শীর্ষ ষোলোতে থাকতে পারেনি। তার পরও যে কীর্তি গড়েছে তা চমকই বলা যায়। আমিরুল ইসলাম ও রাকিবুল হাসানদের কথা বলছি। জুনিয়র বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে তারাই প্রথম বাংলাদেশের নাম লেখালেন। হকির যে কোনো বিশ্বকাপে এটিই ছিল প্রথম অংশগ্রহণ। চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত অভিষেক বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কী করেছে তা কারোর অজানা নয়। শেষ আটের লড়াইয়ে খেলতে পারেননি আমিরুলরা। এমনকি দ্বিতীয় ধাপের পজিশন ম্যাচেও জায়গা হয়নি। একে কি ভরাডুবি বলা যাবে? না, ২৪ দেশের অংশ নেওয়া অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপে ১৭তম স্থানে থেকেও বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।
আসর মাঠে গড়ানোর আগে ধারণা ছিল প্রতিটি ম্যাচেই গোহারা হারবে বাংলাদেশ। সেই ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করেছে। ছয় ম্যাচে যুবারা হেরেছে দুই ম্যাচ। তবে গোলের বন্যায় ভেসে যায়নি। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে। দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩-৩-এ ড্র করে রুখে দিয়েছে। আবার ১৭ থেকে ২৪তম পজিশন ম্যাচে টানা তিনটিতেই জয় পেয়েছে। এখানে আবার কোরিয়াকে ৫-৩ গোলে হারানোর কৃতিত্ব রয়েছে। দল হিসেবে বাংলাদেশ অভিষেক আসরে দুর্দান্ত না হলেও প্রশংসা করার মতো পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন যুবারা। তবে আমিরুল ইসলামের এক নৈপুণ্য বিশ্ব হকিকে বিস্মিত করেছে। যা স্বপ্নেও ভাবা যায় না। যা ম্যাজিককেও হার মানিয়েছে। তাঁর কীর্তিকে পৃথিবীর নতুন অষ্টম আশ্চর্য বললেও ভুল হবে না। হকির বিশ্বকাপ অভিষেক আসরে অনেকে হ্যাটট্রিক করেছেন। তাই বলে ছয় ম্যাচে পাঁচ হ্যাটট্রিক তা কী সম্ভব?
সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে হকির বিস্ময় বালক হয়ে গেছেন আমিরুল। ছয় ম্যাচে মাত্র একটিতে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি তিনি। টপ সিক্সটিনে না থেকেও ১৮ গোল করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। হকিতে যেখানে বিশ্বকাপ খেলাটাই ছিল স্বপ্ন সেখানে অভিষেক আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা আমিরুল। কোর্য়াটার খেললে তো নিশ্চিত বিশ্বসেরা হতেন। হকি তো নানা অনিয়ম আর অবহেলার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছিল। একবার যখন জেগেছে তখন আর কেউ পেছনে তাকাতে চান না। যুবাদের সাফল্য নিয়ে এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমিরুল, রাকিবুলরাও তা চান। এ জন্য তাদের কিন্তু বড় চাওয়া-পাওয়া নেই। সামান্য চাওয়া আর তা মাঠেই থাকতে চান তারা। কিন্তু তারা চাইলে তো হবে না। উদ্যোগ নিতে হবে কর্মকর্তাদের। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে ঘরোয়া হকির অনেক আসরই মাঠে গড়াচ্ছে না। আমিরুলরা মাঠে থাকতে চান, তাদের চাওয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে খেলাগুলোকে তো মাঠে নামাতে হবে। সাবেক তারকা খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল বলেছেন, হকিকে এগিয়ে নিতে এই তো সময়। মাঠে থাকুক খেলাটা, এক যুব বিশ্বকাপ ঘিরেই সব তৃপ্তি না মিঠে যায়। আজ কুর্মিটোলা মাটির শাহিন দ্বীপে আমিরুলদের সংবর্ধনা দিতে দিনভর অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে। হয় তো এখানে কিছু পুরস্কার, খাওয়া-দাওয়া বা নাচ-গান হবে। কর্মকর্তাদের উচিত হবে এমন উপযুক্ত দিনে হকিকে এগিয়ে নিতে নতুন কর্মসূচি দেওয়ার। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে আমিরুলদের এ সাফল্য অল্প দিনেই ম্লান হয়ে যাবে।