ঘরোয়া ফুটবলে প্রথম চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়া স্পোটিং। নতুন দল হিসেবে শেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ঢাকা প্রথম বিভাগ থেকে পেশাদার ফুটবল লিগ। ৭৮ বছরের ইতিহাসে ১৩ দলের শিরোপা জেতার রেকর্ড রয়েছে। এবার সংখ্যাটি ১৪ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে ফর্টিস এফসির। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে প্রথম লেগ শেষে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন কিংসের সঙ্গে সমান অবস্থানে রয়েছে ফর্টিস। ৯ ম্যাচ শেষে উভয় দলেরই পয়েন্ট ১৮। তবে গোল ব্যবধানে তারা দ্বিতীয় অবস্থানে। রহমতগঞ্জ ও পুলিশ এখনো লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এক দল ১৫ ও আরেক দল ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে ভালোভাবে টিকে আছে। তবে পারফরম্যান্সের বিচারে ফর্টিসের নামটি উচ্চারিত হচ্ছে বেশি।
দ্বিতীয় লেগ মাঠে গড়ানোর কথা ৬ ফেব্রুয়ারি। সেদিনই ফর্টিস তাদের ১০ নম্বর ম্যাচ খেলবে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের বিপক্ষে। ৯টি করে ম্যাচ বাকি আছে সবারই। ২০০৭ সালে শুরু হওয়ার পর পেশাদার লিগ এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কখনো হয়নি। শীর্ষ পাঁচ দলই একে অপরের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। শিরোপা যে কার ঘরে যাবে বলাটা সত্যিই কঠিন। নতুন না পুরান চ্যাম্পিয়নের দেখা মিলবে? এ নিয়ে কথা হচ্ছিল ফর্টিসের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আবদুল্লাহ ওমর সজীবের সঙ্গে। চট্টগ্রামের ছেলে সজীব শুরু থেকে এই দলে খেলছেন। চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ থেকে বিএফএল। কখনো দল ছাড়ার প্রয়োজন মনে করেননি। বললেন, ‘যেখানে আছি সেখানেই ভালো আছি। সুন্দর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ থেকে বের হতে মন চায় না।’
ফর্টিস এবার যে খেলাটা খেলছে তাতে শিরোপার স্বপ্ন দেখা স্বাভাবিক। তা কি পূরণ করা সম্ভব? কথাটি শেষ করার আগেই সজীব বললেন, ‘পেশাদার ফুটবল চ্যাম্পিয়ন মানেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। এর চেয়ে বড় গৌরব আর কি হতে পারে। এটা যে কোনো দলের জন্য স্বপ্ন। দেখেন আমরা যে পজিশনে আছি তাতে কি শিরোপার স্বপ্ন দেখাটা দোষের? তবে স্বপ্নে ডুবে থাকলে চলবে না। চ্যাম্পিয়নের জন্য চ্যাম্পিয়ন পারফরম্যান্স করতে হবে। আমার বিশ্বাস ফর্টিস তা পারবে। কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার ভাই আমাদের যে টিপস দিচ্ছেন তা কাজে লাগিয়ে এত দূর এসেছি। চমৎকার সমঝোতা ও টিম স্পিরিটিই আমাদের বড় শক্তি।’
তরুণ এ ডিফেন্ডার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে স্কোয়াডে ছিলেন। তবে খেলা হয়নি। সজীব বলেন, একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারে বড় প্রাপ্তি জাতীয় দলের জার্সিতে খেলা। দলে খেলাটাও কম পাওয়া নয়। এখন আমার ভাবনায় শুধুই ফর্টিস। কিংস ও আমাদের পয়েন্ট সমান হলেও অন্য দলকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তিন পয়েন্টের ম্যাচে যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। প্রথম লেগে যতটুকু পেয়েছি তা আমাদের অনুপ্রেরণা। লক্ষ্য থাকবে দ্বিতীয় লেগে আরও ভালো করা। এ ক্ষেত্রে ফর্টিসের কাছে প্রতিটি ম্যাচই ফাইনাল। যতটুকু সমস্যা রয়েছে তা কাটিয়ে উঠব আশা করি। একজন ইনজুরিতে আছেন, তার জায়গায় সাফের কোনো দেশের খেলোয়াড় আনার চিন্তা রয়েছে। লোকাল ও বিদেশি মিলিয়ে চমৎকার সমন্বয়। পা ওমর বাবু ও ওকাফোর তো দুর্দান্ত খেলছেন। ম্যানেজমেন্ট কোনো ত্রুটি রাখছে না। এখন আমাদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে স্বপ্নের শিরোপা। এখানে কথা একটাই- কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।