অবিশ্বাস্য হাফ সেঞ্চুরিতে দুর্বার স্কোয়াডকে টানটান উত্তেজনার ম্যাচ ২ উইকেটে জেতান নুরুল হাসান সোহান। অবশ্য ম্যাচের জয়সূচক চারটি মারেন হাসান মাহমুদ। লিটন দাসের ধূমকেতু স্কোয়াডের ছুড়ে দেওয়া ১৫৭ রানের টার্গেট টপকাতে সোহান একাই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। দলের পুরো ভার কাঁধে নিয়ে দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরিতে দলের অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ টুর্নামেন্টের ফাইনালের আশা জাগিয়ে রাখেন। আজ সন্ধ্যায় মিরপুর স্টেডিয়ামে আকবর আলির দুরন্ত স্কোয়াডকে হারালেই ফাইনাল খেলবে দুর্বার স্কোয়াড। প্রতিপক্ষ হবে ধূমকেতু। যদি দুরন্ত জিতে যায়, তিন দলের পয়েন্ট সমান। তখন রানরেটে নির্ধারিত হবে ফাইনাল।
আড়াই কোটি টাকা প্রাইজমানির অদম্য টি-২০ কাপের ফাইনাল খেলতে জিতলেই হবে। এমন সমীকরণে দুর্বারের বিপক্ষে খেলেছে লিটনের ধূমকেতু। তিন দলের টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক লিটনের প্রত্যয়ী হাফ সেঞ্চুরিতে ধূমকেতু ৬ উইকেটে হারিয়েছিল দুরন্ত স্কোয়াডকে। ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটনের সঙ্গে সাইফ হাসান। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে দুর্বারের বিপক্ষে প্রথম ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান করে ধূমকেতু। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দুরন্ত স্কোয়াডের ১৪৩ রান টপকাতে ২টি হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস ছিল ধূমকেতুর। ফাইনালে ওঠার ম্যাচে ছিল না কোনো হাফ সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন ছন্দে থাকা অধিনায়ক লিটন। ৩৭ বলের ইনিংসটিতে ছক্কা না থাকলেও চার ছিল ৫টি। আগের ম্যাচে ৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন তিনি। আগের ম্যাচে ৫০ রানের ইনিংস খেলা সাইফ গতকাল ২৮ রান করেন ২০ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায়। শেষ দিকে শেখ মেহেদি হাসান ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ২৭ বলে ২ ছক্কায়। শামীম হোসেন পাটোয়ারী ১৭ রান করেন। বাঁ-হাতি ওপেনার তানজিদ তামিম শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। পারভেজ ইমন ১৩ রান করেন। লিটনের নেতৃত্বাধীন ধূমকেতু মূলত গঠিত হয়েছে টি-২০ বিশ্বকাপ না খেলা ক্রিকেটারদের নিয়ে। দুর্বারেও রয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার। দুর্বারের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন পেসার হাসান মাহমুদ ও বাঁ-হাতি স্পিনার তানভির ইসলাম। মিতব্যয়ী বোলিং করে ৪ ওভারে ২০ রানের খরচে নেন ১ উইকেট। সিমিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন নেন ১ উইকেট। ১৫৭ রানের টার্গেটে নুরুল হাসান সোহানের হাফ সেঞ্চুরিতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দুর্বার। সোহান ৭৬ রান করেন ৪৪ বলে ৪ চার ও ৬ ছক্কায়।
টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা হয়েছে মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টি-২০ বিশ্বকাপ না খেলায়। নিরাপত্তা অজুহাতে ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলছে না বাংলাদেশ। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিলে এই না খেলার শক্ত অবস্থান নেয় বাংলাদেশ। ক্রিকেটাররা যাতে আর্থিক ক্ষতিতে না পড়েন এবং খেলার মধ্যে থাকেন, সেজন্যই টি-২০ বিশ্বকাপ স্কোয়াড এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে তিনটি স্কোয়াড গঠন করেছে বিসিবি। প্রাইজমানি আড়াই কোটি টাকা। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১ কোটি টাকা এবং রানার্সআপ ৪০ লাখ টাকা। প্রতিটি ম্যাচজয়ী দল পাবে ১০ লাখ টাকা। টুর্নামেন্টসেরা ক্রিকেটার ৫ লাখ এবং সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও উইকেট শিকারি পাবেন ৩ লাখ টাকা করে।