বিশ্ব ক্রিকেটে বাবা-ছেলে ক্রিকেট খেলেছেন, এমন রেকর্ড বহু রয়েছে। একসঙ্গে খেলার রেকর্ডও রয়েছে অনেকের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিবনারায়ণ চন্দরপল ও ছেলে তেজনারায়ণ চন্দরপল একসঙ্গে ম্যাচ খেলেছেন। দুজনেই ক্যারিবীয় জাতীয় দলে খেলেছেন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। বাংলাদেশের ক্রিকেটেও একসঙ্গে খেলার রেকর্ড রয়েছে। রকিবুল হাসান ও সাজিদ হাসান একসঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন। বিপিএলে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল। গতকাল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এমন ঘটনার দেখা মিলেছে। বিপিএলে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে বাবা-ছেলে একসঙ্গে ব্যাটিং করেছেন। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পক্ষে আফগানিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী ও ছেলে হাসান ইসাখিল একসঙ্গে ব্যাটিং করেছেন। নবী এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে পরিচিত মুখ। ছেলে ইসাখিল প্রথমবার খেলতে এসেছেন। এসেই বাজিমাত করেন দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে। ওপেনিংয়ে ৯২ রানের ইনিংস খেলেন ৬০ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায়। ইসাখিলের অভিষেক ম্যাচে নোয়াখালী ৪১ রানে হারিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালসকে।
ম্যাচ শুরুর আগে ছেলে ইসাখিলের মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দেন বাবা নবী। একজন ক্রিকেটারের অভিষেক ম্যাচে ক্যাপ পরানোর ঘটনা ক্রিকেটে পরিচিত ছবি। কিন্তু বাবার হাতে ছেলের মাথায় ক্যাপ, এটা বিপিএলে এতদিন ছিল বিরল ঘটনা। সেটাই গতকাল হয়েছে নোয়াখালী-ঢাকা ম্যাচে। ম্যাচে প্রথম ব্যাটিংয়ে নোয়াখালী ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান করে। নোয়াখালী আগের ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে চমক দেখায়। টানা ছয় হারের পর সপ্তম ম্যাচে প্রথম জয় পায় নোয়াখালী। পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নোয়াখালীর দুই ওপেনার ইসাখিল ও সৌম্য সরকার ৯.২ ওভারে ১০১ রানের ভিত দেন। দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা সৌম্য সাজঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ৪৮ রানে। ১৩ ওভারের শেষ বলে দলীয় ১১৯ রানে হাবিবুর রহমানের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে আসেন নবী। ছেলে ইসাখিল ব্যাটিং করছিলেন তখন ৫৮ রানে। এরপর দুজনে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫ ওভারে ৫৩ রান যোগ করেন। ১৮ ওভারের শেষ বলে নবী সাজঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ১৭ রানে। ১৩ বলের ইনিংসটিতে ছিল ২ চার। বাবার বিদায়ের ২ বল পর আউট হন ছেলে ইসাখিল। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে স্ট্রেইট ড্রাইভে লং অফে খেলতে যান ইসাখিল, কিন্তু বল ব্যাটের কানায় লেগে শর্ট পয়েন্টে আল মামুনের সহজ ক্যাচ হন। আউট হওয়ার আগে ইসাখিল ৯২ রানের ইনিংস খেলেন ৬০ বলে।