দুই বছর আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের দুঃসহ স্মৃতি ভুলে যেতে চাইবে দেড় শ কোটি নাগরিকের দেশ ভারত। আহমেদাবাদের দুঃস্বপ্নের সেই হারের স্মৃতি ভুলে নতুন ইতিহাস লেখার অপেক্ষায় সূর্যকুমার যাদব, জশপ্রীত বুমরাহ, সাঞ্জু স্যামসন, হার্দিক পান্ডিয়ারা। ২০২৩ সালে আহমেদাবাদে ১ লাখ ৩২ হাজার আসনের বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে রানার্সআপ হয়েছিলেন রোহিত শর্মারা। রোহিত বাহিনীর সদস্য ছিলেন সূর্যকুমার যাদব, জশপ্রীত বুমরাহ। দুই বছর পর সেই আহমেদাবাদেই ফের ফাইনাল খেলতে নামছে ভারত। এবারও খেলবেন সূর্যকুমার, বুমরাহ। ফাইনালের ফরম্যাট ও প্রতিপক্ষ দল পরিবর্তন হয়েছে। ওয়ানডের জায়গায় টি-২০ এবং প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার স্থলে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড।
ভারত ও নিউজিল্যান্ড; দুই দলের সামনে ইতিহাস লেখার হাতছানি। নিউজিল্যান্ড এর আগে একবার ফাইনাল খেলেছিল ২০ ওভারের বিশ্বকাপে। ২০২১ সালে রানার্সআপ হয়েছিল ট্রান্স-তাসমান সাগর পাড়ের দেশটি। মিচেল সান্টনার, টিম সেইফার্ট, ফিন অ্যালেনরা এবার ফাইনাল খেলছে প্রথমবারের মতো টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে। ভারত প্রথম দল হিসেবে চতুর্থবার ফাইনাল খেলছে টি-২০ বিশ্বকাপে। ২০০৭ ও ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ২০১৪ সালে রানার্সআপ হয়। সূর্যকুমারদের সামনে প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের হাতছানি দিচ্ছে আজকের ফাইনাল। এর আগে কোনো দল টানা শিরোপা জেতেনি ২০ ওভারের বিশ্বকাপে। শুধু তাই নয়, এখন পর্যন্ত কোনো স্বাগতিক দেশ শিরোপা জিততে পারেনি। অনেক ইতিহাসের হাতছানির ফাইনাল আজ সূর্যকুমার ও সান্টনারদের। ফাইনালে ওঠার পর প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বলেন সেঞ্চুরিম্যান ফিন অ্যালেন, ‘ফাইনালে আমরা সাধারণ ক্রিকেট খেলার চেষ্টাই করব। সন্দেহ নেই, ফাইনাল চ্যালেঞ্জিং হবে। পরিস্থিতি বুঝে খেলার চেষ্টা করতে হবে আমাদের। ভারত ভালো দল। ওদের পরিকল্পনা খানিকটা হলেও আঁচ করতে পারি আমরা। আশা করব ভালো কিছুই হবে।’ ভারতকে ফাইনালে তোলার নায়ক সাঞ্জু স্যামসন বলেন, ‘ফাইনাল খেলব। অনেক বড় ম্যাচ। তবে অন্য সাধারণ ম্যাচগুলোর মতো খেলব। ঘরের মাঠে ভালো খেলতে আমরা প্রস্তুত।’
টি-২০ ফরম্যাটে দুই ফাইনালিস্ট পরস্পরের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে ৩০ বার। ভারতের জয় ১৬ ও নিউজিল্যান্ডের জয় ১১। টাই তিন ম্যাচ। দুটি টাই ম্যাচ জিতেছিল ভারত ও একটিতে খেলা হয়নি। নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিয়ে। একপেশে সেমিফাইনালে ‘আন্ডারডগ’ হয়ে মিচেল সান্টনারের নিউজিল্যান্ড ৪৩ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটে হারিয়েছে এইডেন মার্করামের দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ম্যাচটি এতটাই একতরফা ছিল যে, ১৭০ রানের টার্গেটে কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেন টি-২০ বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। তিনি ৩৩ বলে ১০ ও ৮ ছক্কায় ১০০ রান করেন। শুধু অ্যালেন নন, ব্ল্যাক ক্যাপস স্কোয়াডে ছন্দে রয়েছেন রাচিন রবীন্দ্র, টিম সেইফার্ট, গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চ্যাপম্যান, ড্যারেল মিচেল, জিমি নিশাম, ম্যাট হেনরিরা। অথচ গ্রুপ পর্বে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১৭৫ রান করেও ৭ উইকেটে হেরেছিল কিউইরা।
ভারত ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ৭ রানের জয়ে। সূর্যকুমার বাহিনী ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করে। ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন। ছন্দ হারায় একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন স্যামসন। কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জীবনবাজির ম্যাচে ৫০ বলে ৯৭ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন। সেই ধারাবাহিকতায় সেমিফাইনালে খেলেন ৪২ বলে ৮৯ রানের আলো ঝকমকে ইনিংস। দলের অন্যতম ভরসা অভিষেক শর্মা ফের ব্যর্থ হয়েছেন। অবশ্য তার ব্যর্থতা পুষিয়ে নিচ্ছেন অপরাপর ব্যাটাররা। দারুণ খেলছেন ইশান কিষান, শিভাম দুভে, সূর্যকুমার দিলক ভার্মা, পান্ডিয়ারা। ২৫৪ রানের টার্গেটে ইংল্যান্ড ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪৬ রান করে। দলটির পক্ষে জ্যাকব বেথেল ৪৮ বলে ১০৫ রান করেন। ভারতের বোলিংয়ের মূল ভরসা জশপ্রীত বুমরাহ। দারুণ বোলিং করেছেন।
দুই দলের পারস্পরিক লড়াইয়ে ভারতের জয়ের সংখ্যা বেশি। কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের সাফল্য শতভাগ। দুই দল এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছে। সবই জিতেছে নিউজিল্যান্ড। ২০০৭ সালে প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। অথচ ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে ১০ রানে হেরেছিল ব্লু ব্রিগেডরা। ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে ৪৭ রানে জয় পায় নিউজিল্যান্ড। ২০২১ সালে ভারতকে ৮ উইকেটে হারায় নিউজিল্যান্ড। ওই আসরে কিউইরা ফাইনাল খেললেও রানার্সআপ হয়েছিল। এবার নিউজিল্যান্ডের সামনে হাতছানি প্রথমবার শিরোপা জয়ের। ভারতের সামনে তৃতীয়বার শিরোপা জয়ের হাতছানি।