আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে বাংলাদেশকে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ আটে থাকতে হবে। আইসিসির সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন ১০ নম্বরে। আট নম্বরে জায়গা নিতে বাংলাদেশকে পরের আসরগুলোতে ভালো করতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় ফিল সিমন্সের বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবার ঘরের মাটিতে মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তানের। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখন বাংলাদেশে। আগামীকাল শুরু হচ্ছে সিরিজ। সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন টাইগাররা। মিরাজ বাহিনীকে কঠোর পরিশ্রম করাচ্ছেন কোচ সিমন্স, সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, মোহাম্মদ আশরাফুল, শন টেইট, জাস্টিন হেম্পরা। পাকিস্তান ২০১৫ সালের পর বাংলাদেশে এসেছে ওয়ানড সিরিজ খেলতে। এবার পঞ্চমবার ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ঢাকায় পা রেখেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ১১ বছর আগে ঘরের মাটিতে বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল পাকিস্তানকে। এবার সিরিজ জয়ের টার্গেটেই খেলবে। টাইগার হেড কোচ সিমন্স জানিয়েছেন, ১৯৯২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই আগামী বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করবে মিরাজ বাহিনী।
.jpg)
র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন ১০ নম্বরে। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে ৮ নম্বরে থাকতে হবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে এগিয়ে যাবে র্যাঙ্কিংয়ে। সিরিজটি দিয়ে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করলেও টাইগার হেড কোচ সিমন্স টার্গেট করেছেন র্যাঙ্কিং, ‘লক্ষ্য র্যাঙ্কিংয়ে ওপরের দিকে ওঠা। সেরা আটে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা। আসল বিষয় হলো, আমরা টেবিলের ওপরের দিকে যেতে চাই। বাছাইপর্বের সময় যদি আমরা সাত বা ছয়ে থাকতে পারি তবে ভালো, কিন্তু আমরা মূলত টেবিলের ওপরের দিকে যেতে চাই। তার মানে দল হিসেবে আরও ভালো ক্রিকেট খেলা।’ চলতি বছর ঘরের মাটিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে।
সুযোগ থাকার পরও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরবর্তীতে তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করে জানান, বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ক্রিকেটাররা। টি-২০ বিশ্বকাপ না খেলায় যে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন ক্রিকেটাররা, সেটা পুষিয়ে দিয়েছে বিসিবি ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ টুর্নামেন্ট’ আয়োজন করে। এ ছাড়া পাকিস্তান সিরিজকে সামনে রেখে চার দলের একটি টুর্নামেন্ট বিসিএল কাপ আয়োজন করে। একটি বাড়তি ম্যাচ খেলে প্রস্তুতি সেরে নেয়। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এসেছে একাধিক নতুন মুখ নিয়ে। এমন একটি দলের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন ক্রিকেটার, কোচ ও ক্রিকেটপ্রেমীরা। যদিও কাজটি কঠিন। কেননা পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, দুই দলের লড়াইয়ের সিংহভাগ জয়ই পাকিস্তানের। দুই দল এখন পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছে ৩৯টি। পাকিস্তানের ৩৪ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেরে জয় পাঁচটি। যার চারটিই টানা। ২০১৫ সালে মিরপুরে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে। জয়গুলো ছিল যথাক্রমে ৭৯ রান, ৭ ও ৮ উইকেটে। ২০১৮ সালে আবুধাবিতে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ৩৭ রানে হারিয়েছিল পাকিস্তানকে। দেশটির বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম জয় পেয়েছিল ১৯৯৯ সালে নর্দাম্পটনে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৬২ রানে। ১১ বছর আগে ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার আত্মতৃপ্তি নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এবারও একই ব্যবধানে জয়ের প্রত্যাশা থাকলেও সিরিজটি কঠিন হবে বলেন সিমন্স, ‘পাকিস্তান এবারও নিশ্চয়ই ৩-০ ব্যবধানে হারতে চাইবে না। তারা এ সিরিজে খুব শক্তভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করবে। আরেকটি বিষয় হলো এ সিরিজের উইকেট অনেক ভালো হবে। তাই আমরা এ সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি। এ সিরিজটি দিয়েই ২০২৭ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হবে আমাদের।’
পাকিস্তান খেলতে আসছে বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, ফখর জামানদের মতো তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে। স্কোয়াডের ছয় ক্রিকেটারের এখনো ওয়ানডে অভিষেক হয়নি। এমন একটি দল শক্তিমত্তায় পিছিয়ে থাকবে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু টাইগার কোচ পাকিস্তানকে খর্ব শক্তির দল ভাবতে নারাজ, ‘পাকিস্তান থেকে উঠে আসা কোনো ক্রিকেটারকেই খাটো করে দেখা যাবে না, কারণ সেখানে সবসময়ই প্রতিভা থাকে। আর কেউ যখন স্কোয়াডে চলে আসে তখন নতুন হওয়া কোনো বড় বিষয় নয়। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেই দলে আসে।’ গত অক্টোবরের পর ওয়ানডে ফরম্যাটে ফিরছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান সিরিজে ফিরেছেন লিটন দাস। সাদা বলের ম্যাচে বরাবরই ওপেন করেন লিটন। পাকিস্তানের বিপক্ষে স্পিন অ্যাটাক সামলাতে মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করবেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ তিনটি অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরে।