প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া। বিশ্বের নারী ফুটবলে শীর্ষ ১০ দলের একটি। বিপরীতে ১০৩ ধাপ পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ। অসম এক লড়াইয়ে গতকাল অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার মেয়েরা। এ লড়াইয়ে প্রথম ৪৫ মিনিটে প্রতিপক্ষকে চমকে দিয়েছেন আফঈদা খন্দকাররা। নিজেদের গোলবার অক্ষত রেখেছে বাংলাদেশ। এতে ঘাবড়ে গেছে উত্তর কোরিয়ার মেয়েরা। তবে এএফসি এশিয়ান কাপে নারী ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছে পিটার বাটলারের দল।
চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের লড়াই দেখে মুগ্ধ হয়েছিল ফুটবলপ্রেমীরা। গতকাল উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও প্রথম ৪৫ মিনিটের লড়াইয়ে ছিল সেই মুগ্ধতা। তবে এরপরই সব বদলে যায়। উত্তর কোরিয়া নিজেদের শক্তিমত্তা দেখাতে শুরু করে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুটি গোল করে এগিয়ে যায় তারা। পেনাল্টি থেকে গোল করেন মিয়ঙ ইউ জঙ (৪৫+২ মিনিটে) এবং কিম কিয়ঙ ইয়ঙ (৪৫+৭ মিনিটে)। দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনটি গোল করে উত্তর কোরিয়ার মেয়েরা। ৬২ মিনিটে চা উন ইয়ঙ, ৬৪ মিনিটে কিম কিয়ঙ ও ৯০ মিনিটে কিম হাই ইয়ঙ গোল করেন। গোলের সংখ্যায় পরাজয়টা বড় হলেও এটাকেও ইতিবাচকভাবেই দেখতে চান বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার। তিনি ম্যাচের পর বলেন, ‘আমরা একটি অসাধারণ দলের বিপক্ষে খেলেছি। যা আমাদের জন্য ছিল শিক্ষণীয়। আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারিনি এবং ৫-০, ৬-০, ৭-০ গোলে হেরে যাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়।’ বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং ১১২, সেখানে উত্তর কোরিয়ার ৯। এমন দলের বিপক্ষেও বাংলাদেশ প্রথম ৪৫ মিনিট উত্তর কোরিয়াকে গোল করতে দেয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত পরাজয়টা ছিল বড়। অবশ্য বাটলার এতেও হতাশ নন। তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত বা হতাশ নই। আপনি কি প্রতিপক্ষ বিবেচনা করেছেন যাদের সঙ্গে ৩০-৪০ মিনিটেও ৪ গোল হয়ে যেতে পারত। চীন এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেললে আপনি গোল খাবেন-ই।’ বাংলাদেশ ম্যাচে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে গোল হজম করেছে বেশি। এ বিষয়ে বাটলার বলেন, ‘মনোযোগের অভাব একটা কারণ হতে পারে। আবার আপনাকে এটাও মনে রাখতে হবে আপনি উত্তর কোরিয়া, চীনের সঙ্গে খেলছেন। তারা কেবল ভালো ফুটবলারই নয়, উঁচু মানের অ্যাথলেটও। আমরা ভুল করবই এবং যাত্রাপথে শিখব।’
বাংলাদেশ চীনের বিপক্ষে বেশ কয়েকটা আক্রমণ করেছিল ঋতুপর্ণার একটা শট ছিল দৃষ্টিনন্দন। তবে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে কোনো আক্রমণেই যেতে পারেনি বাংলাদেশ। অন টার্গেট তো বটেই, অফ টার্গেট কোনো শটও ছিল না। অবশ্য বল দখলের লড়াইয়ে খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশ (৩৯-৬১)। উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সঙ হো বাংলাদেশের আক্রমণ রুখে দেওয়া নিয়ে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের তিন খেলোয়াড় পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। যারা আসলেই আমাদের জন্য শঙ্কার ছিল। সেই অনুযায়ী আমি পরিকল্পনা করেছিলাম। সেটা কাজে এসেছে, এজন্য তারা সেভাবে আক্রমণ করতে পারেনি।’ ম্যাচের শুরুর দিকে তিনবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠালেও গোল পায়নি উত্তর কোরিয়া। প্রথমবার ভিএআর দেখে হ্যান্ডবলের কারণে গোল বাতিল হয়। এরপর ফাউলের কারণে গোল দেননি রেফারি। তৃতীয়বার ছিল অফসাইড। বার বার গোল বাতিল হওয়ায় হতাশা কাজ করছিল উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে। ম্যাচসেরা হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা উত্তর কোরিয়ার মেয়ে চে উন বলেন, ‘আমরা গোল করছিলাম কিন্তু ভিএআরে বাতিল হয়ে যাচ্ছিল। এতে খানিকটা নার্ভাস ছিলাম।’ বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে হারলেও আফঈদাদের প্রশংসা করেছেন উত্তর কোরিয়ার কোচ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ভালো দল তারা রিকভারি পেলে আরও ভালো করবে।’ আরেক মাচে উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন।