সময়ের হিসাবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরই মাঠে গড়াবে টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট। সবকিছু ঠিক থাকলে আসরে খেলত বাংলাদেশ। এখন কলকাতায় অবস্থান করতেন লিটন দাসরা। কিন্তু হয়নি। নিরাপত্তার ইস্যুতে ভারতের মাটিতে ২০ জাতির টি-২০ টুর্নামেন্ট খেলছে না বাংলাদেশ। অবশ্য সহআয়োজক শ্রীলঙ্কার মাটিতে ভেন্যু সরালে খেলত তারা। যেহেতু ২০ ওভারের বিশ্বকাপ খেলছেন না লিটনরা। আন্তর্জাতিক কোনো টি-২০ ক্রিকেটও নেই, সেহেতু বেকার সময় পার করার কথা টাইগার ক্রিকেটারদের। শুধু খেলার বাইরে থাকবেন লিটন-মুস্তাফিজুর রহমানরা, তেমন নয়। আর্থিকভাবে মোটা অঙ্কের ক্ষতিগ্রস্তও হবেন। ক্রিকেটারদের খেলার মধ্যে রাখতে এবং আর্থিক ক্ষতি পূরণ পুষিয়ে দিতে ধূমকেতু স্কোয়াড, দুরন্ত স্কোয়াড ও দুর্বার স্কোয়াড নিয়ে তিন দলের অদম্য টি-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। আড়াই কোটি টাকা প্রাইজমানির টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াচ্ছে আজ। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১ কোটি টাকা। রানার্সআপ ৪০ লাখ টাকা। টুর্নামেন্টসেরা ক্রিকেটার ৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ রান ও উইকেট সংগ্রাহক প্রতিজন পাবেন ৩ লাখ টাকা করে। মোটা অঙ্কের প্রাইজমানির টুর্নামেন্টে একটি দল খেলবে দুটি করে ম্যাচ। ম্যাচজয়ী দল পাবে ১০ লাখ। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্রিকেটার পাবেন ম্যাচপ্রতি ৫০ হাজার টাকা।
সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে লিটন দাসের ধূমকেতু স্কোয়াড ও আকবর আলির দুরন্ত স্কোয়াড। টুর্নামেন্টের আরেক দল দুর্বার স্কোয়াডের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিন দলে স্কোয়াডে খেলছেন দেশসেরা ৩৯ ক্রিকেটার। সব মিলিয়ে ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফসহ একটি স্কোয়াডের সদস্য সংখ্যা ২০ জন। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ৯ ফেব্রুয়ারি। আগামীকাল ধূমকেতু স্কোয়াডের প্রতিপক্ষ দুর্বার স্কোয়াড। ৭ ফেব্রুয়ারি ম্যাচ খেলবে দুর্বার ও দুরন্ত। ম্যাচগুলো খেলার পর ফের লম্বা ছুটি। তবে মার্চে ঢাকায় আসবে পাকিস্তান। পাকিস্তান সিরিজকে সামনে রেখে হয়তো অনুশীলন হবে ক্রিকেটারদের। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট বিসিএল শুরু হতে পারে। টুর্নামেন্টের দলগুলো গঠন করা হয়েছে টি-২০ বিশ্বকাপ স্কোয়াড, বিপিএলের পারফরম্যান্সকারী ও যুব দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে। লিটনের নেতৃত্বে ধূমকেতু স্কোয়াডে খেলছেন বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া সব ক্রিকেটার।
ধূমকেতু স্কোয়াডে খেলছেন মুস্তাফিজ। টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যে খেলছে না, তার মূল কারণ মুস্তাফিজ। আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলভুক্ত করেছিল। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বাধ্য করে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মুস্তাফিজকে বাদ দিতে। ৩ জানুয়ারি মুস্তাফিজকে বাদ দেয় কলকাতা। ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ আন্ষ্ঠুানিকভাবে জানিয়ে দেয় ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলবে না। বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর তিন সপ্তাহ পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলবে না। তবে টি-২০ বিশ্বকাপ অংশ নেবে। বাংলাদেশের পর পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা খায় আইসিসি। যাকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশ টি-২০ বিশ্বকাপ খেলছে না, সেই মুস্তাফিজ একটিবারের জন্যও কোনো কথা বলেননি মিডিয়ার মুখোমুখিতে। ধূমকেতু স্কোয়াডের গতকালের অনুশীলনে মিডিয়া চেষ্টা করেছে মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলতে। কিন্তু মুস্তাফিজ ব্যস্ত ছিলেন অনুশীলনে এবং সতীর্থদের সঙ্গে খুনসুটিতে। বাংলাদেশ যে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলছে না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্যই করেননি। তা দলের হেড কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন গতকাল মিডিয়ার মুখোমুখিতে মুস্তাফিজের বিষয়ে বলেন, ‘প্রশ্নটা আমি নিজেই মুস্তাফিজকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, আসলে তুমি কী ফিল করছো। ও বলেছে, লেট ইট গো। যেটা চলে গেছে, চলে গেছে।’
৭ ফেব্রুয়ারি টি-২০ বিশ্বকাপ শুরু। তখন অদম্য টি-২০ টুর্নামেন্টের খেলা চলবে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ৯ ফেব্রুয়ারি। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ৮ মার্চ।