আহমেদাবাদের সেই নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামেই ফের ফাইনাল খেলবে ভারত। দুই বছর আগের সেই ফাইনালের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে স্বাগতিক ভারতের। টানা ১০ ম্যাচ জিতে ফাইনাল খেলেছিল স্বাগতিক দল। সেই দলের সদস্য ছিলেন সূর্যকুমার যাদব ও যশপ্রীত বুমরাহ। তারা নিশ্চয় ভুলে যাবেন না অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের কথা। দুই বছর পর সেই নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামেই নামছে ভারত, নামছেন সূর্যকুমার, বুমরাহরা। সূর্যকুমার এবার ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। ভারত টানা দ্বিতীয়বার এবং একমাত্র দল হিসেবে সবমিলিয়ে চতুর্থবার ফাইনাল খেলছে। ২০০৭ ও ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন হলেও ২০১৪ সালে রানার্সআপ হয়েছিল। রবিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শিরোপা জয়ের ফেবারিট হয়েই খেলবে।
সূর্যকুমার, সঞ্জু স্যামসন, হার্দিক পান্ডিয়া, বুমরাহদের নিয়ে গড়া ভারত যথেষ্ট শক্তিশালী। তারা আমার দৃষ্টিতে রবিবারের ফাইনালে পরিষ্কার ফেবারিট। ভারত ফেবারিট হলেও নিউজিল্যান্ড ফেলে দেওয়ার মতো দল নয়। দলটির ব্যাটিং লাইন যথেষ্ট শক্তিশালী। বিশেষ করে দলটির দুই ওপেনার টেম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন নিজেদের দিনে যেকোনো বোলিংকে সাধারণ মানে নামিয়ে ফেলার ক্ষমতা রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেমিফাইনালেই সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৭০ রানের টার্গেটে নিউজিল্যান্ড অনায়াশে টপকে যায় সেইফার্ট-অ্যালেনের ১১৭ রানের জুটিতে। সেইফার্ট ৫৮ রানের ইনিংস খেললেও অ্যালেন ছিলেন অনবদ্য। যে আগ্রাসি মেজাজে ব্যাটিং করেছেন অ্যালেন, আমি পুরোপুরি মুগ্ধ। টি-২০ ক্রিকেটে এমন ব্যাটিংই করা উচিত। মাত্র ৩৩ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলেন। খেয়াল করলে দেখবেন, তিনি যে মেজাজে ব্যাটিং করেছেন তাতে বোলারদের নাভিশ্বাস উঠেছে। ব্যাসিকের বাইরে কিন্তু ক্রিকেটীয় শটস খেলেননি। বিশেষ করে ৭৬ রান থেকে ১০০ রানে যেভাবে পৌঁছেছেন চার-ছক্কা মেরে, এক কথায় অনবদ্য। তার খেলা দেখে আমার একবারও মনে হয়নি সে চাপে আছে। উল্টো চাপে রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলদের। এ দুজন ছাড়াও রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, মার্জ চ্যাপম্যান, ড্যারেল মিচেলরা দারুণ ব্যাটিং করছেন। এরা সবাই এক একজন ম্যাচ উইনার। বোলিংয়ে ম্যাট হেনরি ভালো করছেন। স্পিনে ম্যাকোঞ্চি ও সান্টানার ভালো করছেন। ভারতের সমস্যা হচ্ছে অভিষেক শর্মার ছন্দ হারানো। দারুণ ওপেনার। এবার টি-২০ বিশ্বকাপটা তার হতে পারত। আমার মনে হয়েছে বিশ্বকাপের চাপ নিতে পারেনি সে। সঞ্জু স্যামসন দারুণ খেলছেন। অথচ নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছিলেন না। সুযোগ পেয়েই দুই ম্যাচে যে রকম ব্যাটিং করেছেন, এক কথায় অনবদ্য। ভারতীয় ক্রিকেটারদের এটাই প্লাস পয়েন্ট। আমি মনে করি ফাইনালেও ভারতের ট্রামকার্ড হবেন স্যামসন। ভারতের পেসার জশপ্রীত বুমরাহ ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দারুণ পাকা বোলার। হার্দিক পান্ডিয়া ভালো বোলিং করছেন। আক্সার প্যাটেল ভালো স্পেন করছেন। ভারতের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, দলের সবাই দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেন। ইশান কিশান, সূর্যকুমার, শিভাম দুভে, তিলক ভার্মা দারুণ ব্যাটিং করছেন। আমার দৃষ্টিত দুই দলই ব্যাটিংনির্ভর। আহমেদাবাদের উইকেট ভালো। ফাইনালে লড়াই হবে দুই দলের ব্যাটারদের। ফিল্ডিংয়ে দুই দল সমানে সমান। ২০০-২১০ রান ফাইটিং স্কোর।