শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ মে, ২০২১ ২৩:৩৭

ব্যাটে-বলে পিছিয়ে টাইগাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ব্যাটে-বলে পিছিয়ে টাইগাররা
গতকাল মুশফিকের আউটের পরই বাংলাদেশের আশার প্রদীপ নিভে যায় -এএফপি

প্রথম তিন স্পিনার ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। সেই সুযোগে একাদশে জায়গা করে নেন প্রভীন জয়াবিক্রমে। অভিষেক টেস্ট খেলতে নেমেই বাজিমাত। ভেঙে ফেলেন সব রেকর্ড। তার বাঁ হাতের ঘূর্ণির মায়াজালে বিধ্বস্ত হয়ে পাল্লেকেলে টেস্টে ২০৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার খেলতে নেমে জয়াবিক্রমা সব আলো কেড়ে নিলেও তামিম ইকবাল, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদরা মেলে ধরেন নিজেদের। দুই টেস্ট ম্যাচ সিরিজে সেঞ্চুরি হয়েছে ৬টি। যার দুটি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। হাফসেঞ্চুরি ৯টি। সর্বোচ্চ ৩টি করেছেন তামিম ইকবাল। এছাড়া টাইগারদের পক্ষে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসও হাফসেঞ্চুরি করেছেন। চ্যাম্পিয়নশিপে ৫ উইকেট নিয়েছেন জয়াবিক্রমা এবং আরেকজন তাইজুল।

সিরিজের প্রথম টেস্টটি ড্র হয় ব্যাটসম্যানদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে। সেঞ্চুরি ছিল ৪টি। টাইগারদের পক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন নাজমুল শান্ত (১৬৩) ও মুমিনুল (১২৭)। ওই টেস্টে স্বাগতিকদের পক্ষে অধিনায়ক করুনারতেœ ডাবল সেঞ্চুরি(২৪৪) ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা সেঞ্চুরি করেন (১৬৬)। চ্যাম্পিয়নশিপে একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিটি আবার করুনারাত্নের। দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি করেন দুই লঙ্কান ওপেনার করুণারাত্নে ও থিরিমানে (১৪০)। লঙ্কান অধিনায়ক টানা দুই সেঞ্চুরি করে সিরিজের সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রাহক। ২ টেস্টের ৩ ইনিংসে তার রান ১৪২.৬৬ গড়ে ৪২৮ রান করেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান তামিম। টানা তিন ইনিংসে হাফসেঞ্চুরির ইনিংস খেলেন বাঁ হাতি ওপেনার। টানা দুই টেস্টে সাজঘরে ফিরেন নার্ভাস নাইনটিজের শিকার হয়ে। প্রথম টেস্টে ৯০ এবং দ্বিতীয় টেস্টে ৯২ রান করেন। চ্যাম্পিয়নশিপে তার রান ৯০, ৭৪*, ৯২ ও ২৪। দুই টেস্টে তার রান ৯৩.৩৩ গড়ে ২৯০। মুমিনুল রান করেছেন ৭৭.০০ গড়ে ২৩১। স্কোরগুলো ১২৭, ২৩*, ৪৯ ও ৩২। নাজমুল হোসেন শান্ত চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ইনিংসে ১৬৩ রান করেন শান্ত। সেঞ্চুরি করলেও দুটি শূন্যও রয়েছে তার। তার রান ১৮৯। মুশফিকুর রহিম ২ টেস্টের ৩ ইনিংসে রান করেছেন ১৪৮। এরমধ্যে একটি রয়েছে ৬৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। লিটন প্রথম টেস্টেও প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৫০। পরের স্কোরগুলো ৮ ও ১৭।

গোটা সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন ডান হাতি পেসার তাসকিন আহমেদ। পাল্লেকেলের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে গতি ও বাউন্সের সমন্বয়ে ব্যাটিসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলেছেন। আক্রমণাত্মক মেজাজে বোলিং করে দুই টেস্টে ৬৮.২ ওভার বোলিং করে ২৬৫ রানের খরচে নেন ৮ উইকেট। তবে সিরিজের সবচেয়ে সফল বোলার জয়াবিক্রমা। অভিষেক টেস্ট খেলতে নেমেই বাজিমাত করেন। প্রথম ইনিংসে ৯২ রানের খরচে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৮৬ রানে ৫ উইকেট। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের মধ্যে অভিষেক টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব গড়েছেন এই বাঁ হাতি স্পিনার। টাইগার স্পিনার তাইজুলও দারুণ বোলিং করেছেন। দ্বিতীয় টেস্টে শেষ ইনিংসে নেন ৫ উইকেট। চ্যাম্পিয়নশিপে তার উইকেট ৮টি। মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন ৪ উইকেট। তবে উইকেটশূন্য ছিলেন সুইং বোলার আবু জায়েদ রাহী।

করোনা কালে এটা ছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় সফর। প্রথম সফর ছিল নিউজিল্যান্ডে। প্রথমবার টেস্ট খেলেছে দেশের বাইরে। তবে ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে করোনাকালে টেস্ট সিরিজ খেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।