বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন হাভিয়ের কাবরেরা। সঙ্গে ছিলেন কোচিং স্টাফ হাসান আল মামুন। তখনই মনে হয়েছিল এ ম্যাচ দেখে জাতীয় ফুটবল দলের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করবেন হেড কোচ। ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তার আগে ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। দুই ম্যাচ সামনে রেখে কোচ ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন। এতে কোনো চমক নেই বললে চলে। ব্রাদার্স ইউনিয়নের ২৩ বছর বয়সি গোলরক্ষক ইসহাক আকন্দই এ স্কোয়াডে একমাত্র নতুন মুখ। ইনজুরি কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেছেন বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভুটানের বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলেন তিনি। মনজুর রহমান মানিক, ঈসা ফয়সাল, তরুণ স্ট্রাইকার মিরাজুল ইসলাম, অভিজ্ঞ রফিকুল ইসলাম ও সুমন রেজাকেও আবার ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে।
ভারতের বিপক্ষে নিষেধাজ্ঞা থাকা ইতালি প্রবাসী ফাহমিদুল ইসলামও স্কোয়াডে আছেন। ধারণা করা হয়েছিল কিংসের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোকে ডাকা হবে। কিন্তু হয়নি, পারফরম্যান্স প্রদর্শন করার পরও কেন তাঁকে প্রাথমিক স্কোয়াডে রাখা হলো না সেটিই প্রশ্ন। কার্ড থাকার কারণে উইঙ্গার রাকিবুল হাসান ও ডিফেন্ডার তপু বর্মণকে স্বাভাবিকভাবে দলে ডাকা হয়নি। ইংল্যান্ড প্রবাসী কিউবা মিচেলও বাদ পড়েছেন।
বাংলাদেশের প্রাণভোমরা হামজা দেওয়ান চৌধুরীকে স্কোয়াডে রাখা হয়নি। তবে ২২ মার্চ ভিয়েতনামে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২৬ মার্চ ভিয়েতনামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। সেখান থেকেই সিঙ্গাপুরে উড়ে যাওয়ার কথা। ১৬ থেকে ১৯ মার্চ ঢাকায় ক্যাম্প করার পর ২০ মার্চ ভিয়েতনামের উদ্দেশে রওনা দেবে বাংলাদেশ। প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে কাবরেরার এটিই শেষ দল ঘোষণা কি না। ৩১ মার্চ হতে পারে তাঁর শেষ দায়িত্ব পালন। অবশ্য এ নিয়ে বাফুফের ন্যাশনাল টিম কমিটি পরিষ্কার করে কিছু বলছেন না। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। জানা গেছে, কাবরেরাকে নিয়ে বাফুফে বিভক্ত। একপক্ষ তাঁকে বিদায় করতে চান। আরেক পক্ষ চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে চান। যদি সিঙ্গাপুরকে হারাতে পারে তাঁকে বিদায় করাটা কঠিনই হবে। কাবরেরার প্রশিক্ষণেই দীর্ঘ ২২ বছর পর ভারতকে হারায় বাংলাদেশ।
প্রাথমিক স্কোয়াড :
গোলরক্ষক : মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান, ইসহাক আকন্দ।
ডিফেন্ডার : তারিক কাজী, রহমত মিয়া, শাকিল আহাদ, আবদুল্লাহ ওমর, শাকিল হোসেন, জায়ান আহমেদ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, মনজরুর রহমান মানিক, ঈসা ফয়সাল।
মধ্য মাঠ : কাজেম শাহ, শেখ মোরসালিন, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, মো. সোহেল রানা, মোহাম্মদ হৃদয়, সামিত সোম।
ফরোয়ার্ড : আরমান ফয়সাল, ইমন শাহরিয়ার, ফয়সাল আহমেদ, ফাহমিদুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও সুমন রেজা।