আজিজুল হাকিমদের টার্গেট টানা তৃতীয় শিরোপা। অনূর্ধ্ব-১৯ যুব এশিয়া কাপের গত দুই বছরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এবার টাইগার যুবারা অংশ নিচ্ছে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৩ উইকেটে হারিয়ে স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ পেরিয়েছেন জাওয়াদ আবরাররা। ‘মরুরাজ্য’ দুবাইয়ে গতকাল নেপালের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বড় জয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। টাইগার যুবারা বড় জয় পেয়েছে ইনিংসের অর্ধেকেরও বেশি ১৫১ বল হাতে রেখে। নেপাল যুবাদের বিপক্ষে গত আসরে ৫ উইকেটে জিতেছিল টাইগার যুবারা। আগামীকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতলেই গ্রুপ শীর্ষে থেকে সেমিফাইনাল খেলবেন আশরাফুল হাকিমরা। টানা দুই ম্যাচ হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে নেপাল। টানা দুই হারে বিদায় নিয়েছে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলও। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শ্রীলঙ্কান যুবারা ৪ বল হাতে রেখে ২ উইকেটে হারায় আফগান যুবাদের। আশরাফুল বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৩০ রানে গুটিয়ে দেয় নেপালকে। টার্গেটে ১৩১ রান। টানা দ্বিতীয় জয় পেতে টাইগার যুবারা একপর্যায়ে ৩ উইকেটে ১২৮ রান তুলে ফেলে। জিততে তখন প্রয়োজন মাত্র ৩ রান। তখনই স্পিন অলরাউন্ডার রিজান হোসেন ছক্কা মারেন ইউভরাজ খাত্রিকে। ওই ছক্কায় ম্যাচ শেষ। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে নেয়। গতকাল টস জিতে প্রতিপক্ষ নেপালকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান অধিনায়ক আশরাফুল। নেপালের দুই ওপেনার শাহিল কাপুর ও নিরাজ কুমার ৪০ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন ৬.৪ ওভারে। ওপেনিং জুটি ভাঙার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে ‘হিমালয় দুহিতা’ নেপাল। ৩১.১ ওভারে ১৩০ রানে গুটিয়ে যায়। দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন অভিষেক তিওয়ারি। তার ৪৩ বলের ইনিংসটিতে ছিল ২টি ছক্কা। এ ছাড়া আশিষ লুহার ২৩, শাহিল ১৮ ও নিরাজ ১৪ রান করেন। টাইগার যুবাদের পক্ষে শেখ পারভেজ জীবন সবাই উইকেট পেয়েছেন। পারভেজ ৩ ওভারে ১৫ রান খরচ করেন। সাদ, আজিজুল ও শাহরিযার ২টি করে উইকেট নেন। সবুজ ৩টি ও শাহরিয়া ১ উইকেট নেন।
১৩১ রানের টার্গেটে ৩.২ ওভারে ৩৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে জাওয়াদ ও কালাম সিদ্দিকী ৯২ রান যোগ করে জয়ের ভীত দেন ১৯.১ ওভারে। কালাম দলীয় ১২১ রানে আউট হন ব্যক্তিগত ৩৪ রানে খাত্রির বলে। বড় জুটি গড়লেও কালামের স্ট্রাইকরেট ছিল ধীরগতির ৫১.৫১। ৬৬ বলের ইনিংসটিতে ছিল ৪টি চার। এরপর অবশ্য রিজানকে নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান ম্যাচসেরা জাওয়াদ। ১০২.৯৪ স্ট্রাইকরেটে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ৬৮ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায়। আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ম্যাচসেরা হয়েছিলেন জাওয়াদ। ওই ম্যাচে তিনি ৯৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ১১২ বলে ৯ চার ও ৬ ছক্কায়। দিনের আরেক ম্যাচে আফগানিস্তান ৫০ ওভারে ২৩৫ রান করে। ম্যাচসেরা চামিকা হেমিটিগালার অপরাজিত ৫১ রানে ভর করে শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে ম্যাচ জিতে সেমিফাইালে উন্নীত হয়েছে। প্রথম ম্যাচে ‘দ্বীপরাষ্ট্র’ ৮ উইকেটে হারিয়েছিল নেপালকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ : ১৩০/১০, ৩১.১ ওভারে (সাহিল ১৮, নিরাজ ১৪, ভানশ ৪, সিব্রিন ৫, নিশ্চাল ০, আশোক ৫, আশিস ২৩, আভিশেক ৩০, ইউভরাজ ৬, বিপিন ০, দায়ানান্দ ২*। সাদ ইসলাম ৭-০-৩২-২, মো. সবুজ ৭-১-২৭-৩, শাহরিয়া আল আমিন ৫-০-২২-১, শাহরিয়ার আহমেদ ৫.১-২-১০-২, পারভেজ হোসেন জীবন ৩-০-১৫-০, আজিজুল হাকিম ৪-০-১৮-২)।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ : ১৩৫/৩, ২৪.৫ ওভার (জাওয়াদ আবরার ৭০*, রিফাত বেগ ৫, আজিজুল হাকিম ১, কালাম সিদ্দিকী ৩৪, রিজান হোসেন ১২*। দায়ানান্দ ৪-০-৩৮-০, আভিশেক ৫-০-২৫-১, বিপিন ৬-১-২০-০, ইউভরাজ ৩.৫-০-১৮-১, আশোক ৫-০-২৩-০, সিব্রিন ১-০-১০-০)।
ফল : বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা : জাওয়াদ আবরার