বাংলাদেশ ইনিংসের ৩৩তম ওভারের শেষ বল। সালমান আলি আগার ছোড়া বল ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেললেন তানজিদ হাসান তামিম। লং অফের ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দিলেন সীমানার বাইরে। আম্পায়ার দুই হাত উঁচিয়ে ছক্কা দিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিলেন তানজিদ। সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সেজদা করলেন। উইকেটে থাকা সতীর্থ লিটন দাসকে বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের এটিই প্রথম সেঞ্চুরি তানজিদের। এ আনন্দ নিঃসন্দেহে আলাদা। উদ্যাপনটাও তাই আলাদা হয়েই থাকল।
তানজিদ হাসান তামিমের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে। সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ২০২৪ সালের মার্চে ৮১ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এতদিন এটাই ছিল ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন তানজিদ। খেললেন ১০৭ বলে ১০৭ রানের দারুণ এক ইনিংস। পাকিস্তানি বোলারদের ওপর গতকাল চড়াও হয়ে খেলেছেন তানজিদ। ৬টি চারের পাশাপাশি তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৭টি। স্ট্রাইকরেট ধরে রেখেছেন ১০০-তে।
ক্যারিয়ারে বড় ইনিংস কম থাকলেও তানজিদ স্ট্রাইকরেট বরাবরই রেখেছেন ১০০-এর ওপরে। টি-২০ এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলে দিনে দিনে আস্থাভাজন হয়েছেন তানজিদ। তবে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করার জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হলো তাকে। গতকাল ৩০ নম্বর ইনিংস খেললেন এ ওপেনার। আগের ২৯টি ইনিংসে ৫টি হাফ সেঞ্চুরি ছিল। এবার সেঞ্চুরির অভাবও দূর হলো। তানজিদের সেঞ্চুরিটাই বাংলাদেশকে বড় স্কোরের ভিত্তি এনে দেয়। তবে বাকি ব্যাটাররা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারলে স্কোরটা অনেক বড় হতে পারত। সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাসরা নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। সাইফ ওপেনিংয়ে নেমে ৫৫ বলে ৩৬ রান করে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হন। শান্ত ৩৪ বলে ২৭ রান করে হারিস রউফের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। লিটন দাস রউফের বলে গাজী ঘোরিকে ক্যাচ দিয়ে উইকেট ছাড়েন। তিনি ৫১ বলে ৪১ রান করেছেন। রিশাদ হোসেনও রউফের শিকারে পরিণত হন (শূন্য রানে বোল্ড)। তাওহিদ হৃদয় ৪৪ বলে ৪৮ রান করে শেষদিকে রানের গতি বাড়ান। বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রান সংগ্রহ করে।
তানজিদ হাসান ওয়ানডে ক্যারিয়ারে গতকালের আগে ৫টি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। এ পাঁচ ম্যাচের দুটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০২৪ সালে ৮৪ রান করে দলকে জিতিয়েছেন তানজিদ। সদ্য শেষ হওয়া পাকিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৬৭ রান করে জয় উপহার দেন তিনি। তবে তার তিনটি হাফ সেঞ্চুরির ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে যায়। ভারতের বিপক্ষে ২০২৩ সালে ৫১ রান করেও দলকে জেতাতে পারেননি তানজিদ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬০ রানের ইনিংস খেলেও হেরে যান। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬২ রানের ইনিংস খেলেও বাংলাদেশকে জয় উপহার দিতে পারেননি তানজিদ। তবে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ এক জয় উপহার দিলেন এই ওপেনার।