এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব থেকেই শোনা যাচ্ছে, বাফুফে জাতীয় দলের হেড কোচ হাভিয়ের কাবরেরার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নয়। এমন কি ফেডারেশনের কয়েকজন নির্বাহী সদস্য প্রকাশ্যে কাবরেরাকে না রাখার ব্যাপারে মত দিয়েছেন। একজন তো সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সামনে কাবরেকাকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্ট কমিটির বৈঠকেও নাকি আলোচনা হয় হামজা, সামিতদের কোচ হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না কাবরেরা। এতই যখন অপছন্দ তখন হেড কোচকে না করে দেওয়া হচ্ছে না কেন? ঘরের মাঠে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ খেলার পর বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে গেছে। নতুন বছরও শুরু হয়েছে। তারপরও কাবরেরার বিষয়ে বাফুফে মুখ খুলছে না কেন?
৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে গ্রুপের শেষ ম্যাচ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলবেন জামাল ভূঁইয়ারা। এর আগে প্রীতি বা প্রস্তুত ম্যাচও খেলতে পারে। এখন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে কাবরেরা দায়িত্ব পালন করবেন, না নতুন কাউকে দেখা যাবে? যে সিদ্ধান্ত হোক, দেরি হচ্ছে কেন সেটাই বড় প্রশ্ন। অথচ এ নিয়ে গুঞ্জনের শেষ নেই। কেউ বলছেন, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেই কাবরেরার হবে শেষ দায়িত্ব। কেউবা বলছেন, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত কাবরেরাকে রাখা হবে। এসব আলোচনা হলেও স্বয়ং জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যরা কিছুই জানেন না। বলা যায়, পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার ছাঈদ হাছান কানন বলেন, ‘যে সিদ্ধান্ত হোক তা তো বৈঠকেই হবে। সামনে ম্যানেজমেন্ট কমিটির যে সভা হবে সেখানে কোচের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।’
কাবরেরা থাকবেন না বিদায় করা হবে- এ নিয়ে কানন কোনো মন্তব্য করতেই রাজি হননি। বলেছেন, ‘যে সিদ্ধান্ত হোক না কেন তা তো মিডিয়াকে জানানো হবে। পুরো বিষয়টি দেখছেন সভাপতি। চূড়ান্ত কিছু করার সময় অবশ্যই সবার মতামত নেবেন। আসলে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’ তবে কাবরেরাকে ঘিরে নাকি মতবিরোধও দেখা গেছে। একপক্ষ চাচ্ছেন সিঙ্গাপুরের ম্যাচের আগেই কোচকে গুডবাই জানানো। আরেক পক্ষ চাচ্ছে কাবরেরাই কোচ থাকুক। তারা কোনোভাবে ব্যর্থ বলতে রাজি নয়।
কোন কোচের মাধ্যমে কোন শিরোপা
মিয়ানমার চ্যালেঞ্জ কাপ ১৯৯৫-অটোফিস্টার (জার্মানি)
নেপাল সাফ গেমস ১৯৯৯-সামির সাকি (ইরাক)
ভুটান কিংস কাপ ২০০৩-জর্জ কোটান (অস্ট্রিয়া)
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০০৩-জর্জ কোটান (অস্ট্রিয়া)
ঢাকায় এসএ গেমস ২০১০-জোরান দর্দেভিচ (সার্বিয়া)
কাবরেরাকে নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে বেশি সমালোচনা হচ্ছে হামজা, সামিত, জায়ান, ফাহমিদুলরা জাতীয় দলে খেলার পর। ওরা উঁচুমানের খেলোয়াড় বলেই বলা হচ্ছে তাদের কোচ হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না কাবরেরা। কথাটা একেবারে ফেলেও দেওয়া যায় না। এ নিয়ে সমাজমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় বইছে। কথা উঠেছে, কাবরেরা ব্যর্থ হলে যারা আগে ছিলেন তাদের মধ্যে কেউ কি সফল ছিলেন? ১৯৭৩ সাল থেকেই তো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলছে। অর্ধশতক বছর পেরিয়ে গেলেও কজন জাতীয় দলকে শিরোপা জিতিয়েছেন? সাফল্য বলতে তো মিয়ানমারে চার জাতি টুর্নামেন্ট, দুবার এসএ গেমসে সোনা জয়, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও ভুটান টুর্নামেন্টে শিরোপা জেতা- এই তো। যারা এসব ট্রফি শিরোপা জিতিয়েছেন তারা তো বিদেশিই ছিলেন। তারা হলেন অটোফিস্টার, সামির সাকি, জর্জকোটান ও জোরান।
৫৩ বছরে চার বিদেশিই তো বাংলাদেশকে পাঁচ ট্রফি এনে দিয়েছেন। এর মধ্যে আবার আবদুল সাদেকের নামও বলতে হবে। তাঁর প্রশিক্ষণেই ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ লাল দল প্রেসিডেন্ট গোল্ড কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। নামে লাল দল হলেও মূলত এটি ছিল জাতীয় দলই। বাকি খেলায় বিদেশি ও স্থানীয় কোচও তো জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা কি শিরোপা জিতিয়েছেন? ব্যর্থতার তালিকা যখন লম্বা তখন কাবরেরাকে ঘিরে এত সমালোচনা কেন? বরং ১০ বছরের জয়, ড্র ও পরাজয়ের পরিসংখ্যান বিচার করলে কাবরেরাকেই সফল বলা যায়।
তার মানে এই না যে, কাবরেরাকেই ধরে রাখা হোক। এটা বাফুফের কর্মকর্তারা ভালো জানেন। জাতীয় দলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার শেখ মো. আসলাম বলেন- ‘হামজা, সামিতরা আসার পর ফুটবলে জোয়ার এসেছে। চলতি বছরটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের বছর। তা আবার বাংলাদেশে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে সাফ না জেতায় হতাশা বিরাজ করছে। হামজারা খেললে শিরোপা জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। সুযোগ কাজে লাগাতে হলে কোচের বিষয়ে এখনই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হুট করে কাউকে বাদ দেওয়া যেমন ঠিক না, নতুন কাউকে নিয়োগ দিলেও ভেবেচিন্তে দিতে হবে।’