এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলে এরই মধ্যে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন আফঈদা খন্দকাররা। চীনের বিপক্ষে তাদের খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন সমর্থকরা। বাংলাদেশের মেয়েদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করার ক্ষমতা দেখে বিস্মিত প্রতিপক্ষও। এবার আরও শক্ত প্রতিপক্ষ। আজ ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে উত্তর কোরিয়ার। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আট নম্বরে থাকা উত্তর কোরিয়ার মেয়েরা এবারের টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই খেলছে। অবস্থানের দিক দিয়ে দুই দলের মাঝে দুস্তর ব্যবধান। বাংলাদেশ ১১২ নম্বরে। উত্তর কোরিয়া ৮ নম্বরে। ১০৪ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে খেলতে পারাও এক বড় ব্যাপার। ছেলেদের ফুটবলে এতটা ব্যবধানে থাকা দলের সঙ্গে সাধারণত তেমন দেখা-সাক্ষাৎই হয় না। সেখানে বাংলাদেশের মেয়েরা এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে। এ ম্যাচে জয়-পরাজয়ের হিসেব কষা বাদ দিয়ে লড়াই করার মানসিকতাই গড়ে তুলেছেন আফঈদা খন্দকাররা। বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের পরের ম্যাচ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে। তারা অনেক শক্তিশালী দল। আগের ম্যাচের ভুলগুলো এ ম্যাচে যেন না হয় সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখব। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন ভালো খেলা উপহার দিতে পারি।’ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলা মানে, ব্যবধান যতটা কম রাখা যায়। এর কারণটাও স্পষ্ট। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার বলেছেন, ‘আমরা উত্তর কোরিয়ার মতো খুব শক্তিশালী একটি দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। তারা টেকনিক্যালি দারুণ দক্ষ এবং সত্যিই খুব প্রতিভাবান একটি দল। আপনি যদি তাদের ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকান, তবে বুঝতে পারবেন তারাই সম্ভবত এ টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট।’ উত্তর কোরিয়া ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে বলে মনে করেন বাটলার। তিনি বলেন, ’আমি প্রতিটি ম্যাচকে সেভাবেই দেখি যেভাবে তা সামনে আসে। আর আমি বারবার একই কথা বলতে চাই না। এখানে আকাশকুসুম কল্পনা নিয়ে আসিনি যে, আমরা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে যাচ্ছি। আমি এটা ভাবতে চাই যে প্রতিটি ম্যাচে এই মেয়েরা উন্নতি করবে, তারা শিখবে। এটি তাদের জন্য শেখার দারুণ সুযোগ।’ ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সব দিক থেকে ব্যবধান যতটা কমানো যায় সেদিকেই লক্ষ্য রাখবে বাংলাদেশ। চীনের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের সমর্থকরা দলে দলে স্টেডিয়ামে এসেছিলেন। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও দর্শকরা মাঠে এসে দলকে সমর্থন দিবেন বলে আশা করেন পিটার বাটলার। উত্তর কোরিয়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাপানের কাছে হেরেছিল। এরপর থেকেই অপরাজিত দলটি। দুই ম্যাচে রাশিয়ার সঙ্গে ড্র করেছে। বাকি ছয়টি ম্যাচ জয় করেছে বড় ব্যবধানে। উত্তর কোরিয়া ২০১০ সালের পর এএফসি এশিয়ান কাপে প্রথমবার খেলতে এসেছে। মাঝখানে নিষিদ্ধ ছিল দলটি। এরপর নিজেদের টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে নেয়। দীর্ঘদিন পর এশিয়ান কাপে খেলতে এসে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা শিরোপা জয় করতে চায়। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে বেশ সতর্ক থেকেই খেলতে নামবে দলটি।
উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সঙ হো বাংলাদেশ নিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। দলটির আক্রমণভাগে বেশ গতি আছে। বিশেষ করে ট্রানজিশন পিরিয়ডে (রক্ষণ থেকে আক্রমণ) তারা বেশ দক্ষ। সাধারণভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশ খুব গতিশীল একটি দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে, যাতে তারা গোল করার কোনো সুযোগ না পায়।’ ঋতুপর্ণার গতির দিকেও নজর রেখেছেন উত্তর কোরিয়া কোচ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আক্রমণভাগে তিনজন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী (ঋতুপর্ণা চাকমা) নিয়ে আমি সতর্ক, যিনি বাম প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারেন।’
এএফসি এশিয়ান কাপ
বাংলাদেশ-উত্তর কোরিয়া
সময় : সকাল ৮টা
ভেন্যু : ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়াম