বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্বের লড়াই। ছয় দলের টুর্নামেন্টে টিকে আছে চার দল। পয়েন্ট তালিকায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স শীর্ষে অবস্থান করছে। তারা ১০ ম্যাচ খেলে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। ১০ ম্যাচ খেলে ৬টি করে জয় পেয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রংপুর রাইডার্স। দুই দলেরই সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট করে। তবে রানরেটে এগিয়ে থাকায় দুই নম্বরে অবস্থান করছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ফলে তারা সরাসরি কোয়ালিফায়ার খেলার সুযোগ পাচ্ছে। আজ মিরপুর স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রাজশাহী ওয়রিয়র্সের মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম রয়্যালস। অন্যদিকে একই মাঠে দিনের প্রথম ম্যাচে এলিমিনেটরে খেলবে রংপুর রাইডার্স ও চার নম্বরে থাকা সিলেট টাইটান্স।
গ্রুপ পর্বে রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্সের লড়াই হয়েছে দুবার। ২ জানুয়ারি লড়াইয়ে রংপুর রাইডার্স জয় পায় ৬ উইকেটে। সিলেটের করা ১৪৪ রান ৭ বল হাতে রেখেই টপকে যায় রংপুর। তবে ১২ জানুয়ারি রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে দেয় সিলেট টাইটান্স। রংপুর ১১৪ রানে অলআউট হয়। ১৫ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় সিলেট। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে দুই দল ১-১ সমতায় ছিল। এবার কী অপেক্ষা করছে? লিটন দাসের নেতৃত্বে রংপুর রাইডার্স গত দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে। হারিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে হেরেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে। দুই দলের জন্য কঠিন এক লড়াই অপেক্ষা করছে। আজ জিতলেও ফাইনাল খেলার জন্য আরও একটা ম্যাচ খেলতে হবে রংপুর রাইডার্সকে। কোয়ালিফায়ারে পরাজিত দল হবে সেই ম্যাচের প্রতিপক্ষ।

মিরপুর স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যায় কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস। দুই দল গ্রুপ পর্বে দুবার মুখোমুখি হয়ে একবার করে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। ৯ জানুয়ারি সিলেটে চট্টগ্রাম রয়্যালস ২ উইকেটে পরাজিত করে রাজশাহীকে। ১৭ জানুয়ারি মিরপুরে চট্টগ্রামকে ৩ উইকেটে পরাজিত করে রাজশাহী। আজ কোয়ালিফায়ারে জিতবে কে? এ ম্যাচে জিতলেই সরাসরি ফাইনাল খেলার টিকিট পাওয়া যাবে। হারলেও সুযোগ থাকবে। এলিমিনেটরে বিজয়ী দলের সঙ্গে আরও একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে পরাজিত দল। সেই ম্যাচে জিতলে ফাইনালও খেলতে পারবে।
বিপিএলের গ্রুপ পর্ব শেষে ব্যাটে রংপুর রাইডার্সের তাওহিদ হৃদয় আছেন শীর্ষে। তিনি ১০ ম্যাচ খেলে ৩৭৮ রান করেছেন। একটি সেঞ্চুরি ছাড়াও আছে ৩টি হাফ সেঞ্চুরি। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের নাজমুল হোসেন শান্ত ১০ ম্যাচে ৩২৯ রান করে দুই নম্বরে অবস্থান করছেন। তিনি একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। এ ছাড়া শীর্ষ পাঁচে আছেন সিলেট টাইটান্সের পারভেজ হোসেন ইমন (৩২৯ রান), রংপুর রাইডার্সেল ডেভিড মালান (২৯৬ রান) এবং চট্টগ্রাম রয়্যালসের অ্যাডাম রশিংটন (২৫৮ রান)। বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের শরিফুল ইসলাম। তিনি ১০ ম্যাচে ২৩ উইকেট শিকার করে শীর্ষে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া শীর্ষ পাঁচে আছেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের রিপন মন্ডল (১৭ উইকেট), নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হাসান মাহমুদ (১৬ উইকেট), সিলেট টাইটান্সের নাসুম আহমেদ (১৪ উইকেট) এবং রংপুর রাইডার্সের মুস্তাফিজুর রহমান (১৪ উইকেট)। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সবার ওপরে আছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের মেহেদি হাসান। তিনি বল হাতে ১৩টি উইকেট শিকারের পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ১৫৪ রান। টুর্নামেন্টসেরা হওয়ার পথেও তিনিই এগিয়ে আছেন।