নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলেছে এবং রানরেটে সুপার এইট থেকে বিদায় নেয় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অংশগ্রহণের আগে অনেক নাটক মঞ্চস্থ করেছে দেশটি। টি-২০ বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর নতুন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে পাকিস্তান। দীর্ঘ ১১ বছর পর ঢাকায় এসেছে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে ক্রিকেট খেলতে। এসেছে ছয় নতুন ক্রিকেটার নিয়ে, যারা অভিষেকের অপেক্ষায়। বাংলাদেশের মাটিতে খেলা। খর্বশক্তির দল। তারপরও নিজের দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি, ‘আমরা প্রস্তুত। নিজেদের খেলা খেলব। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করব।’ সিরিজের ম্যাচ তিনটি মিরপুর স্টেডিয়ামে আজ এবং ১৩ ও ১৫ মার্চ। খেলাগুলো শুরু হবে বেলা সোয়া ২টায়।
গতকাল অনুশীলনে এসে অধিনায়ক আফ্রিদি কোচ মাইক হেসনকে নিয়ে ছুটে যান উইকেট দেখতে। খুটিয়ে খুটিয়ে উইকেট দেখেন। উইকেটের আচরণ সম্পর্কে জানতে চান কিউরেটর টনি হেমিংসের কাছে। উইকেটে হালকা ঘাস দেখে সন্তুষ্ট মনে হয়েছে পাকিস্তান অধিনায়ককে। গত অক্টোবরে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচে দুই দলই স্পিনার ব্যবহার করেছে পুরো ম্যাচজুড়ে। এবারও কি স্পিনাররাই প্রাধান্য পাবেন? স্পিনারদের বিষয়টি মাথায় রেখে পাকিস্তান অধিনায়ক আফ্রিদি বলেন, ‘পাকিস্তান দল সবসময়ই ফাস্ট বোলিংয়ের জন্য পরিচিত। আমি অবশ্যই ফাস্ট বোলিংয়ের ওপরই নির্ভর করব এবং নিশ্চিত করব যে ফাস্ট বোলাররা উইকেট নেবে। তবে স্পিনাররাও ম্যাচে অবদান রাখবে।’
বাংলাদেশ স্কোয়াডে বেশ কয়েকজন স্পিনার রয়েছেন। অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ছাড়াও লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন, বাঁ-হাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম রয়েছেন। এটা মাথায় রেখেই পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের ব্যাটসম্যানরা রিশাদকে খুব ভালোভাবেই চেনে। সম্প্রতি টি-২০তে তার বিপক্ষে খেলেছে এবং পিএসএলেও খেলেছে। তাই আমাদের ব্যাটারদের জন্য খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা নয় রিশাদকে সামলানো।’ দেশটির সেরা ক্রিকেটার বাবর আজম। তাকে রেখেই সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। অথচ গত এক বছরে পাকিস্তানের পক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন। তাকে রেখে আসার কারণ সম্পর্কে আফ্রিদি বলেন, ‘এই সিরিজের জন্য কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। আমরা শুধু তরুণদের সুযোগ দিতে চাই, কারণ তারাও আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা তাদের সুযোগ দেব।’ সময় এলে তারা নিজেদের ভূমিকা বুঝবে এবং ভবিষ্যতে কে আসছে তাও জানতে পারবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপের জন্য দলকে প্রস্তুত করা।’