৭৮ বছরের ইতিহাসে ঘরোয়া ফুটবলে এমন এক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে, যা কখনো হয়নি। আর সেই রেকর্ডের ভাগিদার হবে বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা মোহামেডান। ১৯ মে দুই বড় দল কিংস অ্যারিনায় ফেডারেশন কাপ ফাইনালে লড়বে। চলতি মৌসুমে এটি হবে তাদের পঞ্চম দেখা। এবারে চ্যালেঞ্জ কাপ ফাইনাল, লিগে দুই, ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্বে একবার মুখোমুখি হয়েছিল কিংস ও মোহামেডান। মঙ্গলবার তারা এক মৌসুমে পঞ্চমবার লড়বে। ১৯৪৮ সালে ঘরোয়া ফুটবলে পর্দা ওঠার পর কখনো কেউ একে অপরের বিপক্ষে পাঁচবার লড়েনি।
ঘরোয়া ফুটবলে দ্বিতীয় জনপ্রিয় আসর এবারের ফেডারেশন কাপে বসুন্ধরা কিংস আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৪-০ গোলে হারিয়ে। অপেক্ষায় ছিল শিরোপা লড়াইয়ে কারা হবে তাদের প্রতিপক্ষ। সেটার অবসানও ঘটল। কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অলিখিত সেমিফাইনালে মোহামেডান ২-১ গোলে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়ে আসরে ১৭ বার ফাইনাল খেলবে তারা। অর্থাৎ ফাইনালে মোহামেডানকে পেল কিংস। এর আগে ২০২৩-২৪ মৌসুমে একই আসরে ফাইনাল খেলেছিল দুই দল।
চ্যালেঞ্জ কাপে কিংসের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি মোহামেডান। গতবার পেশাদার লিগে চ্যাম্পিয়ন হলেও এবার শিরোপার লড়াই থেকে আগেই ছিটকে গেছে। চ্যাম্পিয়নের ট্রফি জেতার শেষ সম্ভাবনা হিসেবে এখন ফেডারেশন কাপই মোহামেডানের ভরসা। হেড কোচের দায়িত্ব থেকে আলফাজ আহমেদকে অব্যাহতি দেওয়ার পর সেন্টুর প্রশিক্ষণে মোহামেডান যেন চেনা রূপে ফিরেছে। লিগের শেষের দিকে এসে যেমন জয় পাচ্ছে। তেমনিভাবে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল তারা। তবে গতকাল কুমিল্লায় কে যে জিতবে তা বলা যাচ্ছিল না। শক্তির দিক দুই দল ছিল সমান। শেষ পর্যন্ত জয়ে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মোহামেডানই।
মৌসুমের শেষের দিকে এসে মোহামেডানের জ্বলে ওঠার পেছনে তিন ফুটবলারকে আলাদাভাবে কৃতিত্ব দেওয়া যায়। উজবেকিস্তানের মোজাফরভ, সৌরভ দেওয়ান ও জুয়েল মিয়া বড্ড গতিময় খেলা খেলছেন। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ তিনজনই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। সৌরভের চোখে ধরে রাখা জোড়া গোলে মোহামেডান জয় পেয়েছে। অন্যদিকে যারা ছিলেন ব্রাদার্সের ভরসা সেই পাকিস্তানিরা ম্লান থাকায় দলের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়েছেন। ম্যাচের শুরুর দিকে দুই দল সতর্ক হয়ে খেলছিল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মোহামেডান আক্রমণ চালানো শুরু করে। তবে গোল করার মতো তা যথেষ্ট ছিল না। ৩৮ মিনিটে সাদা-কালোর শিবির কেঁপে ওঠে।
সৌরভ সুগন্ধি ছড়িয়ে মোহামেডানকে এগিয়ে রাখেন। রহমত মিয়ার লম্বা থ্রৌ থেকে বক্সে থাকা এলিকেকে মাথা ছুঁয়ে বল বাড়িয়ে দেন, সেখান থেকেই পাল্টা হেডে জাল কাঁপান সৌরভ।
বিরতির পর গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাদার্স। ৭৪ মিনিটে তাদের অপেক্ষার অবসান ঘটে। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার দুর্দান্ত এক ফ্রি কিক মোহামেডানের গোল রক্ষক সুজনকে পরাস্ত করলে খেলা ১-১-এ দাঁড়ায়। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে খেলা যখন শেষ হতে চলেছিল। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে। তখনই আবারও দারুণভাবে জালে বল পাঠান সৌরভ। মোজাফরভের কর্নার থেকে বল পেয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে গোল করেন তিনি। এ গোলই ১১ বারের শিরোপাজয়ী দলকে ফাইনালে নিয়ে যান তিনি। টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিকসহ সৌরভের গোল এখন ছয়।