রোম যখন পুড়ছে নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডানেরও বেলায় কি তাই ঘটছে? দল যখন লিগে একের পর ম্যাচ হেরে নাজুক অবস্থায়। তখন কর্মকর্তারা নির্বাচন ঘিরে মহোৎসবে মেতেছেন। দলের যে করুণ হাল সেদিকে কোনো নজর নেই। অথচ এ মোহামেডানই কি না গতবার দুর্দান্ত খেলে পেশাদার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ক্লাবের নির্বাচনটা এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা। সভাপতিসহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবাই নির্বাচিত হয়ে গেছেন। বলা হচ্ছে, এ কমিটির মধ্যে সেই নতুন কমিটি ঠিক হওয়ার পরই মোহামেডানের হার। এ কিসের আলামত, সামনের দিনগুলো কেমন কাটবে সেটায় কি তার নমুনা?
পেশাদার লিগে মোহামেডান এবার শুরুটা করেছিল ফর্টিস এফসির কাছে হেরে। দ্বিতীয় লেগেও একই ঘটনা ঘটল। গতকাল নিজ ভেন্যু কুমিল্লা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে সাদা-কালোরা ১-২ গোলে হেরে যায়। এ জয়ে ফর্টিসের নতুন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা আরও মজবুত হলো। তারা এখন ১০ ম্যাচে বসুন্ধরা কিংসের সমান ২১ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে থাকল। গাম্বিয়ান ফুটবলার এসা জ্যাম্বো ২২ মিনিটে গোল করে ফর্টিসকে এগিয়ে রাখেন। ৫২ মিনিটে তিনি আবারও গোল করেন। ১২ মিনিট পর মোজাফফরভ পেনাল্টি থেকে মোহামেডানের একটি গোল শোধ করেন। সমান ম্যাচে আবাহনী ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। শেষ পর্যন্ত এই তিন দলের শিরোপা রেসে টিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে শিরোপা তো দূরের কথা রেলিগেশনের ফাঁদে পড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না মোহামেডানের। ১০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১০। অর্থাৎ ২০ পয়েন্ট এখনই নষ্ট করেছে। লিগে এটি ছিল মোহামেডানের চতুর্থ হার। কেন জানি মোহামেডানের এ হার নিয়ে নানা গুঞ্জনও তৈরি হয়েছে। যাক যেটাই হক ফর্টিস নতুন চ্যাম্পিয়নের সম্ভাবনাকে ভালোভাবে জাগিয়ে রাখল। এটি তাদের ষষ্ঠ জয় ছিল। ১৪ মার্চ ফর্টিস ও বসুন্ধরা কিংস গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে।