৪৭ বছর পর বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের দেখা মিলবে। পেশাদার লিগে কয়েকটি ক্লাব দ্বিতীয় লেগে পাকিস্তানিদের ঢাকায় আনতে তৎপর হয়ে উঠেছে। ব্রাদার্স ইউনিয়ন, পুলিশ এফসি ও পিডব্লিউডি পছন্দের খেলোয়াড়দের দলে টানছে তা অনেকটা নিশ্চিত। মধ্যবর্তী দলবদল চলমান। যা শেষ হবে ৩১ জানুয়ারি। এর মধ্যে পাকিস্তানিদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা। ৬ ফেব্রুয়ারি পেশাদার ফুটবল লিগ মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায়। লিগ কমিটি ফিকশ্চারও তৈরি করেছে। তবে তারিখ অনুযায়ী লিগ গড়াবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২১ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীদের প্রচার অভিযান শুরু হবে। এ সময়ে বাড়তি নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সে ক্ষেত্রে খেলার মাঠে পুলিশ না থাকারই সম্ভাবনায় বেশি। তাই লিগ পিছিয়ে যেতেও পারে।
লিগ কবে হবে তারই ওপর নির্ভর করছে নতুন বিদেশি বা পাকিস্তানিরা কখন আসবেন। সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী সাফের ভিতর সার্ক দেশের ফুটবলাররা যে দেশে খেলুক না কেন স্থানীয় হিসেবে ধরা হবে। চলতি লিগ থেকে এ নিয়ম চালু হয়েছে। প্রথম লেগে একাধিক দলে নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের ফুটবলারা খেলেছেন। দ্বিতীয় লেগে যোগ হচ্ছে পাকিস্তানি ফুটবলার। এর মধ্যে সাত পাকিস্তানির সঙ্গে নাকি চুক্তিও হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগে ক্লাবের নামসহ খেলোয়াড়দের ছবিও ভেসে বেড়াচ্ছে।
সাতজনের মধ্যে অধিকাংশরই পাকিস্তান জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ব্রাদার্সেই শোনা যাচ্ছে তিনজনের নাম। এরা হলেন-মোহাম্মদ ওমর হায়াত, আবদুল্লাহ শাহ ও শায়াক দোস্ত। পিডব্লিউডিতে আছেন উসমান আলি ও আলিউজাইরের নাম। পুলিশ এফসিতে আলমগীর গাজী ও মোহাম্মদ হায়ান খাট্টাক।
এ ব্যাপারে ব্রাদার্স ইউনিয়নের ফুটবল ম্যানেজার আমের খান বলেন, ‘প্রথম লেগে খেলা আমাদের নেপালিরা ফিরে যাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে আমরা পাকিস্তানি ফুটবলার খেলানোর চিন্তা করছি। তবে কারা আসছেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অথচ কেউ কেউ নাম ও ছবি দিয়ে বলার চেষ্টা করছেন দ্বিতীয় লেগে এরা ব্রাদার্সে খেলবেন। অবশ্য পাকিস্তানি আনব এটা ঠিক। আগে দেখি লিগ পূর্ব সিডিউল অনুযায়ী শুরু হয় কি না। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঢাকা লিগে প্রথম পাকিস্তানি খেলতে আসেন ১৯৭৭ সালে। সেবার কালা গফুর, আশিক আলি ও মোহাম্মদ হাবিব মোহামেডানে খেলতে আসেন। আবাহনীর বিপক্ষে কালা গফুর ও আশিক মাঠে নেমেছিলেন। তবে সুপার লিগের আগে তিনজনই ঢাকা ছেড়ে যান। ১৯৭৯ সালে মোহামেডানে উড়ে আসেন পাকিস্তানের আরেক জনপ্রিয় ফুটবলার আমির বক্স। ঢাকায় এসে অসুস্থ হওয়ার পর তাঁর পক্ষে মাঠে নামা আর সম্ভব হয়নি। এরপর ভিন্ন দেশের ফুটবলাররা ঘরোয়া লিগে খেললেও পাকিস্তানিদের আর দেখা মেলেনি। ৪৭ বছর পর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
১৯৪৮ সালে ঢাকা লিগের শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের ফুটবলাররা দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। ওমর, আবেদ, মুসা, গফুর বেলুচ, কালা গফুর, ইদ্রিস, আবদুল্লাহ, রসুল বক্স, আমির বক্স, খোদা বক্স, মাওলা বক্স, জব্বার, আইয়ুব দার, আবদুল্লাহ আকবর, আলি নেওয়াজরা ছিলেন ঢাকা লিগে জনপ্রিয় ফুটবলার।