে তা নিশ্চিত নয়। ধারণা করা হচ্ছে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে নতুন মৌসুম শুরু হবে। কিন্তু করোনার দাপট কমবে কি না সেটাই প্রশ্ন। শুধু ঘরোয়া নয় আন্তর্জাতিক ফুটবলে একই অবস্থা

করোনাভাইরাসে দেশের ফুটবলে করুণ হাল। সারা বিশ্বেই এক অবস্থা বলা যায়। তবুও দর্শকশূন্য অবস্থায় মাঠে গড়িয়েছে জার্মান বুন্দেসলিগা। ইতালি, ইংল্যান্ড ও স্পেনের লিগও মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে আবার ফরাসি, বেলজিয়াম ও স্কটল্যান্ডের লিগ সমাপ্ত ঘোষণা করে শীর্ষে থাকা দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতও একই পথে হেঁটেছে। বাংলাদেশের পেশাদার লিগ ও স্বাধীনতা কাপ বাতিল ঘোষণা করেছে বাফুফে। শুধুমাত্র ফেডারেশন কাপ দিয়েই মৌসুম শেষ হয়েছে। লিগ না হওয়ায় অনেক ফুটবলারই অসন্তুষ্ট। কিন্তু পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে লিগ বাতিলের ঘোষণা এসেছে। এ ছাড়া উপায়ও ছিল না। কেননা ক্লাবগুলোর অবস্থা তো আর ইউরোপের মতো শক্তিশালী নয়। ৪/৫টি ছাড়া বাংলাদেশের ক্লাবের অর্থনৈতিক হাল খুবই করুণ। অনেকটা ‘নুন আনতে পান্তা ফুরানো’র মতো।

পেশাদার লিগ বাতিলের পর চ্যাম্পিয়নস লিগও মাঠে গড়াচ্ছে না। বাফুফের পুরো ক্যালেন্ডারই ভেস্তে গেছে করোনার দাপটে। ফুটবলে ক্রান্তিকাল চলছে। কবে আবার এ জনপ্রিয় খেলা মাঠে গড়াবে তা নিশ্চিত নয়। ধারণা করা হচ্ছে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে নতুন মৌসুম শুরু হবে। কিন্তু করোনার দাপট কমবে কি না সেটাই প্রশ্ন। শুধু ঘরোয়া নয় আন্তর্জাতিক ফুটবলে একই অবস্থা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দ্বিতীয় লেগে মাঠেই নামতে পারেনি। এএফসি এ আসর স্থগিত ঘোষণা করেছে। ক্লাব পর্যায়ে এএফসির কাপেও একই হাল। চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বার্কোস ম্যাজিকে মালদ্বীপ টিসি স্পোর্টসকে পরাজিত করে। এপ্রিলেই কলিনড্রেসদের মালদ্বীপে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলার কথা ছিল। এ সময়েই করোনায় সব ভেস্তে যায়। এ নিয়ে কিংসের দুশ্চিন্তাও কম নয়। এএফসি এখনো ঠিক করতে পারেনি এ টুর্নামেন্ট হবে কি না। এমন অনিশ্চিয়তার মধ্যে বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সেপ্টেম্বরে ঢাকাতেই হওয়ার কথা। সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনে মহাসচিব আনোয়ারুল হক হেলালই সংশয় প্রকাশ করেছেন এ বছরে আসর হবে কি না। করোনায় সাফের সব কর্মকা- স্থগিত। তাই অন্য দেশগুলো সঙ্গে আলোচনাও করা যাচ্ছে না। জুনে ভিডিও কনফারেন্সে এএফসির সভায় বসবে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মকর্তারা। সেখানে হয়তো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে আলোচনা হবে। করোনাভাইরাস কেটে গেলেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর্দা উঠবে তা নিশ্চিত নয়। অনেক দেশই স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে দ্রুত খেলতে চাইবে না। সে ক্ষেত্রে আগামী বছরে জুনে টুর্নামেন্টে হলেও হতে পারে। নারী লিগও স্থগিত। সবকিছু মিলিয়ে করোনায় ফুটবলে করুণ হালই বলা যায়।

এমনিতেই ফুটবলে মান নেই। এখন দীর্ঘ সময় যদি খেলোয়াড়রা মাঠের বাইরে থাকেন তাহলে তো আরও পিছিয়ে পড়বেন জামাল-জীবনরা। বলা হচ্ছে খেলোয়াড়রা ছুটিতে থাকলেও তারা চর্চা ঠিকই করে যাচ্ছে। হোয়াটশ অ্যাপে কোচ জিমি ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যক্তিগত অনুশীলন করছে। এখন এই অনুশীলনে ফুটবলাররা কি উপকৃত হবে। মাঠেই যদি নামতে না পারে তা হলে ছন্দ কি ধরে রাখা যাবে? জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ছাইদ হাসান কানন বলেন, ফেডারেশনের যতই সমালোচনা করা হোক না কেন, এটা কিন্তু মানতে হবে ফুটবলে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল। অনেক দিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা লিগের দেখা মিলেছিল। অথচ তা কি না বাতিল করল। বাফুফের উচিত ছিল আরও অপেক্ষা করা। খেলা নেই বলে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেল ফুটবল। বাফুফে অবশ্য বলতে পারে ক্রিকেটও তো বন্ধ। কিন্তু ক্রিকেটাররা আবার জ্বলে ওঠার ক্ষমতা রাখে। ফুটবলাররা তা পারে না।


আপনার মন্তব্য