পরিচিত পরিবেশ, পরিচিত উইকেট। তারপরও খর্বশক্তির নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে পারল না বাংলাদেশ। ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের খেসারত গুনেছে ২৬ রানে হেরে। এই হারে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে টাইগাররা। সিরিজে ফিরতে আগামীকাল দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। পারবে কি মিরাজ বাহিনী? কঠিন প্রশ্ন। সহজ উত্তর। সাইফ হাসান, তানজিদ তামিম, নাজমুল শান্ত, লিটন দাস, আফিফ হোসেনদের মেলে ধরতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে। কঠিন বিপর্যয় সামলে বড় জুটি গড়তে হবে। তাহলেই জয় সম্ভব। অবশ্য টাইগার ব্যাটারদের মিরপুরের দুর্বোধ্য উইকেটে মানিয়ে ব্যাটিং করতে হবে। প্রথম ওয়ানডে হারের পর ওপেনার সাইফ জানিয়েছেন, ‘উইকেটে মানিয়ে নিতে হবে ব্যাটারদের’। অথচ মিরপুরের এমন ধীরগতির উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে টাইগার ব্যাটারদের। সিরিজ শুরুর আগে কোচ ফিল সিমন্স ও অধিনায়ক মিরাজ ট্রু উইকেট চেয়েছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের সিরিজে স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হয়েছিল। সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও সিরিজ জয়ের টার্গেটে স্পোর্টিং উইকেট চেয়েছিলেন টিম ম্যানেজমেন্ট। উইকেট একটু ভিন্ন ধাঁচের হওয়ায় কিউই ধীরগতির বোলিংয়ে ভেঙে পড়েছে মিরাজ বাহিনীর ব্যাটিং।
মিরপুর স্টেডিয়ামে বসে দলের হার দেখেছেন বিসিবি প্রধান তামিম ইকবাল। ম্যাচ শেষে বিসিবি প্রধান কথা বলেন টাইগার অধিনায়কের সঙ্গে। সেই আলোচনায় নিশ্চিত করেই ব্যাটিং পারফরম্যান্স ছাড়াও উইকেট ছিল। গতকাল বিসিবি সভাপতি পূর্বাচল ক্রিকেট মাঠ দেখতে যান। একই সময় পূর্বাচল পরিদর্শনে যান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। পূর্বাচলে একটি নিজস্ব ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা করেছিল নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বোর্ড। ফারুক আহমেদ দায়িত্ব নিয়ে পাপনের পরিকল্পনা বাতিল করেন। এরপর আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপতি হন ফারুককে সরিয়ে। বুলবুল দায়িত্ব নিয়ে ফের বাতিল করেন ফারুকের পূর্বাচলের পরিকল্পনা। তামিম দায়িত্ব পাওয়ার পর গতকাল পরিদর্শন করেন পূর্বাচল। সে সময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। বুলবুলের নকশা পুরোপুরি বাতিল না করে কিছু পরিবর্তনের চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ২০২৭ সালের এশিয়া ও বিশ্বকাপ এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই পূর্বাচল ক্রিকেট মাঠের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা বিসিবি সভাপতি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সিনিয়র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা পুরো বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন এবং আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করছি। আমরা আশা করছি, ২০২৭ সালের এশিয়া কাপ এবং ২০৩১ সালের বিশ্বকাপ, যেখানে কো-হোস্ট হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেটি মাথায় রেখে প্রথম ধাপে ক্রিকেট বোর্ডই কার্যক্রম শুরু করবে।’ তিনি জানান, কোনোরকমের বিভ্রান্তি যাতে না থাকে সেজন্য পরিকল্পিতভাবেই কাজ করা হবে। মিরপুরের উইকেটে প্রথম ওয়ানডেতে বল ঘুরেছে যথেষ্ট পরিমাণে। আন ইভেন বাউন্সও ছিল। উইকেটের আচরণে পরিবর্তন আনার জন্য বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটি বারংবার জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, মিরপুরের উইকেটে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছেন বিসিবি সভাপতি। উইকেটের আচরণ বদলাতে প্রয়োজনে মুম্বাইয়ের উইকেটের মাটি ব্যবহার করতেও সম্মত বিসিবি সভাপতি।
মিরপুরের উইকেটে মানিয়ে যিনিই ব্যাটিং করেছেন, তিনিই সাফল্য পেয়েছেন। প্রথম ওয়ানডের ম্যাচসেরা ডিন ফক্সক্রফট বলেন, ‘মিরপুরের উইকেটে মানিয়ে নিয়ে ব্যাটিং করেই সাফল্য পেয়েছি। উইকেট ততটা কঠিন ছিল না। শুধু মানিয়ে নিয়ে ব্যাটিং করেই সাফল্য পেয়েছি।’ ফক্সক্রফট ৫৯ রানের পাশাপাশি ১ উইকেটও নেন। তিনি স্পিনের ভেলকিতে লিটনকে বোল্ড করেন। ক্যারিয়ারের ৯৯ নম্বর ম্যাচে বোল্ড হয়ে অবাক হয়ে লিটন তাকিয়েছিলেন অনেকক্ষণ। মিরপুরের ধীরগতির উইকেটে রানের দেখা পাননি নাজমুল শান্ত। নাথান স্মিথের সুইংয়ে বোল্ড হন। টানা ১৮ ম্যাচে তিনি হাফ সেঞ্চুরিবিহীন। উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি তানজিদ তামিম, অধিনায়ক মিরাজ, আফিফ হোসেন। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ফের আলোচনায় উঠে এসেছে মিরপুরের উইকেট।